16/12/2022
বেশিদিন আগের কথা নয়, এইত্ত ২০১৯-র ঘটনা। গোটা দুনিয়া হাঁ করে তাকিয়েছিল ভারতের দিকে, নড়েচড়ে বসেছিলেন তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা। কেন?
সফলভাবে চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণ করেছিল ইসরো, লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পাঠানো হবে স্যাটেলাইট, মানুষের অজানা অচেনা সেই অংশের হাল হকিকত বুঝে আসা হবে। কথা ছিল, সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখে চাঁদের বুকে পা রাখবে বিক্রম ল্যান্ডার ;তারপর শুরু হবে তথ্য সংগ্রহ। সবটা ঠিক ছিল, কেঁচে গেল একেবারে শেষ মুহূর্তে। সেইবার জাস্ট একটুর জন্য সফল অবতরণ করতে পারেনি বিক্রম। ইতিহাস হতে হতেও হয়নি, ভারত তো বটেই.. চাঁদের দক্ষিণ মেরুর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্যাদি থেকে বঞ্চিত হয়েছিল গোটাবিশ্ব।
ভীষণ স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ ছিল দেশের। আট থেকে আশি হাত কামড়েছিল, খেয়াল করেছিলাম.. সমাজের প্রত্যেকটা স্তরের মানুষ জেনে হোক অথবা না জেনেই হোক, দেশের ব্যর্থতায় আক্ষেপ করেছিলেন। ব্যতিক্রম ছিল শুধু কিছু জীবানু! সরকার-বিরোধী নির্বিশেষে যেখানে চন্দ্রযান২ অভিযানের ব্যর্থতায় আঘাত পেয়েছিলেন, সেখানেই কিছু মানুষ নেচে উঠেছিলেন আনন্দে।
নতুন কিছু নয় অবশ্য, ইতিহাস সাক্ষী আছে, ভারত যখনই উঠে দাঁড়াতে চেয়েছে, এরা বাধা দিয়েছে। শ্রমিকের দোহাই দিয়ে কারখানা, কোম্পানিতে কম্পিউটারের বিরোধিতা করেছে, ধর্মঘট ডেকেছে। প্রতিবেশী পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর হওয়ার পর আমেরিকার চোখরাঙানি পাত্তা না দিয়ে ভারত সফলভাবে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা করলে প্রশ্ন তুলেছে, 'অস্ত্র দিয়ে হবে টা কী? ভাত দে!' এই ধরনের কিছু জীবানুই আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছিল চন্দ্রযান ২ অভিযানে ব্যর্থতার পরেও। উফফ, সে কী যুক্তির জাল, বিকৃত লাফালাফি! ইসরোয় রকেট উৎক্ষেপণের আগে পুজো দেওয়ার রীতি নিয়ে কথা তুলেছিল কেউ। কেউ আবার সংস্থার চেয়ারম্যান কে শিবনের ঈশ্বরবিশ্বাস নিয়ে টোন কেটেছিল, চন্দ্রযানের উৎক্ষেপণের আগে তাঁর তিরুপতিতে পুজো দিতে যাওয়া নিয়েও কম কটাক্ষ করা হয়নি। ভাবা যায়? স্রেফ নিজের মতাদর্শকে শ্রেষ্ঠ ভেবে একদল লোক নিজেদেরই দেশের ব্যর্থতায় হাসাহাসি করছে? আজ্ঞে হ্যাঁ স্যার, এই পোড়া দিনও দেখেছে আমার দেশ।
আমার ভারত.. বিপুল জনসংখ্যা, দারিদ্র, প্রতিবেশী সমস্যা, হাজাররকমের দূর্নীতিতে ভুগেও মাথা তুলে দাঁড়ানো এক দেশ। এই দেশে মানুষ বিশ্বাস করে, 'মাথার ওপর কোনও না কোনও শালা তো আছেই'। সেই বিশ্বাসে ভর দিয়েই গণিতের সমুদ্রে গবেষণার তরী ভাসিয়ে দেন আর্যভট্ট, শ্রীধর আচার্য,ব্রহ্মগুপ্ত থেকে রামানুজম। এখনও তার ব্যতিক্রম হবে না। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হবে, তার আগে নিয়ম মেনে পুজোপাঠও হবে। শত্রুদের বুকে ভয় ধরিয়ে ভারত অস্ত্র তৈরি করবে, দেশের ভেতরে ও বাইরে বসে থাকা জীবানুদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে তার সফল পরীক্ষণও হবে। যারা দেশটার পা টেনে ধরতে চায়, তাদের পায়ের মাটি সরে যাবে।
আজ সন্ধ্যার আকাশে যে অদ্ভুত আলোয় চমকে গিয়েছেন সকলে.. চিন্তা নেই, ওটা ভারতের বিজ্ঞান গবেষণার আলো। অগ্নি ৫ এর সফল উৎক্ষেপণ করল ইসরো, ৫৫০০ কিমি দূরের লক্ষ্যভেদও এখন হেসেখেলে সম্ভব! জীবানুরা দেখুক, ঈর্ষায় তাদের গা.. পুড়ে যাক।।
Guchhait