Joker gemars

Joker gemars Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Joker gemars, Restaurant, Morbi.

23/05/2024

বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে
পর্বসংখ্যা_৩
Esrat_Ety
"এই নেংটি ইঁদুর দুটিকে কোথা থেকে ধরে আনলি রে জামিল। এদের কি করবি?"
_হুস!
ঠোঁটে আঙুল চেপে আরাফকে চুপ করিয়ে দিয়ে জামিল ফিসফিসিয়ে বলে,"কথা বলিস না। ভাইয়ের মাথা খুবই গরম আছে। কানের নিচে খাবি।"
আরাফ গলার আওয়াজ জামিলের থেকেও নিচু করে বলে,"কিন্তু এরা কারা? এই ছেলে দুটোকে আঁটকে রেখেছিস কেনো?"
_সময় আসুক। বুঝতে পারবি।
"জামিল"
ফুয়াদের ডাক শুনে দৌড়ে সেখানে চলে যায় সে। ফুয়াদ সামিন ইয়াসারের পাশে বসে আছে। ইয়াসারের মুখে কোনো ভাবান্তর নেই। চুপচাপ বসে আছে সে। জামিল গিয়ে ফুয়াদকে বলে,"জ্বি ভাই বলেন।"
_হাসপাতালে ফুল নিয়ে গিয়েছিলি?
_জ্বি।
_কি হয়েছে সেখানে।
_মেয়েটা ফুলের তোড়া পায়ের নিচে ফেলে কুচলে দিয়েছে আর বলেছে সামিন ইয়াসারকে যেন বলে দেই এসব নাটক জনগণের সাথে করতে।
ফুয়াদ কথাটি শুনে সাথে সাথে সামিন ইয়াসারের দিকে তাকায়। সামিন বলে,"দেখলি! বলে ছিলাম না? আগা গোড়া তেজে ভরা। ওর তেজ আজকে ভাঙবো। আসুক একবার।"
রাহাত নামের একটি ছেলে পাশ থেকে বলে ওঠে,"হ ভাই। মেয়েটা ভীষণ জাঁদরেল। একটা কাহিনী বলি শোনেন। ওর কলেজের পাশে মঞ্জুর চায়ের দোকান আছে না? একদিন সেখানে আনোয়ারের গ্যাং কলেজ ছুটির সময় বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। তো আলো ওর বান্ধবীদের সাথে দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় আনোয়ারের দলের একটা ছেলে ব্যাড কমেন্ট করে । আলো এসে সরাসরি সেই ছেলের মুখোমুখি দাঁড়ায়। চোখে চোখ রেখে বলে,"নাম কি?"
ছেলেটা হাসতে হাসতে বলে,"নাম দিয়ে তোমার কাম কি? প্রেম করতে চাও কি?"
আলো ঠান্ডা গলায় বলে,"আমি এখন একটা ইট এনে তোর বিচি থেঁতলে দেবো। হসপিটালে এডমিট করার সময় তোর নাম জিজ্ঞেস করলে তখন কি নাম বলবো?"
রাহাত কথাটি বলে শেষ করতে পারে না ফুয়াদ,জামিল এবং অন্যরা উচ্চশব্দে হেসে ফেলে। সামিন ইয়াসার কটমট দৃষ্টি দিয়ে ফুয়াদের দিকে তাকাতেই ফুয়াদ অনেক কষ্টে হাসি বন্ধ করে। বাকিরাও নিশ্চুপ হয়ে যায়। সামিন ইয়াসার বিড়বিড় করে বলে,"আসুক আজ।"
জামিল বলে,"ভাই পোলা দুইটা অনেক কাঁদছে।"
_ধমকাধমকি করিস না। যা করার ওর বোনের সাথে করবো।
গম্ভীর কন্ঠে বলে সামিন ইয়াসার। তারপর বলে,"এখানে নিয়ে আয় দুটোকে।"
দু-তিন জন গিয়ে আজান আর আয়াতকে নিয়ে আসে। দু'জনেই ভয়ে কাঁপছে। তাদের এনে সামিন ইয়াসারের সামনে রাখা হয়। আয়াত কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,"ভাইয়া ওনাদের বলুননা আমার চশমাটা দিয়ে দিতে। চশমা ছাড়া আমার ভীষণ অসুবিধা হয়।"
সামিন ইয়াসার গম্ভীর কন্ঠে বলে,"তোমাদের আপু আসুক। সব দিয়ে দেওয়া হবে তোমাদের।"
কয়েক মুহূর্ত কাটে,আয়াতের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছুটা মায়া হয় সামিনের,জামিলকে বলে,"ওর চশমা দে।"
জামিল চশমা এনে দেয়।
রিকশা থেকে নেমে আলো চারপাশে তাকিয়ে আন্ডার কন্সট্রাকশন বিল্ডিংটা খুঁজে বের করে। বিল্ডিং টা আজান আয়াতের কোচিংয়ের ঠিক পাশেই। দ্রুত পায়ে হেঁটে সে গেইটের ভেতরে প্রবেশ করে। নিজের দিকে তাকিয়ে গায়ের ওড়নাটা ঠিক ঠাক আছে কিনা দেখে নেয়। ফোনে সব বন্ধুদের মেসেজ দিয়ে রেখেছে সে, বিপদের আভাস পেলেই একটা ফোন করবে। অসম্পূর্ণ হয়ে পরে থাকা গ্রাউন্ড ফ্লোরে উঠে সে দাঁড়িয়ে পরে, মৃদু স্বরে বলে,"আয়াত, আজান।"
আয়াত আজান আলোর কন্ঠ শুনতে পেয়ে যেন দেহে প্রান ফিরে পায়। মাথা ঘুরিয়ে আলোর কাছে একপ্রকার দৌড়ে যায়। আলো দুহাতে দুই ভাইকে আগলে নেয়। উৎকণ্ঠা নিয়ে বলে,"কি হয়েছে? কি হয়েছে তোদের?"
_আপু ওই লোকগুলো আমাদের এখানে আটকে রেখেছে।
সামিন ইয়াসারের দিকে আঙুল তুলে বলে আজান। আলো চোখ কপালে তুলে ফেলে,আজান আয়াতকে সরিয়ে দিয়ে বলে,"আটকে রেখেছে মানে!"
দ্রুত পায়ে হেঁটে আলো সামিন ইয়াসারের মুখোমুখি দাঁড়ায়। চোখে চোখ রেখে বাজখাঁই গলায় বলে,"এসব কোন ধরনের অসভ্যতামি? আমার ভাই দুটোকে আটকে রেখেছেন কেনো?"
সামিন ইয়াসার আলোর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কোনো এক অজানা কারনে সে চোখ ফেরাতে পারছে না, না পারছে আলো নামের এই বিচ্ছু মেয়েটিকে কিছু বলতে। পাশ থেকে জামিল বলে ওঠে,"ভাইয়ের সাথে চোখ নামিয়ে কথা বলুন। বেয়াদবি ভাইয়ের পছন্দ না।"
আলো একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে,"যার গালে দুদিন আগে চড় মেরেছি,এখন তার সাথে চোখ নামিয়ে কথা বলতে হবে?"
সামিন ইয়াসার রাগে অন্ধ হয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে। ইচ্ছে করছে এই পাচ ফুটের মেয়েটার চোয়াল চেপে ধরতে। অনেক কষ্টে সে ইচ্ছে টাকে দমন করেছে। আলো জামিলের দিকে তাকিয়ে বলে,"আমার ছোটো ভাই দুটোকে হেনস্থা করা হচ্ছে তাই না? আমি এক্ষুনি পুলিশ ডাকছি।"
"পুলিশ তো আমরাই ডাকতে পারি ম্যাডাম অদ্রিতা আলো। কিন্তু সেটা চাই না বলেই তোমাকে এখানে ডেকেছি।"
ফুয়াদ বলে কথাটা। আলো ফুয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,"মানে?"
_মানে তোমার এই গুণধর দুই ভাইয়ের ব্যাগে ইয়াবা পাওয়া গিয়েছে।
আলোর মনে হলো তার সামনের পৃথিবীটা নড়ে উঠেছে। কাঁপছে সবকিছু। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,"মানে।"
পাশ থেকে আজান বলে ওঠে,"আপু মিথ্যা কথা। একেবারেই মিথ্যা কথা । ওগুলো দু'টো লোক জোর করে ব্যাগে ভরে দিয়েছে আমার। বিশ্বাস করো তুমি।"
আলো একটা দম নিয়ে নেয়। বুদ্ধিমতি আলোর বুঝতে একটুও বাকি নেই ব্যাপারটা আসলে কি। সে সামিন ইয়াসারের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,"বুঝলাম। তো আপনার লোকেরা কিভাবে জানলো আমার ভাইদের ব্যাগে ইয়াবা আছে?"
জামিল বলে,"নিজেদের চোখে দেখেছি কারো সাথে আদান প্রদান করছিলো। দেখে তো মনে হচ্ছিলো না কেউ জোর করছিলো। তারপর গিয়ে ধরলাম।"
আলো সামিনের দিকেই তাকিয়ে আছে। সামিন এখনো চুপচাপ। আলো আটকে আটকে বলে,"আমার উপরে প্রতিশোধ নিতে আমার নিষ্পাপ ভাই দুটোকে ব্যবহার করলেন? আপনি কতটা জঘন্য একটা লোক।"
সামিন হঠাৎ করে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। আলো একটা গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বলে,"আমার ভাই দুটোকে ছেড়ে দিন। অনুরোধ করছি আপনার কাছে।"
_এতো সহজে না,হাতে নাতে ধরেছি। পুলিশে দেবো। আপনি থানায় গিয়ে ছাড়িয়ে আনুন।
জামিলের কথায় আলো কিছুটা ঘাবড়ে যায়। আজান আয়াতের দিকে তাকিয়ে দেখে ছেলে দুটোর চোখ ছলছল করছে। আলো কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,"তোরা একটু ওদিকে গিয়ে দাঁড়া আজান আয়াত। আমি কথা বলছি।"
দুজনে বাধ্য ছেলের মতো দূরে গিয়ে বসে থাকে। আলো সরাসরি সামিন ইয়াসারের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,"ক্ষমা চাইছি। আমার ভুল হয়েছে। আমার ভাই দু'টোকে ছেড়ে দিন।"
জামিল বলে,"এতো শুকনো কথায় তো চিড়ে ভিজবে না আপা। আপনার কারনে ভাইয়ের কতখানি সম্মান নষ্ট হয়েছে জানেন?"
_তো আমাকে আর কি করতে হবে? মাফ তো চাইলাম।
_হুস। আস্তে কথা বলেন আপা। গলায় তো আস্ত একটা মাইক নিয়ে ঘোরেন।
একজন ছেলে বলে ওঠে ইয়াসারের পেছন থেকে।
জামিল বলে,"তেমন কিছু না। শুধু ভাইয়ের পা ধরে ক্ষমা চাইতে হবে আপনাকে।"
আলো কথাটি শুনে হতভম্ব হয়ে সামিন ইয়াসারের দিকে তাকায়। ইয়াসার তার দিকে উপহাস এবং ক্ষোভের মিশ্র দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে। আলো তেজী কন্ঠে চেঁচিয়ে ওঠে,"অসম্ভব!"
_সম্ভব আপা।
আলো জামিলের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে বলে,"আমি এখান থেকে এই মুহূর্তে আমার ভাইদের নিয়ে যাচ্ছি দেখি আমাকে কে আটকায়।
কথাটি বলে ঘুরে দাঁড়ায় আলো। জামিল বলে,"তার আগে এটা দেখে নিন।"
আলোর দিকে একটা ফোন এগিয়ে দিয়ে বলে জামিল। আলো কপাল কুঁচকে ফোনটা হাতে নেয়। ছবিতে আজান আর আয়াত ইয়াবা হাতে কাঁচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ওদের দিয়ে জোর করে এসব ছবি তোলা হয়েছে। আলো দ্রুত ছবি গুলো ডিলিট করে ফেলে। জামিল হেসে বলে,"ছবিগুলো ভাইয়ের ফোনে আছে। ডিলিট করে লাভ নেই।"
আলো রেগে গিয়ে বলে,"জানোয়ারের দল। তোরা দেশের সেবা করিস? অমানুষ। ছিঃ। আজ ক্ষমতা আছে তাই করছিস,কাল তো থাকবে না! তখন?"
_আপনি ভাইয়ের পা ধরে ক্ষমা চাইবেন না তাইনা? ঠিকাছে,ভাইদের নিয়ে যান। আমরা ওদের ব্যাগ আর এই ছবিগুলো নিয়ে থানায় যাচ্ছি। ডিবি পুলিশ গিয়ে বাড়ি থেকে তুলে আনবে,পরে গিয়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনবেন,ভাইদের নামের পাশে আজীবনের জন্য ইয়াবাখোর ট্যাগ লেগে থাকবে।"
আলো কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। সামিন ইয়াসার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আলোকে দেখছে। চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি‌। এই পরিস্থিতিতে একটা মেয়ে কাঁদবে না কেনো! সামিন ইয়াসার তো আলোকে কাঁদতে দেখতে চায়, কাঁদতে কাঁদতে আলো সামিন ইয়াসারের কাছে বশ্যতা স্বীকার করবে এটাই তো চায় সামিন ইয়াসার। কয়েক মুহূর্ত কেটে যায়,আলো কন্ঠস্বর স্বাভাবিক রেখে বলে,"ঠিকাছে। আমি মাফ চাইবো। তবে দয়া করে আমার ভাইদের এখানে আনবেন না। ওরা দেখলে কষ্ট পাবে।"
জামিল বলে,"ঠিকাছে। মেয়ে মানুষ তাই অনুরোধ টা রাখলাম , এখন মাফ চান।"
আলো সামিন ইয়াসারের চোখের দিকে একবার তাকিয়ে তার পায়ের কাছে মাথা নিচু করে বসে পরে, কাঁপা কাঁপা হাত দুটো বাড়িয়ে সামিন ইয়াসারের পা ছোঁয়। ইয়াসার এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে আলোর দিকে। আলো নামের দেমাগী মেয়েটা তার পা ছুঁয়েছে অথচ তাতেও তার স্বস্তি হচ্ছে না, এই মেয়েটা ভেতরে ভেতরে যে ভাঙেনি তা ইয়াসার বুঝতে পারছে।"
"কি হলো,চুপ করে আছেন কেনো? মাফ চান!"
জামিলের কথায় আলো মাথা উঠিয়ে সামিন ইয়াসারের দিকে তাকায়,চোখে মুখে কাঠিন্যতা মেয়েটার অথচ তার ঘাবড়ে যাওয়ার কথা ছিলো। আলো ধীরে ধীরে বলে সে,"কি বলতে হবে?"
_বলুন যে, যা করেছি তার জন্য আমাকে মাফ করে দিন। আমি আমার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত, অনুতপ্ত, ব্যথিত।
আলো রোবটের মতো বলে,"যা করেছি তার জন্য আমাকে মাফ করে দিন। আমি আমার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত, অনুতপ্ত, ব্যথিত।"
জামিল বলতে থাকে,"আপনি অত্যন্ত ভালো মানুষ, আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
আলো বলে,"আপনি অত্যন্ত ভালো মানুষ,আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
_সামিন ইয়াসার জিন্দাবাদ
আলো একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে বলে,"সামিন ইয়াসার জিন্দাবাদ।"
_হু,এখন উঠুন।
আলো উঠে দাঁড়ায়। ফুয়াদ আলোর দিকে তাকিয়ে আছে,মেয়েটিকে দেখে তার এখন খানিকটা মায়া হচ্ছে।‌
জামিল বলে,"এই মাফ চাওয়ার দৃশ্যটা চাইলে ভিডিও করে নেট দুনিয়ায় ছেড়ে দিতে পারতাম। আমার ভাইয়ের ইমেজ টা ঠিকঠাক হয়ে যেতো কিন্তু তা করলাম না,মেয়ে মানুষ বলে। আপনার বাবার আপনাকে বিয়ে দিতে ঝামেলা হবে । আমাদের জননেতা সামিন ভাই আবার এই এলাকার অসহায় মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নেয়, সেখানে তার জন্য একটা মেয়ের ভবিষ্যতে বিয়ে দিতে ঝামেলা হোক,তা সে চায় না।"
আলো ইয়াসারের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। সামিন ইয়াসার এতক্ষনে নীরবতা ভেঙে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাহাতকে বলে,"ওর ভাইদের ব্যাগ দুটো দিয়ে দে।"
রাহাত দৌড়ে গিয়ে দুটো ব্যাগ এবং আজান আয়াতকে নিয়ে আসে। সামিন ইয়াসার বলে,"ছবিগুলো ওকে দিয়ে ডিলিট করা।"
জামিল সামিন ইয়াসারের ফোন আলোর হাতে দিয়ে বলে,"নিন ডিলিট করুন।"
আলো ছবিগুলো ডিলিট করে ফোন দিয়ে দেয়। তারপর আজান আয়াতের দিকে তাকিয়ে বলে,"চল।"
ওরা তিনজন ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই কদম ফেলতেই সামিন ইয়াসার বলে ওঠে,"মেয়ে মানুষের স্বভাবে সবকিছুই থাকতে হয়,তেজ ছাড়া। ওটা বাড়তি। বিপদজনক খুব।"
আলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য দাড়িয়ে পরে। কিন্তু সে ঘুরে তাকায় না। আয়াত আর আজানের হাত ধরে দ্রুত পায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে।
ফুয়াদ সামিন ইয়াসারের দিকে চায়,"হয়েছে? খুশি এবার? কিসব জেদ যে তোর মাথায় চাপে বুঝি না। তোর মতো মাথা ভাঙার সাথে বন্ধুত্ব করে আমার হয়েছে যত জ্বালা। কিরে,বল এখন। শান্তি পেয়েছিস?"
_না।
একশব্দে সামিন ইয়াসার উত্তর দেয়।
_না মানে? মেয়েটা তোর পা ধরলো তবুও শান্তি পাসনি?
সামিন ইয়াসার ফুয়াদের দিকে তাকিয়ে বলে,"ওর চোখ দেখেছিস তুই? বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত হয়নি ওই চোখ দুটো। ও সামিন ইয়াসারকে ভয় পায়নি ফুয়াদ। পা ধরতে হবে বলে ধরেছে, ভয় পায়নি এই ইয়াসারকে। আমি তো ওর চোখে ভয় দেখতে চেয়েছি।"
ফুয়াদের মুখ হা হয়ে যায়। হতভম্ব ভাব নিয়ে বলে,"তুই কি শুরু করলি একটু বলতো।"
_কিছুইনা।
তারপর জামিলের দিকে তাকিয়ে বলে,"ওকে নজরে নজরে রাখবি। ওকে আমার চাই । ও ক্ষমতার কথা বললো না তখন? ওকে একটু একটু করে আমার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেবো আমি।"
জামিল মাথা নাড়ায়। তাকে কিছুটা বিচলিত লাগছে ,রাজনীতি ছেড়ে ভাই এখন এসব করতে শুরু করলে মারা পরতে আর টাইম লাগবে না!
রাহাত ইয়াবার প্যাকেটটা নাড়িয়ে দেখছিলো। হঠাৎ করে বলে ওঠে,"ভাই এটা তো ইয়াবা না। এগুলো তো নকল।"
সামিন ইয়াসার শুকনো হাসি হাসে। পাশ থেকে সবুজ বলে ওঠে,"ওই শালা! নকলই তো থাকবে। সামিন ইয়াসার কি ইয়াবার ডিলার নাকি যে যখন তখন আসল ইয়াবা এনে দিবে?"
হাসির মৃদু গুঞ্জন শোনা যায় ওদের মাঝে। আজ ওই মেয়েটাকে বোকা বানিয়ে কার্যসিদ্ধি করেছে সবাই। খুবই মজা পেয়েছে ছোটোখাটো এই এ্যাডভেঞ্চারটি করতে পেরে তারা।
***
রিকশায় তিনজন চাপাচাপি করে বসে আছে তারা। আলো পার্স ব্যাগ থেকে ফোন বের করে সময় দেখে। সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছে। ফোনটা ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে আয়াত আর আজানের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে,"বাড়িতে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে,কিছু খেয়ে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় পড়তে বসবি দুজন। ভুলে যাবি গত তিন ঘন্টায় কি কি হয়েছে। আমি তোদের বাড়িতে দিয়ে এসে আব্বুর কাছে যাবো। হাসপাতালে গিয়ে আম্মুকে পাঠিয়ে দেবো। আম্মু যেন কিছু টের না পায়। ঠিকাছে?"
আজান আর আয়াত মাথা নাড়ায়। আলো বলে,"অনেক বড় হয়ে গিয়েছিস দুজনে। এখন একটু সাহসী হ, সব সময় আমি আর আব্বু থাকবো না।"
আয়াত আজান কিছু বলে না। রিকশা তাদের বাসার সামনে এসে থামে। আলো নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে হনহন করে দরজার সামনে গিয়ে কলিং বেল চাপে। কাজের মেয়েটা এসে দরজা খুলে দিতেই আলো দ্রুত ভেতরে ঢুকে নিজের ঘরের দিকে যায়। আতাউর আলমের পঁচাত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধা মা আলেয়া বেগম নিজের ঘর থেকে আলোর অস্তিত্ব টের পেয়ে রিনরিনে গলায় ডাকে,"ওও আলো,তুই আইছিস? তোর বাপ কখন আইবো? আরে ও আলো,কথা কস না ক্যান।"
আলো কোনো উত্তর না দিয়ে নিজের ঘরে ঢুকে ধপ করে দরজা লাগিয়ে দেয়। এক ঝটকায় হাতের পার্স টা বিছানার উপরে ছুঁড়ে মেরে ওয়াশ রুমে ঢুকে যায় সে। কল ছেড়ে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে সে তার দু হাতের দিকে তাকায়। আজ এই হাত একটা জঘন্য লোকের পা ছুঁয়েছে, ঘেন্নায় আলোর গা গুলিয়ে আসে। সে সাবান লাগিয়ে হাত দুটো ডলতে থাকে। দীর্ঘ সময় কেটে যায়, ডলতে ডলতে আলো হাত দুটো লাল বানিয়ে ফেলেছে। বিছানার উপরে পার্স ব্যাগের ভেতরে আলোর ফোন বেজে যাচ্ছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই তার,সে হাত ধুতে ভীষণ ব্যস্ত। তার এখন ইচ্ছে করছে এক স্তর চামড়া ছিলে ফেলতে হাতের। আরো কিছু সময় পরে আলো হাত ধুয়ে ওয়াশ রুম থেকে বের হয়। ফোনটা তখনও বাজছে। তোয়ালে দিয়ে হাতে মুছে পার্স খুলে ফোনটা হাতে নেয় সে। ফোনের স্ক্রিনে তার ইশমামের নাম্বার দেখে অস্বস্তিতে পরে যায় আলো। এই মুহূর্তে ফোনটা ধরতে ইচ্ছে করে না আলোর। কিন্তু ইশমাম শত ব্যস্ততার মাঝেও একটু সময় বের করে দিনের ভেতর আলোর সাথে কথা বলার জন্য। আলো একটা গভীর নিঃশ্বাস ফেলে ফোনটা রিসিভ করে। ওপাশ থেকে ব্যাকুল কন্ঠে ইশমাম বলে ওঠে,"কোথায় ছিলে!"
আলো নিচু স্বরে বলে,"ওয়াশ রুমে।"
_আমি গত এক ঘন্টা ধরে ফোন দিয়ে যাচ্ছি। এক ঘন্টা ওয়াশ রুমে ছিলে?
আলো চুপ করে আছে। ইশমাম বলে,"ভেবেছি আংকেল হয়তোবা অসুস্থ হয়ে পরেছে।"
_নাহ। আব্বু ঠিক আছে।
ইশমাম আদর মাখা কন্ঠে বলে ওঠে,"খুব স্ট্রেস যাচ্ছে তাই না?"
আলো বলে,"এই আর কি!"
_আচ্ছা ঐ ঝামেলাটার কি হলো? মির্জারা তোমাকে কিছু বলেছিলো তারপর?
আলোর হঠাৎ চোখ দুটো ভিজে ওঠে। গলার কাছে কান্না দলা পাকিয়ে আসছে। তার ইচ্ছে করছে ইশমামের সাথে যন্ত্রনাটা শেয়ার করতে, কিন্তু এটা করা যাবে না। ইশমাম শুধু শুধু চিন্তা করবে।
ইশমাম বলে,"তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে আলো। ভিডিও কল দেই?"
_না। আমার খুব মাথা ব্যথা করছে। পরে।
ইশমাম চুপ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ দুপাশের দু'জনেই চুপ করে থাকে। তারপর নীরবতা ভেঙে আলো বলে ওঠে,"দেশে ফিরছো কবে তুমি? কবে দেখা হবে আমাদের? তোমার পরিবারকে সব জানাবে কবে? আমাকে কেনো তোমার পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দাও না? আচ্ছা ইশমাম একটা কথা বলো তো, তুমি আমার সাথে টাইম পাস করছো না তো?"
ইশমাম ধমকের সুরে বলে,"অদ্রিতা।"
_তাহলে তোমার পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে বললে তুমি চুপ করে থাকো কেনো? যেনো কোনো আগ্রহ নেই তোমার।
চেঁচিয়ে বলতে থাকে আলো।
ইশমাম কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,"মাথা ঠান্ডা করো। দেবো। সময় হলেই দেবো।"
চলমান........

23/05/2024

অনুবদ্ধ_আয়াস 💚
ইফা_আমহদ
পর্ব: ০৮

"আমি জানি আমি দেখতে সুন্দর। মেয়েরা আমার দিকে সবসময় চেয়ে থাকত। আমি তো তোমারই, তুমি কেন চেয়ে আছো?"

ধ্যান ভাঙল আমার। সরে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। রৌধিক বাহু টেনে ধরলো। ইশারায় প্রখর চাওনি দিলো। থেমে গেলাম আমি। মলম লাগিয়ে দিয়ে সরে বসলেন। জানালা মেলে দিলেন। পর্দাগুলো দুই পাশে গুটিয়ে রাখলেন। হাওয়া প্রবেশ করলো। কাবার্ড থেকে চুড়িদার বের করে আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। ঝাঁপসা কন্ঠে বললেন,
"যাও চেঞ্জ করে নাও।"

তখনও ঘোরের ভেতরে রয়েছি আমি। আনমনে বলে ফেললাম," ভালোবাসেন আমায়?"

রৌধিকের শান্ত চাওনি। কেমন অজানা অচেনা অনুভূতি তার মনে। কোনো প্রত্যুত্তর করলেন না। আমার কথা তার কর্ণপথে পৌঁছেছে কী না জানা নেই। না শোনার মতো করে বললেন," যাও জামা কাপড় ছেড়ে নাও!"

"আমি কিছু বলছি আপনাকে? ভালোবাসেন আমায়?"

"যদি বলি না!" একরোখা জবাব দিলো রৌধিক।

ভাষাগুলো হারিয়ে গেছে অজানায়। এরুপ কথার জবার হিসেবে কী বলা উচিত, সত্যিই জানা নেই আমার। পায়ের শব্দ শোনা গেল। রৌধিক বড় বড় পা ফেলে প্রস্থান করলো। হতাশা ভরা দৃষ্টিতে সেদিকে চেয়ে রইলাম। যদি ভালোই না বাসে তাহলে এতো কেয়ারিং কিসের? বেডের উপর রাখা লাল রঙের চুড়িদার টা নিয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করলাম।
নিজেকে সংযত করে মিনিট বিশেক পর বেরিয়ে এলাম। রৌধিক খাবার খাচ্ছে। ভেজা পা জোড়া ফেলতেই পানির ছোপ ছোপ শব্দ হচ্ছে। সাথে যোগ হলো নুপুরের শব্দ। মাত্র দু থেকে তিন টা ঝুনঝুনি রয়েছে। পানির ফলে একটু বেশি জোরে বাজছে। পা ভেজানোর পরেই এই শব্দ হয়। আমি সোফার উপর মেলে রাখা টাওয়াল টা চুলে পেঁচিয়ে নিলাম। চুলের তুলনায় অনেক বড়। আমার মতো একজন মানুষকে নিমেষেই কাবু করতে সক্ষম। মিনমিনে স্বরে বললাম,
"আমার এখন ঘরে যাওয়া উচিত।"
"তুমি কি এখন বাইরে আছো!"

"আমি আমার ঘরে যাওয়ার কথা বলছি।"

"এই বাড়িতে, তোমার নিজস্ব ঘর বলতে কোনো ঘরে নেই। আমার ঘরই তোমার ঘর। বুঝতে পেরেছ তুমি?"

"কিন্তু আমার মতে আমার নিজস্ব কোনো ঘর নেই। দু'দিনের জন্য ঐ ঘরটা আমাকে দেওয়া হয়েছে। মাত্র তো ছয়মাস। তারপরে তো চলে যাবো।"

রৌধিক সন্দিহান চোখে চাইলো। আমার হাত ধরে বেডের উপর বসিয়ে দিলো। নিজের প্লেট থেকে এক লোকমা খাবার তুলে আমার মুখে পুড়ে দিল। খাবারটা চিবিয়ে কথা বলতে নিলে আরো এক লোকমা খাবার পুড়ে দিল। গ্লাসের পানি টুকু হাতে না দিয়ে নিজেই খাইয়ে দিল। হাত ধুয়ে নিলো। এঁটো প্লেটটা টেবিলের উপর উপর রাখল। ঝাঁ'টা দিয়ে ঝেড়ে দিল বিছানা। ভেজা ফ্লোরের পানির ধারা মুছতে মুছতে বললেন,

"ভালোবাসি না বলেছি বলে আকাশে মেঘ জমেছে, তাই তো?"

আমি নিজেই জানি না, কেন আমার মন খারাপ। মৃদু স্বরে বললাম,
"না! হয়তো বা তাই। আপনি আমাকে ভালো না বাসলে এতো কেয়ারিং কেন দেখান। শুভের সাথে দেখার পর, আমার গায়ে হাত তুলছেন। আমি মেনে নিয়েছি। সেদিন রাতে আমাকে বউ বলে সম্বোধন করেছেন, সেটাও মেনে নিয়েছি। এখন বলছেন ভালোবাসি না। আবার বলছেন, আমার উপর অভিমান করেছেন। মানুষ তো তার উপরই অভিমান করে, যাকে সে ভালোবাসে। আমি গিরগিটি দেখেছি, কিন্তু আপনার মতো গিরগিটি দেখি নি।"

রৌধিক সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। জানালার পর্দার সরিয়ে বাইরে অদূরে। শক্ত গলায় বললেন,

"তুমি আমার ওয়াইফ। এই কেয়ার টুকু করা আমার দায়িত্ব। তোমাকে আমি ছাড়া অন্য কেউ স্পর্শ করবে, এটা আমি মানতে পারি না। অহেতুক তোমার উপর অভিমান করে বসে ছিলাম।"
নিজেকে কেমন ছোট মনে হলো। শুধু ওয়াইফ বলেই তিনি আমার যত্ন করছেন। আমি যেটাকে ভালোবাসা মনে করেছিলাম, সেটা শুধু দায়িত্ব। মৃদু স্বরে আওড়ালাম,
" আমি শুধুই আপনার ওয়াইফ।"
"জোনাকি তোমার সাথে আমার পরিচয় মাত্র কয়েক দিনের। এই কয়েকদিনে কাউকে ভালোবাসা কী আদোও সম্ভব? তাহলে? আমি কর্তব্য থেকে সবকিছু করছি, জোনাকি।
শেফা আমার ভালোবাসা হলেও ওর প্রতি আমার কোনোদিন তেমন ফিলিং ছিলো না। শেফার থুতনিতে জায়গায় তিল ছিল কাকতালীয় ভাবে তোমারও সেম জায়গায় তিল রয়েছে..

আমার হাত গিয়ে ঠেকলো থুতনিতে। আমি বসে আছি। রৌধিক বলেই চলেছে। তার কন্ঠস্বর আমার কানে যাচ্ছে না। আমি বালিশ টেনে শুয়ে পড়লাম এক কোণে। সত্যি তো একটা ছেলে ডিপ্রেশনে ছিল, সে কিভাবে আরেকজনকে ভালোবাসতে পারে। তাহলে যে তার ভালোবাসা টাই মিথ্যা। রাজ্যের ঘুম এসে তলিয়ে দিলো নিদ্রার অতলে।

ভোরের দিকে তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছে। শিশিরের বিন্দু বিন্দু জলকণা ঘাসের উপর পড়ছে। আবার জমাট বেঁধে তুষার ন্যায় শূন্যতায় ভেসে বেড়াচ্ছে। আযানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে চারদিকে। নিজেকে দৃঢ় বাঁধনে আবিষ্কার করলাম। নিভু নিভু চোখ মেলে তাকাতেই নজরে এলো ফর্সা পুরুষালী লোমহীন বুক। তীব্র পারফিউমের গন্ধ। মাথা তুলতেই কপালে আঘাত পেলাম।‌ ধরে উঠলো মাথা। মাথায় হাত দিয়ে ধীরে ধীরে সরে আসার চেষ্টা করলাম। রৌধিক আমাকে নিজের সাথে পেঁচিয়ে ঘুমিয়ে আছে। মুখে তৈলাক্ত আভা ফুটে উঠেছে। ঘুমের মাঝেও ভ্রু নড়ছে। এই বাড়িতে এসে আর কিছু পারি আর না পারি ভ্রু নাচাতে পারি। বামটা। ডানটাও শিখতে হবে। রৌধিক নড়েচড়ে আরো দৃঢ় করে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলেন আমায়। অতিবাহিত হলো আরো কিয়ৎক্ষণ। ভারী নিঃশ্বাস পড়ছে রৌধিকের। মুখের সামনে শূন্যতায় হাত দেখিয়ে সরে গেলাম। অজু করে জায়নামাজে এসে দাঁড়ালাম। নামাজ আদায় করে বেলকেনিতে গিয়ে একটু দাঁড়ালাম। অনেকদিন ভোরের উষ্ণ আকাশ দেখা হয় না।
বাবাকে আজকে রিলিজ করে দেওয়া হবে। দশটায় অফিসে যেতে হবে। আটটার দিকে বাড়ি থেকে বের হতে হবে। ছোট বেলার স্মৃতি হিসেবে, একটা লকেট ছিল। সেটা বিক্রি করে হসপিটালের বিশ পে করতে হবে। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত রুমের দিকে পা বাড়ালাম। পায়ের সাথে কিছু বেঁধে পড়ে যেতে নিলাম। মাঝপথে থেমে গেলাম। নিজেকে সামলে নিচের দিকে তাকালাম। রৌধিকের টি শার্ট পড়ে আছে। এটা গতকাল রৌধিকের পড়নে ছিলো। একবার রৌধিকের দিকে অবলোকন করলাম। গুটি শুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে। আমি আর কারো দয়া চাই না। মুক্ত হয়ে বাঁচতে চাই। পায়ের কাছে গুটিয়ে রাখা ব্লাঙ্কেট টা গলা পর্যন্ত টেনে দিলাম। মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে এলো।
________________

সময় নয়টা বিশ। হসপিটালের ঝামেলা মিটিয়ে মিনিট বিশেক হয়েছে বাড়িতে এসে পৌঁছেছি। নিজের প্রিয় লকেট টা পয়ত্রিশ হাজারে বিক্রি করেছি। বাবা হসপিটালে বিলের ত্রিশ হাজার চারশো নব্বই টাকা শেষ। এখনো কয়েকটা দিন বাকি।
দুই রুমের ঘর। একটাতে আমি আর জয়া থাকতাম। অপর টাতে বাবা একা।
এসেই সকালের নাস্তা তৈরি করেছি। জয়ার আবার পরীক্ষা দুদিন পর। বাবার শুয়ে আছে। নাস্তা নিয়ে টেবিলের উপর রাখলাম। বাবার পাশে বসে ধীরে ধীরে ডাক দিলাম,
"বাবা, ঘুমিয়ে গেছো। ওঠ। ওঠে নাস্তা খেয়ে ওষুধ খেয়ে নাও।"

বাবা এক চোখ মেললেন। বেশ গম্ভীর তার চাওনি। জয়া রেডি হয়ে এসেছে। স্কুলের টাই বাঁধতে বাঁধতে এসে বলল,

" আপু, আমার লেট হয়ে যাচ্ছে। এটা একটু বেঁধে দে তো?"

টাই বেঁধে গাল ধরে টান দিলাম। অতঃপর দু'জনে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলাম। হুট করেই জয়া আমাকে জ'ড়িয়ে ধরে বলল,
"তোকে খুব মিস্ করছিলাম রে আপু।"

জয়ার চোখে পানি। আলতো করে মুছে দিয়ে বললাম,
"আমিও মিস্ করছিলাম।"
জয়া সবে ক্লাস ফাইভে পড়ে। পড়াশোনায় বেশ মেধাবী।
বাবা উঠে বসার চেষ্টা করতে করতে বলল,
"আমি তোদের দুজনকে খুব বিপদে ফেলে দিয়েছি, তাই না?"
জয়া তেঁতে উঠলো। বিরাগী কন্ঠে বলল,
" লে, শুরু হয়ে গেছে।"

"এটা কোন ধরনের কথা জয়া।"
ধমকে বললাম আমি। বাবার পাশে বসলাম। নাস্তা খাইয়ে দিলাম। মেডিসিন খাইয়ে দিলাম। বাবার চোখে অশ্রু চিকচিক করছে। হতাশা ভরা কন্ঠে বললেন,
"আমি বেঁচে থেকে তোদের খুব বিপদে ফেলেছি। বোঝা হয়ে আছি। আমি ম'রে যাওয়ার জন্য ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু খরচ আরো বেড়ে গেল।
তোদের দুইবোনের বিয়ে হয়ে গেলে আমি শান্তি পাবো। তোদের মায়ের কাছে চলে যাবো।"
এদিকে জয়া রাগে ফুঁসছে। বাবা মাঝে মাঝেই এভাবে কথা বলে, জয়া প্রতিবারই রেগে যায়। ফোঁস ফোঁস করতে করতে চলে গেল। বলছে,
"দেখেছিস আপু, একটু সুস্থ হয়ে শুরু হয়ে গেছে। হসপিটালে বসেও এগুলো বলছিলো। তাই যতক্ষন বাবা ঘুমিয়ে থাকতো ততক্ষণ সেখানে থাকতাম। ঘুম ভাঙলেই বাড়িতে।"

প্রবেশ ঘটল চতুর্থ ও পঞ্চম ব্যক্তির। শুভ আর তার মা এসেছে। শুভ এসেই বাবাকে সালাম জানিয়ে বসে বসে বাবার খবর নিচ্ছে। ভয়ে ক্রমাগত ঘামচি আমি। বাবাকে এখনো কিছু জানাইনি। আর কয়েকটা দিন পরে জানাতে চেয়েছি। হুট করে ধা'ক্কা সহ্য করতে পারবে না।

[চলবে..ইনশাআল্লাহ]

06/04/2024

Todays Best Photo
❤❤❤❤❤❤












Address

Morbi
363641

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Joker gemars posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category