01/25/2026
একদিন যে মানুষটার সংগে
আমি রাত জেগে কথা বলতাম যার কণ্ঠ শুনে
সব কষ্ট ভুলে যেতাম—
আজ সেই মানুষটাই
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট।
আমাদের পরিচয়টা ছিল ফোনে।
ঘন্টার পর ঘন্টা কথা হতো।
ছোট ছোট স্বপ্ন,
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা,
একসাথে বুড়ো হওয়ার গল্প।
সে বলত,
“তুমি আমার শক্তি।”
আমি বিশ্বাস করেছিলাম।
পরিবার মানেনি।
সমাজ মানেনি।
অনেক কথা, অনেক অপমান
সব সহ্য করে
আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম।
আমি ভেবেছিলাম—
ভালোবাসা থাকলে
সব জয় করা যায়।
বিয়ের পর জীবন সহজ ছিল না।
কিন্তু আমরা একসাথে ছিলাম।
একসাথে হাসতাম,
একসাথে কাঁদতাম।
তারপর আল্লাহ আমাদের
দুইটা সন্তান দিলেন।
আমার দুনিয়া তখন
ওদের মুখের হাসিতে ভরা।
আমি একজন স্ত্রী ছিলাম,
একজন মা ছিলাম,
একজন সংসার আগলে রাখা নারী ছিলাম।
আমি ভাবতাম,
এটাই আমার জীবনের সাফল্য।
কিন্তু আমি জানতাম না—
একটা মানুষ
ভেতরে ভেতরে
এতটা বদলে যেতে পারে।
সে ধীরে ধীরে দূরে সরে গেল।
আগের মতো ফোন ধরত না।
কথা কমে গেল।
হাসি হারিয়ে গেল।
আমি প্রশ্ন করতাম—
সে বলত,
“কিছু না, কাজের চাপ।”
কিন্তু সত্যিটা ছিল অন্য।
তার জীবনে
আরেকজন এলো।
নতুন মুখ, নতুন আগ্রহ,
নতুন ভালোবাসা।
আর আমি?
আমি তখন
দুই সন্তানের মা,
ক্লান্ত, নিঃশব্দ, অবহেলিত।
একদিন সে খুব সহজভাবে বলল—
“আমরা আর একসাথে থাকতে পারছি না।”
আমি অবাক হইনি,
আমি ভেঙে পড়েছিলাম।
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম,
“আমাদের সন্তানরা?”
সে চুপ ছিল।
তারপর একদিন
একটা কাগজ এলো—
তালাক।
এত বছরের ভালোবাসা,
এত রাতের কথা,
এত স্বপ্ন—
সব শেষ হয়ে গেল
একটা সই দিয়ে।
আমি আজও বুঝতে পারি না—
ভালোবাসা করে বিয়ে করলে
সবচেয়ে বড় শাস্তিটা
নারীকেই কেন পেতে হয়?
আমি শুধু স্বামী হারাইনি—
আমি বিশ্বাস হারিয়েছি।
নিরাপত্তা হারিয়েছি।
একটা পরিবার হারিয়েছি।
কিন্তু জানো কী?
আমি হার মানিনি।
আমার দুইটা সন্তান
আজও আমার হাত ধরে আছে।
ওদের চোখে তাকিয়ে
আমি আবার দাঁড়িয়েছি।
এই গল্পটা
কারো বদনাম করার জন্য না।
এই গল্পটা
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।
যদি তুমি এই ভিডিওটা দেখো
আর তোমার জীবনে
একটুও মিল পাও—
তাহলে মনে রেখো,
তুমি একা নও।
তোমার কষ্ট অদৃশ্য না।
আর তুমি ভাঙা নও
তুমি শক্ত
(পরের পার্ট শুনতে চাইলে কমেন্ট করুন)