08/05/2020
আজি হতে শত বর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসে মোর কবিতাখানি
কৌতুহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে। ...
১৫৯ বর্ষ পার হয় গেছে। আজও বাঙালীর চেতনা, দর্শন ও অস্তিত্বে প্রচ্ছন্ন অথচ প্রগাঢ় প্রভাব তাঁর। বঙ্গে যদি রবীন্দ্রনাথ না জন্মাতেন তবে সাধারণ বাঙালী চরিত্র হয়তো অন্যরকম হতো, এমনটা অনেকেই মনে করেন। তাঁর বহুমুখী প্রতিভার কথা, তাঁর গান, কবিতা, গল্প, নাটক -এর কথা, আজ সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা গুণী মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে। কোনো রসে বা গুনেই তিনি বঞ্চিত ছিলেন না। কলাপাতায় আমাদের যত আড্ডা খাবার নিয়ে, তাই ভোজন-রসিক রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আসুন দু কথা গল্প করি।
আর যদি এমন কোনো গল্প আপনাদেরও জানা থাকে নিশ্চই কমেন্টে শেয়ার করবেন। লক ডাউন এর শনি-রবিবার বাঙালীর আড্ডার জন্য একদম পঞ্জিকা মতে বিশেষ প্রশস্ত সময়।
শোনা যায় ঠাকুর পরিবারে ছিল নানান ব্যতিক্রমী রান্নার চল। রবি ঠাকুর ছিলেন এক ভিন্ন্য প্রকার খাদ্য রসিক। উপভোগ করার পাশাপাশি খাবার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার তাঁর নাকি ছিল প্রবল আগ্রহ। পৃথিবীর নানান দেশে ঘুরে যা খেতেন নিয়ে আসতেন প্রণালী বা রেস্তোরার মেনু কার্ড। তারপর তেমন সব রান্নার আবদার করতেন বাড়ি ফিরে। 'খামখেয়ালি সভা' নামে তাঁর বন্ধুদের আড্ডার চক্রে স্ত্রী মৃণালিনী দেবীকে বলেছিলেন যেন যথাসম্ভব 'খামখেয়ালি' জলখাবারের ব্যবস্থা হয়। দইয়ের মালপোয়া, ফুলকফির সন্দেশ, মানকচুর জিলিপি, পটল-চিংড়ির রায়তা, সর্ষেবাটার মাংস প্রভৃতি এই সময়ই আবিষ্কার বলে মনে করা হয়।
কবিগুরুর রুচি ছিল বিবিধ স্বাদে, আজকাল আমরা যাকে বলে থাকি একদম "open palate"। একদিকে ভালোবাসতেন কাবাব, রোস্ট, মাংসের পাই। ....আবার ওপর দিকেই পছন্দ ছিল নারকেল চিংড়ি, কাঁচা ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ আর চালতা দিয়ে মুগের ডাল, ভাপা ইলিশ, চন্দ্রপুলি ইত্যাদি প্রিয় বাঙালী পদ। এইসব নানাবিধ ব্যঞ্জন আর জোড়াসাঁকোর বৌদের রন্ধনপ্রণালীর গল্প ধরা রয়েছে ঠাকুর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের লেখায়। পূর্ণিমা ঠাকুর তার মধ্যে অন্যতম।
এদিকে আবার কখনো কখনো আবার প্রবল স্বাস্থ্য স্বচেতনতা বশতঃ আগ্রহ করে খেয়েছেন গ্লাস ভর্তি খাঁটি নিমপাতার রস, রসুন বাটার বড়া, ক্যাস্টর অয়েল-এ ভাজা পরোটা .....এমনকি সমস্ত কাঁচা সবজি টুকরো করে কেটে শুধু নুন লেবু মেখে। এদিকে তাঁর অনুরোধে সেই সব চেখে দেখতে বাড়ির সবার উঠেছে নাভিশ্বাস।
হয়তো এইসব-এর মধ্যেও প্রকৃত অর্থে ছিল তাঁর বৃহৎ ও মুক্ত মনের পরিচয়। ঠিক যেভাবে একাধারে দিয়ে গেছেন সহজপাঠ বা বাচ্ছাদের ছড়া থেকে ব্রহ্মসংগীত প্রযন্ত্য। রস থেকে রসনায় কোথাও সংকীর্ণতা নেই। যুক্তি ও জীবনবোধে তাঁর মন উন্মুক্ত, ব্যাপ্তি বিশ্বময়! সেই উন্মুক্ত উদার মন আর অসংকীর্ণতার বাণীই আমরা 'inherit' করেছি। তাই সর্বপ্রকার রসাস্বাদনে আমরা মুক্ত-মনা আর সবসময় প্রস্তুত! "আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত, আমরা নূতন যৌবনের দূত। আমরা বেঁড়া ভাঙি, আমরা অশোক বোনের রাঙা নেশায় রাঙি। ...." আর এই ঐথিতিহ্যকেই যেন ধরে রাখতে পারি চিরকাল, ছড়িয়ে দিতে পারি সেই অসংকীর্ণতার বাণী বিশ্বময়।
কবিগুরু ও ঠাকুর বাড়ির আহারের বাহার নিয়ে নানা জায়গায় বিভিন্ন সময় প্রকাশিত হয়েছে উপরের এই সব মজার টুকরো গল্প। তার কিছু কিছু একসাথে Indian Express ও DNA-র দুটি পুরোনো পৃথক article-এ খুঁজে পাওয়া যায়। সময় পেলে পড়বেন অবশ্যই। বুঝবেন, বাঙালী জাতির খাদ্য-প্রেম নেহাতিই এক ঐতিহাসিক ধারা!! :)
https://www.dnaindia.com/lifestyle/report-the-tacit-art-of-tagore-s-kitchen-2429328
https://indianexpress.com/article/lifestyle/food-wine/what-would-you-serve-rabindranath-tagore-if-he-came-home-for-lunch-2788629/
On the Bengali polymath's 155th birth anniversary, we wrack our brains to put together a menu worthy of his whimsical tastes. Hint: garlic vadas, Bengal goat curry, Horlicks, and "sandesh and pantua prepared by lovely hands" would work.