07/10/2025
কথোপকথন
দিয়া ও অনল
পারমিতা চ্যাটার্জি
০৭/ ১০/২৫
দিয়া-- বলেছিলে বেলাভূমিতে এসে সেই কথাটা বলবে কই বললে না তো?
অনল-- কোন কথাটা? তোমাকে বলার জন্য অনেক কথাই মনে ভিড় করে আছে কোনটা যে বলব তাই ভাবছি,
দিয়া- তুমি কিন্তু এড়িয়ে যাচ্ছ এমনি করে ভুলিয়ে আমাকে নিয়ে এসেছ
অনল- এসে ভাল লাগছে না বল? বেলাভূমি তে কেৃন গাঙচিলগুলো খেলা করছে তুমি আমিও একসময়
( দিয়া অনলের মুখে হাত চাপা দিয়ে) থাক পুরানো দিন ফিরে আসেনা যা ফিরে তা নিয়ে কথা বলে লাভ কি?
অনল-- সত্যি কি ফিরে আসেনা! এই যে তুমি আমার মুখে ক্ষণিকের জন্য হাত দিলে আমার হৃদয় মনে এক অদ্ভুত আলোড়নের সৃষ্টি হল তোমার হয়নি?
দিয়া-- (গম্ভীর হয়ে) না হয়নি তার চেয়ে অনেক বেশি গেঁথে আছে শেষের দিকে তোমার অত্যাচার আর অপমানের দিনগুলোর কথা,
অনল-- ও দিনগুলো কি কিছুতেই ভোলা যাবেনা?
দিয়া-- না যাবেনা আর কোনদিন বেলাভূমিতে গাঙচিলের খেলার কথা মনে পড়বেনা মনে হবে ওগুলো কোন এক সময়ের স্বপ্ন ছিল যা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে গেছে,
অনল-- যে সম্পর্ক এত গভীর ছিল তা একটা ভুলের জন্য শেষ হয়ে যাবে?
দিয়া- তোমার কাছে যা ভুল ছিল তা আমার কাছে চরম অপমান য কোনদিন ক্ষমা করা যাবেনা,
অনল-- একা হাতে ছেলেমেয়ে মানুষ করছ,ওরা ওরা কেমন আছে?
দিয়া-- ওরা খুব ভাল আছে শেষ দিনের দৃশ্য টা ওদের কাছে এখনও প্রকট তোমার কথা মুখেও আনেনা, দুজনেই কলকাতার বেস্ট স্কুলে পড়ে এবং ফার্স্ট হয় আমিও কর্পোরেটে খুব ভাল পজিশনে আছি তাই আমার ওদের সাপোর্ট করতে কোন অসুবিধা হয়না, তাছাড়া দাদা আর জিম্মা তো আছেই,
অনল-- তুমি কি ওই বাড়িতেই থাক?
দিয়া-- বাড়ি যদিও আমার নামে কিন্তু আমি ছেলেমেয়েদের স্কুলের কাছাকাছি একটা ফ্ল্যাট কিনেছি,
সবকিছু করেই বাবা মায়ের দেখাশোনা করি,হ্যাঁ আজ বিকেলের ট্রেনেই আমি ফিরে যাব তোমার যখন কিছু বলার নেই তখন শুধুশুধু আর সময় নষ্ট করবনা।
দিয়া চলে যাচ্ছে আর অনল একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার প্রথম ও শেষ ভালবাসার দিকে। এদের হারিয়ে আজ যে সে কত নিশ্ব কি ভিষণ একাকীত্বের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে তা দিয়া আর এখন বুঝবেনা বা বিশ্বাস করবেনা একেই বলে কর্মফল। দামী জিনিস গুছিয়ে রাখতে হয় একবার হারিয়ে ফেললে আর ফেরত আসেনা।