13/04/2026
বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের সিংহভাগ সময়, মেধা এবং শক্তি ব্যয় হয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে। দেশের ভেতরে একে অপরের পতন ঘটাতে তারা যতটা তৎপর, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান শক্ত করার বিষয়ে তাদের ততটা মনোযোগ বা সময় থাকে না। বৈশ্বিক রাজনীতি অনেকটা দাবা খেলার মতো, যেখানে দশ-বিশ বছর পরের চাল আগে থেকে হিসাব করতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অত্যন্ত তাৎক্ষণিক লাভ-ক্ষতির ওপর নির্ভরশীল।
আগামী নির্বাচনের পর কী হবে, সেটার বাইরে গিয়ে আগামী ৫০ বছরে বিশ্বে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান কী হবে—তা নিয়ে ভাবার মতো রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ব্যাপক অভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে হলে শক্তিশালী অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানি, রেমিট্যান্স এবং উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতার কারণে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর চোখের দিকে তাকিয়ে সমান্তরালভাবে কথা বলার সাহস বা সুযোগ আমাদের রাজনীতিবিদদের কম থাকে।
উন্নত দেশগুলোতে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হয় শক্তিশালী 'থিংক-ট্যাংক', বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, সাবেক কূটনীতিক এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্মিলিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে। সেখানে সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের মূল পররাষ্ট্রনীতি খুব একটা বদলায় না। কিন্তু বাংলাদেশে পররাষ্ট্রনীতি অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার অভাবে বৈশ্বিক সমীকরণগুলো গভীরভাবে বোঝার ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যায়। বৈশ্বিক রাজনীতি চলে নিরেট স্বার্থ ও বাস্তববাদের ওপর ভিত্তি করে, এখানে আবেগের কোনো স্থান নেই।
কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিতে অনেক সময় আবেগ, জনতুষ্টিবাদ এবং ঐতিহাসিক সেন্টিমেন্টকে পুঁজি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে আমাদের পিছিয়ে দেয়। বাংলাদেশ এমন একটি ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে যেখানে ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিগুলোর বহুমুখী স্বার্থ জড়িত। এই বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক খেলার মাঠে নিজেদের স্বার্থ আদায় করে নেওয়ার মতো যে প্রবল চাতুর্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা প্রয়োজন, সেখানে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায়শই খেই হারিয়ে ফেলেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বৈশ্বিক রাজনীতির বিশাল ও জটিল মহাসাগরে টিকে থাকার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, গভীর জ্ঞান এবং জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন, তার অভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক সময় নিষ্প্রভ বা শিশুতোষ মনে হয়।
এই জ্ঞানের অভাবের মূল কারণগুলোর মধ্যে অধ্যয়ন ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অভাব অন্যতম। বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি, ইতিহাস এবং ভূ-রাজনীতি নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা বা অধ্যয়নের সংস্কৃতি আমাদের মূলধারার রাজনীতিতে প্রায় অনুপস্থিত। একজন রাজনীতিবিদের পড়ার টেবিলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা অর্থনীতির গভীর বিশ্লেষণমূলক বইয়ের চেয়ে দলীয় প্রচারণাপত্রই বেশি থাকে। নেতারা অনেক ক্ষেত্রেই জ্ঞানী, গবেষক বা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার বদলে নিজেদের চারপাশে এমন মানুষদের পরিবেষ্টিত রাখেন, যারা কেবল তাদের হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলায়। ফলে তারা সঠিক ও বাস্তবসম্মত তথ্য বা গঠনমূলক সমালোচনা থেকে বঞ্চিত হন। বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ু কূটনীতি এবং জটিল বাণিজ্য চুক্তির মতো বিষয়গুলো নিয়ে এগোচ্ছে। এসব আধুনিক ও যুগান্তকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাবে আন্তর্জাতিক টেবিলে আমাদের নেতারা প্রায়শই প্রাসঙ্গিক আলোচনা করতে ব্যর্থ হন।
এই হীনম্মন্যতা সৃষ্টির পেছনের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যখন কোনো রাজনৈতিক শক্তি দেশের জনগণের ম্যান্ডেট বা মজবুত সমর্থনের চেয়ে ক্ষমতায় আসা বা টিকে থাকার জন্য বিদেশি রাষ্ট্র বা দূতাবাসের আশীর্বাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের সামনে মেরুদণ্ড সোজা করে কথা বলার সাহস হারিয়ে যায়। আমাদের সমাজে এবং রাজনীতিতে এখনও এক ধরনের উপনিবেশিক মানসিকতা কাজ করে, যেখানে ধরে নেওয়া হয় বিদেশিরা বা পরাশক্তিরা যা বলে সেটাই হয়তো সঠিক। নিজেদের মেধা, সক্ষমতা ও যুক্তির ওপর আস্থার অভাব থেকেই এই মানসিকতার সৃষ্টি।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাবলীলভাবে এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে নিজস্ব যুক্তি বা দাবি তুলে ধরার মতো দক্ষতায় অনেকেরই ঘাটতি রয়েছে। এই যোগাযোগের দুর্বলতা অনেক সময় তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়, যা হীনম্মন্যতা হিসেবে প্রকাশ পায়। যে নেতার রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শের ভিত্তি মজবুত, তিনি যেকোনো পরাশক্তির সামনেই অবিচল থাকতে পারেন। কিন্তু রাজনীতি যখন কেবলই ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ ও সম্পদ অর্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন সেই নেতাদের পক্ষে জাতীয় স্বার্থে বিশ্বমঞ্চে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া সম্ভব হয় না। জ্ঞানের গভীরতা না থাকলে যেমন আত্মবিশ্বাস আসে না, তেমনি আত্মবিশ্বাসের অভাবে বড় পরিসরে ভাবার বা জানার স্পৃহাও তৈরি হয় না—এটি একটি দুষ্টচক্র।
এই দুষ্টচক্র ভাঙতে এবং জাতীয় বিবেকের পাহারাদার হিসেবে অধ্যাপকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দলীয় বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একজন শিক্ষক যখন স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারেন, তখনই তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে সেই মুক্তচিন্তার বীজ বপন করতে সক্ষম হন। সমাজের অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষকরা যদি সোচ্চার না হন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে কোনো আশার আলো থাকে না। তাদের নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গিই প্রকৃত মেধা ও মননশীলতা তৈরিতে কাজ করে।
এক্ষেত্রে শরিফ ওসমান বিন হাদির উদাহরণটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি শুধু একজন আপসহীন রাজনৈতিক ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাই ছিলেন না, তিনি নিজেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এবং পরবর্তীতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি যে অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা স্বাধীন মানসিকতার এক অনন্য উদাহরণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, একজন শিক্ষকের যখন নিজের আদর্শের প্রতি অবিচল বিশ্বাস ও ত্যাগের মানসিকতা থাকে, তখন তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষেই আবদ্ধ থাকেন না; রাজপথেও জাতির ক্রান্তিলগ্নে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পিছপা হন না। দেশের অধ্যাপকরা যদি এই ধরনের অকুতোভয় চেতনা, নির্ভেজাল দেশপ্রেম এবং স্বাধীন মানসিকতা ধারণ করে শিক্ষার আলো ছড়াতে পারেন, তবে একটি মেধাভিত্তিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠন নিশ্চিতভাবেই সম্ভব।
অন্যদিকে, ভূ-রাজনীতির সাথে আমাদের অর্থনীতির যে নিবিড় সম্পর্ক, তা হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এখানে সামান্য উত্তেজনা মানেই আন্তর্জাতিক শিপিং রুটে বিপর্যয়। যখন কোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৃহৎ গন্তব্যে নির্ধারিত সময়ে কার্গো বা মাস্টার কার্টন বোঝাই জাহাজ পাঠাতে হয়, তখন এই রুটের নিরাপত্তা তাদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। লিড টাইম ঠিক রাখা, পারচেজ অর্ডারের শর্ত রক্ষা করা এবং জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইট কস্ট বেড়ে যাওয়ার আতঙ্কেই আমাদের নীতিনির্ধারকদের দিন কাটে। অর্থাৎ, বৈশ্বিক কূটনীতির চেয়ে আমরা বৈশ্বিক লজিস্টিক্স ও সাপ্লাই চেইনের কাছে জিম্মি হয়ে আছি।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। উন্নত দেশগুলোতে দেশের ভেতরের রাজনীতি যতই তিক্ত হোক না কেন, জাতীয় স্বার্থ ও পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে সব দল একমত থাকে। আমাদের দেশেও রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত অভ্যন্তরীণ রেষারেষি দেশের সীমানার ভেতরেই রাখা। আন্তর্জাতিক ফোরামে বা বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে একে অপরের নামে নালিশ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে একটি অভিন্ন ও সুদৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করা জরুরি। ব্যক্তির আবেগ বা তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লাভের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার এবং স্বাধীন 'থিংক-ট্যাংক'গুলোকে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির পরিবর্তনগুলো বুঝতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিয়মিত ডেটা-ভিত্তিক বিশ্লেষণ করতে হবে।
যে সরকারের দেশের ভেতরে জনগণের মজবুত সমর্থন থাকে এবং যারা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে, তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিদেশি পরাশক্তির আশীর্বাদের প্রয়োজন হয় না। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভিত্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে রাজনীতিবিদরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন। যার টাকা আছে, বিশ্বে তার কথাই শোনা হয়—এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি রূঢ় সত্য। তাই বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। শুধুমাত্র তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে এবং আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা বা পূর্ব এশিয়ার মতো নতুন নতুন বৈশ্বিক বাজার খুঁজে বের করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগের বদলে দক্ষ, মেধাবী এবং পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়োগ দিতে হবে। যারা আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্য চুক্তি এবং ভূ-রাজনীতি খুব ভালোভাবে বোঝেন, তাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসার পাশাপাশি তরুণ রাজনীতিবিদদের এসব বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
বর্তমানে বিশ্বে কোনো ঘটনা ঘটার পর আমরা শুধু প্রতিক্রিয়া দেখাই, কিন্তু এর বদলে আমাদের প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে। আগামী ২০ বা ৫০ বছর পর বিশ্বে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এবং সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে—তার একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান বা কৌশলপত্র এখন থেকেই তৈরি করে সেই অনুযায়ী এগোতে হবে। সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বর্তমানে সফট পাওয়ার বা কোমল শক্তির বিকাশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ক্রীড়া, দক্ষ প্রবাসী জনশক্তি এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে আমাদের যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি আছে, সেটিকে সুকৌশলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রকে সবার আগে স্থান দিতে হবে, যা বিশ্বদরবারে আমাদের শক্ত অবস্থান ও ডাক পাওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
প্রবন্ধ লেখক: নাছির ( কিরণ )
CEO, Nasir Kiron
,