04/10/2026
মুখেভাতে বা শিশুর অন্নপ্রাশন সংস্কারে পুরোহিতের ভূমিকা ও করণীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু শাস্ত্রমতে শিশুর প্রথম কঠিন খাদ্য গ্রহণের এই প্রক্রিয়াটিকে পবিত্র করতে পুরোহিত মশাই মূলত নিম্নলিখিত ধর্মীয় আচার ও কার্যসূচি সম্পন্ন করেন:
• শুভক্ষণ ও তিথি নির্ধারণ: অনুষ্ঠানের পূর্বে শিশুর কোষ্ঠী, জন্মলগ্ন এবং পঞ্জিকা (তিথি, নক্ষত্র) বিচার করে অন্নপ্রাশনের জন্য সবচেয়ে শুভ দিন ও ক্ষণ (লগ্ন) নির্ধারণ করে দেন।
• স্বস্ত্যয়ন ও সংকল্প: পূজার শুরুতে শিশুর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে পুরোহিত মশাই পিতা বা অভিভাবককে দিয়ে সংকল্প করান।
• বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ বা নান্দীমুখ: বাঙালি সনাতন রীতি অনুযায়ী যেকোনো শুভ কাজের আগে পিতৃপুরুষদের স্মরণ করে আশীর্বাদ নেওয়া আবশ্যক। পুরোহিত মশাই বিধি মোতাবেক নান্দীমুখ শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করেন।
• দেবতার পূজা ও হোমযজ্ঞ: প্রধান পূজা হিসেবে বিষ্ণু বা নারায়ণ পূজা, কুলদেবতার পূজা এবং পঞ্চদেবতার পূজা করা হয়। এরপর শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রার্থনা জানিয়ে পুরোহিত মশাই হোম বা যজ্ঞ সম্পন্ন করেন।
• অন্ন বা পায়েস শোধন: শিশুর প্রথম আহার হিসেবে তৈরি পরমান্ন বা পায়েস ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়। এরপর পুরোহিত মশাই বিশেষ মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সেই অন্ন শোধন বা পবিত্র করেন।
• প্রথম অন্নপ্রাশন করানোর নির্দেশনা: শোধিত অন্ন বা মহাপ্রসাদটি শিশুর মাতুল (মামাবাবু) বা দাদু-ঠাকুরদা যাতে সঠিক নিয়মে ও নির্দিষ্ট লগ্নে শিশুর মুখে তুলে দিতে পারেন, তার দিকনির্দেশনা ও মন্ত্রপাঠ করান পুরোহিত মশাই।
যদি আপনি আপনার সন্তানের অন্নপ্রাশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে আপনার সুবিধার জন্য কিছু তথ্য জেনে রাখা ভালো:
• শিশুটি ছেলে নাকি মেয়ে?
• আপনি কি এটি বাড়িতে নাকি কোনো মন্দিরে আয়োজন করার কথা ভাবছেন?
এই তথ্যগুলো জানালে আমরা পূজাবাজার আপনাকে প্রয়োজনীয় প্লানিং করতে সুনির্দিষ্ট সাহায্য করতে পারব।
অন্য শিকড়ের টানে মুখেভাত।
কেন সন্তানের অন্নপ্রাশন দেওয়া জরুরি? জেনে নিন মুখে-ভাতের সঠিক নিয়ম ও সঠিক সময়
• পুত্র সন্তান (ছেলে): জন্মের পর ষষ্ঠ, অষ্টম, দশম বা দ্বাদশ মাসে (জোড় মাসে) অন্নপ্রাশন করা হয়। তবে ষষ্ঠ মাস সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।
• কন্যা সন্তান (মেয়ে): জন্মের পর পঞ্চম, সপ্তম, নবম বা একাদশ মাসে (বিজোড় মাসে) এই অনুষ্ঠান করার রীতি রয়েছে।
প্রধান আচার ও নিয়মাবলী
• পূজা-পার্বণ: অনুষ্ঠানের দিন সকালে পুরোহিতের দ্বারা পূজাপাঠ ও হোমযাগ সম্পন্ন করা হয়।
• মামার ভূমিকা: এই রীতিতে শিশুর মামার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামাই প্রথম সন্তানের মুখে সোনার চামচ বা রূপার বাটি থেকে পায়েস বা অন্ন তুলে দেন।
• খাবার: শিশুর মুখে প্রথম দেওয়ার খাবারে সাধারণত পায়েস, মিষ্টি ও অল্প ভাত রাখা হয়। তবে শিশুর স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ঝাল, মশলাদার বা শক্ত খাবার এড়িয়ে চলা হয়।
• আশীর্বাদ ও উপহার: আমন্ত্রিত আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা শিশুকে আশীর্বাদ করেন এবং সাধ্যমতো উপহার দেন।
• ভবিষ্যৎ নির্ধারণী খেলা (রাইস প্লে): অনেক পরিবারে শিশুর সামনে বই, কলম, মাটি, টাকা, অস্ত্র বা আয়না রেখে একটি মজার খেলা করানো হয়, যা দিয়ে প্রতীকীভাবে শিশুটি ভবিষ্যতে কোন দিকে আকৃষ্ট হতে পারে তা অনুমান করা হয়।
🙏🙏🙏🙏🙏
#বিশ্বকর্মাপূজা #সত্যনারায়নপূজা #পূজাবাজার২০২৫