11/12/2025
বোয়াল মাছের রসা আসলে আমার ঢাকাইয়া দিদুনের রান্না। ধীরে ধীরে সেটা বংশ পরম্পরায় মা মাসিরা শিখে ফেলেছে তবে সবার মধ্যে সব থেকে ভালো রান্না করতো মেজ মাসি। মাত্র দুটো থেকে তিনটে মশলা পড়ে এতে। হাজারটা মশলার প্রাচুর্য ছাড়াও যে রান্নাতে এমন অসাধারণ স্বাদ আসতে পারে সেটার প্রমাণ এই ঝোলটাই। একবার মেজ মাসির বাড়িতে আমাকে ঠিক এই ছবির মতন বোয়ালের লেজ দিয়ে এই অমৃত সমান ঝোলটা খেতে দেওয়া হয়েছিল তখন আমি প্রথম নিজে হাতে খেতে শিখেছি। ইয়াবড় লেজটা দেখেই প্রথমে খুব খুশি হয়েছিলাম কারণ আমার বাবার বাড়ি খুলনা এদিকের লোকজন খালি পাতলা চুনো মাছের ঝোল খায় এত বড় মাছের লেজ হয়তো আমি প্রথম দেখেছিলাম কিনা জানিনা বাড়িতে ঢুকেই সবার সামনে বাবাকে বলেছিলাম আমাকে এত বড় লেজ দিয়েছে তুমি তো কোনদিন ও খাওয়াওনি বাবা পরের দিন আড়াই কিলো বোয়াল মাছ এনে হাজির করেছিল! এই ঘটনাটা আমার খুব ভালো ভাবে মনে আছে।
বোয়াল মাছকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেননা কেন আমি জানিনা। এত ভালো একটা মাছ এখনও জাতে উঠতে পারেনি আঁশ বিহীন মাংসাশী মাছ বলে হয়তো! অনেকে আবার বলেন শ্লেষ্মা হবে তবে এত বছর এতবার খেয়ে এসব কিছুই ঘটেনি। এই রান্না আমার মামাবাড়ির সবার এত প্রিয় এত প্রিয় যে বাড়ির কারোর বিয়েতে বিয়ের দিন খাওয়াতে না পারলেও বিয়ের পরের দিন দুপুরে এই রান্না মাস্ট ছিল! আমার আইবুড়োভাতেও বোয়ালের এই ঝোল বানিয়ে দিয়েছিল সেজ মাসি। বলে রাখা ভালো, আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুব একটা রসুন প্রেমী নন কেউই তারা প্রথমে একটু সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তাকালেও পরে এই রান্না চেটে খেয়েছেন। আগামী ১৪ই ডিসেম্বর স্পিগেলে আমি আর তূর্য দাদা নিজেদের বাড়ির একটা দুটো রান্নাও রেখেছি লিস্টে। তাতে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের বেশ কিছু রান্নার সাথে আমার দিদুনের স্পেশাল এই বোয়াল রসাও আছে।