20/09/2026
বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ মুসলমান। ইসলাম আমাদের কাছে শুধু একটি ধর্মের নাম নয়—এটি নৈতিকতা, আমানতদারি, মানবিকতা, চরিত্র ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দেয়।
সন্তানকে কোরআন-হাদিস ও ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করার অন্যতম উদ্দেশ্যই তো হলো তাকে একজন সৎ, নৈতিক ও চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু যখন সেই শিক্ষার পরিবেশেই কোনো শিশু যৌন নির্যাতন বা বলাৎকারের শিকার হয়, তখন প্রশ্নটা শুধু একজন অপরাধীর বিরুদ্ধে নয়—প্রশ্ন ওঠে আমাদের প্রতিষ্ঠান, তদারকি এবং সামাজিক নীরবতার বিরুদ্ধেও।
একজন হাফেজ, শিক্ষক, আলেম বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কেউ হলেই তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।
আর কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার নামে যদি একটি শিশুর কান্না চাপা দেওয়া হয়, সেটি কোনোভাবেই ইসলামি আদর্শ হতে পারে না।
অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় নয়—তার অপরাধের বিচার হোক।
মাদ্রাসা হোক, স্কুল হোক, মক্তব হোক কিংবা অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—শিশুর নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না।
ইসলাম যদি আমাদের চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেয়, তাহলে সেই শিক্ষার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাই হলো—দুর্বল ও অসহায় মানুষের প্রতি আমাদের আচরণ।
একটি শিশুকে ধর্ম শেখানোর আগে তাকে নিরাপদ রাখতে হবে।
কারণ যে শিক্ষাঙ্গনে একটি শিশু নিরাপদ নয়, সেখানে আমাদের শিক্ষা, নৈতিকতা ও বিবেক—সবকিছুকেই নতুন করে প্রশ্ন করতে হবে।
অপরাধীকে বাঁচানো নয়, শিশুকে বাঁচানোই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব।
ধর্মের সম্মান অপরাধীকে আড়াল করে রক্ষা করা যায় না; বরং অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করেই ধর্মের ন্যায়বিচারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করা যায়।