Da. Appetizer

Call Directions

Da. Appetizer A Quality Chinese Italian Thai Indian and Fast Food Restaurant in Sirajgonj, Bangladesh

রফিক সাহেবের স্ত্রী মারা গেলেন দুপুর তিনটার কাছাকাছি সময়ে। সবে হাসপাতাল থেকে এসে দুপুরের খাবার খেতে বসেছিলেন। ফ্রীজের উপ...
07/08/2026

রফিক সাহেবের স্ত্রী মারা গেলেন দুপুর তিনটার কাছাকাছি সময়ে। সবে হাসপাতাল থেকে এসে দুপুরের খাবার খেতে বসেছিলেন। ফ্রীজের উপর রাখা ফোন বেজে উঠতেই উনি বুঝতে পারলেন, খারাপ কোনো খবর আছে। যেটা শোনার পরে লোক দেখানোর জন্য হলেও না খেয়ে উঠে যেতে হবে। তাই ফোন রিসিভ না করে চিংড়ি মাছ আর পাতলা ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে উঠলেন। এক টুকরো লেবুর অভাব খুব পীড়া দিল তাকে। কিন্তু এই মুহুর্তে বাসায় লেবু তো দূরে থাক লেবুর খোসাও নেই। খাওয়া শেষ করে বারান্দায় বসে একটা সিগারেট ধরালেন। গত তিন দিনের ব্যস্ততায় একটা সিগারেট শান্তিপূর্ণ ভাবে খেতে পারেননি। সিগারেট শেষ করে গোসল করে নিলেন। গোসলটাও করতে পারেননি। তিন দিন আগে শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে রান্না ঘরে মাথা ঘুরে পরে গেলেন রেহানা। খিচুড়ি প্রায় হয়ে গেছে, এমন অবস্থায় কেউ বেহুশ হয়? মনে মনে বলতে বলতে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন স্ত্রীকে। সেই খিচুড়ি আর তার খাওয়া হয়নি। হাসপাতালে যাওয়ার আগে মেয়েকে খিচুড়ি এক প্লেট উঠিয়ে রাখতে বলতে ভুলে গেছিলেন। সে যাইহোক, হাসপাতালে নেয়ার পরে জানতে পারলেন স্ত্রী নাকি স্ট্রোক করেছেন। অবস্থা ভালো না। এখনই আইসিইউতে নিতে হবে। রেহানার বড় ভাই এসে হাজির হলেন৷ উনিই নিজ খরচে রেহানাকে আইসিইউতে ভর্তি করালেন। এখন পর্যন্ত সব খরচ উনিই বহন করছেন। একটা সিগারেট শেষ করে আরেকটার জন্য মন আকুপাকু করা শুরু করেছে তার। প্যাকেট থেকে আরেকটা বের করবেন ফোনের রিংটোন সেই মুড নষ্ট করে দিল। বারান্দা থেকে বেরিয়ে আস্তে-ধীরে ফ্রীজের কাছে গিয়ে ফোন হাতে নিলেন। রেহানার ভাই এর নাম্বার থেকে ফোন এসেছে। রিসিভ করলেন। ওপাশ থেকে যা বললেন তার সারমর্ম হচ্ছে, অবস্থা ভালো না। যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে। আপনি দ্রুত চলে আসুন। শেষ বারের মতো... খুবই বিরক্ত হলেন। ভাত ঘুমের সময় যেতে হবে সেই হাসপাতালে।

আইসিইউর কাছে যেতে না যেতেই মেয়ে রিতু এসে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরলো তাকে। মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে চেয়েও পারলেন না। এমন পরিস্থিতিতে কী বলতে হয় তার মনে পড়ছে না। স্ত্রীর এই অবস্থা নিয়েও তার কোনো মাথাব্যথা নেই। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের সংসারে তার কোনো সুখের মুহুর্ত নেই স্ত্রীর সাথে। যা আছে সেগুলো মেকিতা বা লোক দেখানো। শেষ বারের মতো স্ত্রীকে দেখার জন্য অনিচ্ছাসত্ত্বেও গেলেন।সারাদিন বকবক করে মুখে ফেনা তুলে ফেলানো মানুষটা কী শান্ত ভাবেই না চোখ বুজে শুয়ে আছে! স্ত্রীকে এমন শান্তভাবে দেখতে পাবেন কখনো ভাবেননি। পাশে রিতু দাঁড়িয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে। রেহানার বড় ভাই পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন চুপচাপ। তাদের বিয়েটা হয়েছিল একপ্রকার জোর করেই। মাস্টার্স শেষ করে নতুন চাকরিতে যোগ দেয়ার আগে বাসায় এসেছিলেন বেড়াতে রফিক সাহেব। পোস্টিং চট্টগ্রামের কক্সবাজারে। বাড়িতে এসে জানতে পারলেন তার বিয়ে ঠিক করা হয়ে গেছে। আজকে রাতে গায়ে হলুদ, আগামীকাল বিয়ে। মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার অবস্থা তার। এমন না যে কারো সাথে তার কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল! তারপরও ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা শেষ করে চাকরি বাকরি করে পুরো দেশে ঘুরে বেড়াবে। তারপর বিয়ে করবে। এখনই যদি পায়ে শিকল বেঁধে সংসারে আটকে দেয়া হয়। তাহলে তার স্বপ্নগুলোর কী হবে? মা'কে বুঝিয়ে খুব একটা লাভ হলো না। বাবার সামনে গিয়ে মুখ দিয়ে একটা শব্দ বের করার সাহস পেলেন না। তার বড় দুই বোনকেও বাবা মতের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। তখন মাথায় ঘুণাক্ষরেও আসেনি যে,একই ঘটনা তার সাথেও ঘটতে পারে। বাবার কথামতো বিয়ে করে বউ নিয়ে চট্টগ্রামে সংসার পাতলেন। বহুবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছেন কিন্তু যে সুখ প্রতিটা সুখী দম্পতি পায় ; সেটা তিনি পাননি। বিয়ের চার বছরের মাথায় প্রথম সন্তানের জন্ম হলো। পিতা হওয়ার অনুভূতি তাকে স্পর্শ করতে পারলো না। ছোট্ট সাদাতের মুখের দিকে তাকিয়ে আফসোস করতেন মনে মনে। একটা ভালোবাসাহীন সংসারে জন্ম হয়েছে তার। যার জন্মদাতা পিতাও তাকে পছন্দ করেন না। সাদাতের তিন বছরের মাথায় জন্ম হলো রিতুর। রিতুর জন্মের পরে থেকে রেহানা অসুস্থ হয়ে গেলেন। আজকে এইটা তো পরশুদিন আরেকটা। চট্টগ্রামের পরে তার ট্রান্সফার হলো বরিশালে। এখানের বাংলাবাজারেই তার পুরোনো সংসার শুরু হলো। ত্রিশটা বছর কাটিয়ে দিলেন এমন একটা সংসারে যেখানে স্ত্রী, সন্তানদের উনি মন থেকে ভালোবাসতে পারেননি। রিতুর হাত ধরা অবস্থায় রেহানা শেষ নিশ্বাস ছাড়লেন। সাথে সাথে তিনিও স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লেন। এবার হয়তো তার অভিনয় জগতের সমাপ্তি হবে।
লাশ দাফন করে বাসায় ফিরে নিজের বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন। এবার আর পাশ ফিরলে রেহানার চেহারাটা দেখতে হবে না। এবার আর কেউ ভোর হলেই ডাকাডাকি শুরু করবে না। ক্ষুধায় পেটের মধ্যে পাক দিয়ে উঠছে। বাড়ি ভরা মানুষ। রেহানার বাপেরবড়ি থেকে এসেছে, তার ভাই বোনেরা এসেছে। স্ত্রীকে দাফন করে এসেই খেতে বসা যায়না। এটুকু ভদ্রতা বজায় রাখা জরুরি। সাদাত আর রিতু শোকে পাথর হয়ে গেছে। মা'য়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা যে গভীর এটা বোঝাই যাচ্ছে। হঠাৎ করে তার মাথায় উঁকি দিল একটা প্রশ্ন, তার মৃত্যুতেও কি ওরা এভাবে শোক পালন করবে? সে তো তাদেরকে কখনো ভালোবাসেনি, দায়িত্ব হিসেবে দেখেছে।
বিছানা ছেড়ে উঠে গায়ে কালো রঙের পাঞ্জাবিটা জড়িয়ে বেরিয়ে পড়লেন। একটা রিক্সায় চেপে বসলেন। রিক্সাওয়ালাকে বললেন ভালো কোনো ভাতের হোটেলে নিয়ে যেতে। উনার বিশ্বাস একমাত্র সমাজের নিম্নশ্রেণীর মানুষেরাই জানেন কোথায় ভালো ভাতের হোটেল আছে। মা বাবার দোয়া ভাতের হোটেলের সামনে এসে রিক্সা থামলো। ভাড়া চুকিয়ে হোটেলে ঢুকলেন।
প্রায় সব টেবিলই ফাঁকা। অবশ্য রাত এগারোটার পরে ফাঁকা থাকারই কথা। হোটেলের লোকগুলোও সব খাবার দাবার গুছিয়ে রাখছেন। উনাকে দেখে মনে হলো তারা বিরক্ত হলেন। কাজ শেষ করে বাড়ি যাবে এইসময় কাস্টমার আসলে উনিও রাগ হতেন। একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন। তেরো চৌদ্দ বছরের একটা ছেলে এগিয়ে এসে বললেন, " কী খাইবেন?"
" ভাত আছে?"
" হ আছে "
" আর কী কী আছে?"
" সব আইটেমই শ্যাষ। খালি গরুর গোস্ত আর মাছ চচ্চড়ি আছে। "
" গরুর গোস্ত দাও আর দুই প্লেট ভাত। সাথে একটা পেয়াজ, দুটো কাঁচা মরিচ আর এক টুকরো লেবু। "
ছেলে পাঁচ দশ মিনিটের মাথায় সব এনে সামনে সাজিয়ে রেখে গেলো আর বলে গেলো, " একটু তাড়াতাড়ি খাইয়েন। বাড়ি যাওন লাগবো। "
গরুর গোস্তের ঝোল দিয়ে ভাত মাখিয়ে এক লোকমা মুখে দিয়ে হঠাৎ মনে পড়ে গেলো আইসিইউতে থাকার সময়ের একটা ছোট্ট ঘটনা। স্ত্রীর হাত কিছু মুহুর্তের জন্য স্পর্শ করেছিলেন। বরফ শীতল হাত ধরে উনার শরীর একটা ধাক্কা দিয়েছিল। তখনই স্ত্রী'র বুজে থাকা ডান চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়তে দেখেছিলেন। এতো বছরের সংসারে এক মুহুর্তের জন্য রেহানাকে ভালোবাসতে পারেননি তিনি। স্ত্রী হিসেবে মানতে পারেননি। মা বাবার উপর জেদ করেই সংসার চালিয়ে গেছেন। আজকে যখন সেই বিশ্রী সংসার থেকে মুক্তি পেলেন তখন তার খারাপ কেনো লাগছে? তার তো আনন্দিত হয়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয়ার কথা বা শারলিনের সাথে নতুন করে সংসার পাতার স্বপ্ন দেখার কথা! শারলিনের সাথে তার সম্পর্ক এই আট দশ বছর হবে। তারও সংসার সুখের ছিলো না। পরে একটা বাচ্চাসহ ডিভোর্স হয়ে গেছে। সম্পর্কের শুরু থেকে অপেক্ষায় ছিলেন কবে রেহানা নিজ থেকে সংসার ছাড়বেন। রেহানা শারলিনের ব্যাপারটা জানতো। প্রায়ই মুখ গোমড়া করে বসে থাকতো। স্বামীর সাথে রাগ করে না খেয়েও থেকেছেন কিন্তু লাভ হয়নি। উপর দিয়ে নিপাট ভদ্রলোক আড়ালে যে চুটিয়ে প্রেম করছেন - সেটা স্বীকার করতে চাইতেন না। শারলিনের সাথে তার পরশুদিন দেখা করার কথা। হয়তো সেদিনই বিয়েটা সেরে ফেলবেন। শুরু হবে তার যুবক বয়সের কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার সংসার৷ দেশের কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবেন সেটারও পরিকল্পনা শেষ তাদের। ভেবেছিলেন রেহানাকে তালাকই দিয়ে দিবেন। কিন্তু তার আগেই তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঘটনাটা ঘটে গেলো। তারপরও তার ভালো লাগছে না কেন? কেনো ভাতের লোকমা তার গলায় এসে আটকে গেছে? কেনোই বা বারবার রেহানার সেই এক ফোটা চোখের পানির গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য বারবার ভেসে উঠছে?

গল্প - এক টুকরো লেবু
লেখক - মারিয়া কবির

এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখা হবে আরো জম্পেশ Da appetizer সকল প্রকার পিজ্জায় ৩০% ছাড় আগামীকাল ১৯-৭-২০২৬ ইং তারিখে
18/07/2026

এবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখা হবে আরো জম্পেশ
Da appetizer সকল প্রকার পিজ্জায় ৩০% ছাড় আগামীকাল ১৯-৭-২০২৬ ইং তারিখে

New flavors have arrived! ✨ Explore our updated menu below
16/07/2026

New flavors have arrived! ✨ Explore our updated menu below

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ  বাংলাদেশে হলে সবাই আমাদের এখানে খেতে আসতো
24/06/2026

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ বাংলাদেশে হলে সবাই আমাদের এখানে খেতে আসতো

শহরে এদের চাইতে হালাল ইনকাম খুব কম প্রফেশনালই করেন অথচ অনেক রেষ্টুরেন্টে দেখি এদের খুব বাজেভাবে ট্রিট করে, অনেকে টুকটাক ...
22/06/2026

শহরে এদের চাইতে হালাল ইনকাম খুব কম প্রফেশনালই করেন অথচ অনেক রেষ্টুরেন্টে দেখি এদের খুব বাজেভাবে ট্রিট করে, অনেকে টুকটাক রিজনে খুব খারাপ ব্যবহার করে বসেন উনাদের সাথে৷

মনে রাখবেন সবচে অসহায় মানুষদের সবচে ভার্নারেবল সময়ের সাময়িক পেশা এটা! যারা করেন একদম বাধ্য হয়েই করেন৷ উনাদের যথাযত সন্মান দিয়েন!

আমাদের
22/06/2026

আমাদের

13/06/2026

প্রাপ্তি বিজ্ঞপ্তি: অদ্য১৩/০৬/২৬ তারিখে এ্যাপেটাইজার রেস্টুরেন্টে কিছু টাকা পাওয়া গিয়েছে, উপযুক্ত প্রমাণ প্রদান করে টাকাটি সংগ্ৰহ করার জন্য অনুরোধ করা হইলো।

ইনশাআল্লাহ আজ থেকে প্রতিদিন পাবেন হায়দ্রাবাদী ও দম বিরিয়ানি
27/04/2026

ইনশাআল্লাহ আজ থেকে প্রতিদিন পাবেন
হায়দ্রাবাদী ও দম বিরিয়ানি

‘বাবা আসেনি এখনো?’ জহির জুতা খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করে। মেঘলা বলে, না আসেনি। বাসা থেকে যাওয়ার সময় বলেছেন ফিরতে দেরি হবে। জ...
25/04/2026

‘বাবা আসেনি এখনো?’ জহির জুতা খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করে। মেঘলা বলে, না আসেনি। বাসা থেকে যাওয়ার সময় বলেছেন ফিরতে দেরি হবে।

জহির পকেট থেকে ফোন বের করে বাবাকে একটা কল দেয়। মিনিট দুয়েক কথা বলেই ফোন রাখে। মেঘলা জিজ্ঞেস করে কি বলেছে? জহির বলে ফিরতে দুই ঘন্টার মতো লাগবে কেবল মিটিং শেষ হলো।

মেঘলা জহিরের শার্ট আর ব্যাগ নিয়ে ঘরের ভিতরে রাখে। জহিরকে জিজ্ঞেস করে কিছু খাবে কিনা। জহির বলে এক কাপ কফি যদি দাও তবে ভালো হবে, শরীরটা কেমন ক্লান্ত লাগছে।

মেঘলা রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। জহিরের সাথে মেঘলার বিয়ে হয়েছে আটমাস তেরো দিন হয়। মেঘলার স্বভাব এমন সবকিছু হিসেব করে রাখতে পছন্দ করে, এই যেমন বিয়ের এতো দিন পরেও ঠিক কবে বিয়ে হয়েছে হিসেব করে রেখেছে।

দিনাজপুর শহরের একটা তিনতলা বাড়িতে মেঘলা জহিরের সাথে থাকে। জহিরের মা বেঁচে নেই, বাবা আছেন। তিনজনের এই সংসার। অবশ্য জহিরের দুই বোন আছে। একজন দেশের বাহিরে থাকে আরেকজন রাজশাহী তার বরের সাথে। বছরে দুবার আসেন এখানে।

জহিরের কফি নিয়ে এসে মেঘলা টিভির সামনে বসে। জহির বাসায় আসলে টিভি দেখা নিয়ে দুজনের ঝগড়া হয়। মেঘলা তার পছন্দের সিরিয়াল দেখবে এদিকে জহির দেখবে খেলা। যদিও এই ঝগড়া মেঘলা উপভোগ করে।

সেদিন জহিরের অফিসে কাজের চাপ বেশি ফিরতে রাত হবে কল দিয়ে বলে। তখন মেঘলা তার পছন্দের সিরিয়াল দেখতে বসে যায়, আজকে আর টিভির রিমোট নিয়ে দুজনের ভিতরে ঝগড়া নেই, যেহেতু জহির বাসায় নেই। মেঘলার মন খারাপ হয়ে যায়। তারপর নিজেই কিছুক্ষণ পরপর জহিরের পছন্দের খেলার চ্যানেলে যেয়ে খেলা দেখে। জহিরের উপস্থিতি তখন বুঝতে পারে।

সংসার মেঘলা উপভোগ করে, জহির মানুষ হিসেবে দশে নয় পাওয়ার মতো। বাকি এক দিবে না কারন কিছু বদঅভ্যেস আছে, এই যেমন সিগারেট খায়, গোসলের পরে ভেজা গামছা বিছানার উপর রাখে, ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দরজা খোলা রেখেই চলে আসে। এসব নিয়ে মেঘলা অনেক বলেছে তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি, এখনো তেমনই আছে। যখন মেঘলা রাগ করে তখন জহির হেসে দিয়ে বলে কি করবো আমার মনে থাকে না। আর সিগারেট এখন অবশ্য বাসায় বসে খাওয়া বন্ধ করেছে, বাহিরে বসেই খেয়ে আসে।

প্রতিদিনের রুটিন মতোই জহির আর মেঘলার রিমোট নিয়ে ঝগড়া হয়। তারপর হয় চুক্তি কে কতক্ষণ দেখবে। কিছুক্ষণ পরেই কলিং বেলের শব্দ আসে। মেঘলা সোফা থেকে উঠে যেয়ে দরজা খুলে দেখে বাবা দাঁড়িয়ে আছেন।

মেঘলার শ্বশুর মনজুর হোসেন একটা ব্যাংকে চাকরি করে, আজকে রংপুর শহরে তার অফিসের একটা মিটিং ছিলো, ভোরবেলায় উঠেই চলে যান এখন রাত নয়টা চল্লিশে বাসায় ফিরে।

মনজুর হোসেন হাতের ব্যাগটা মেঘলার কাছে দেয়। মেঘলা জিজ্ঞেস করে, ফিরতে এতো দেরি হলো যে? মনজুর হোসেন বলেন, দিনাজপুরে আমার এক কলিগ ছিলো, সুদেব বাবু। এই জায়গা থেকে বদলি হয়ে গেছে দুইবছর হয়, অনেকদিন পরে আজকে অফিসের মিটিং এ দেখা হলো, মিটিং শেষে আড্ডা দিতে যেয়ে দেরি হয়ে গেলো।

মেঘলা হেসে বলল, বাবা তাহলে আপনার ছেলে আড্ডার অভ্যেস আপনার থেকেই পেয়েছে। মনজুর হোসেন হেসে বলে, বহুদিন পরে দেখা তো তাই একটু কথাবার্তা বললাম।

মেঘলা ঘরের ভিতরে আসে। মনজুর হোসেন ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়।

মনজুর হোসেন ওয়াশরুম থেকে এসে ছেলের পাশেই বসে। জহির বাবার অফিসের খোঁজ খবর নেয়। কবে অবসরে যাবে সেসব জিজ্ঞেস করে। মনজুর হোসেনের চাকরির বয়স আর একবছর তিন মাস আছে তারপরই অবসরে যাবে।

মেঘলা টেবিলে খাবার দেয়, জহির আর মনজুর হোসেনকে খাবার খেতে আসতে বলে। মনজুর হোসেন বলেন, মেঘলা মা ব্যাগটা কই রাখছো? মেঘলা বলে, বাবা আপনার রুমেই। মনজুর হোসেন বলেন ব্যাগটা একটু দাও একটা জরুরি কাগজ আছে।

মেঘলা ব্যাগ নিয়ে আসে, মনজুর হোসেন কাগজটা বের করে সাথে একটা বিরিয়ানির প্যাকেট বের করে মেঘলার হাতে দেয়।

মনজুর হোসেন বলেন, অফিসের মিটিং থেকে দিয়েছে ভাবলাম তোমার জন্যে নিয়ে আসি। মেঘলা বিরিয়ানির প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ। রংপুর শহর থেকে মানুষটা তার অফিসের মিটিংয়ের বিরিয়ানির প্যাকেট দিনাজপুর নিয়ে এসেছেন।

মেঘলার বাবাও এমন ছিলেন, অফিসে মিটিং হলে যদি ফল বা বিরিয়ানি দিতো বাসা পর্যন্ত নিয়ে আসতেন। মেঘলার বাবা নেই চার বছর হয়, আর এখন তার বিয়ে হয়েছে সে থাকে শ্বশুর বাড়ি। মেয়েদের বিয়ের পরে নাকি অনেক শখ আহ্লাদের কথা ভুলে যেতে হয়।

মেঘলা বিরিয়ানির প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে। মনজুর হোসেন বলেন, তাড়াতাড়ি নিয়ে একটু গরম দিয়ে তারপর খাও। সেই দুপুরে দিছে। মেঘলা বিরিয়ানি নিয়ে ওভেনে গরম করে। ঘ্রাণ নিয়ে দেখে এখনো ভালোই আছে।

মেঘলা প্লেটে চিকেন বিরিয়ানি নেয়, ডিমটা জহির নিয়ে নিছে। আরেকটু দিতে চাইলে জহির বলে, আমি খাবো না তুমিই খাও। মেঘলা প্লেটে অর্ধেকটা বাবার জন্যে রাখে। মনজুর হোসেন বলে আমি অনেক কিছু খেয়েছি আজকে তুমি খাও, এখন শুধু অল্প কয়টা ভাতই খাবো।

মেঘলার প্লেটে বিরিয়ানি, ঘ্রাণ নাকে আসছে। এক লোকমা মুখে দিতেই বাবার কথা মনে উঠে। মেঘলার মনে হয় সে এখনো বাবার আহ্লাদের কন্যা হয়েই আছে। বিরিয়ানি খাবার ফাকে ফাকে একবার সামনে বসা তার শ্বশুর মনজুর হোসেনকে দেখছে, মনে হচ্ছে পাশেই মেঘলার বাবা বসে আছে।

মেঘলার গলায় খাবার আটকে যায়, কাশি উঠে, জহির পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়। মেঘলার দুই চোখ পানিতে ভর্তি সাথে লাল হয়ে উঠেছে। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে নেয়। শুধু গলায় খাবার আটকে যাওয়ার কারনেই চোখে পানি জমেনি সে কথা মেঘলা জানে। মানুষ সারাজীবনই যত্নের পাগল, অফিসের মিটিং শেষে দূরের শহর থেকে ব্যাগে করে নিয়ে আসা এই এক প্যাকেট বিরিয়ানির ভিতরে যে পরিমান যত্ন লুকিয়ে আছে এই যত্নই যে মেঘলার চোখে পানি নিয়ে এসেছে, এ যে সাধারণ কোনো বিরিয়ানি না।

বিরিয়ানি
-মুস্তাকিম বিল্লাহ

হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি Da. Appetizer
24/04/2026

হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি
Da. Appetizer

Address

SS Road, Sirajgonj
Sirajganj
6700

Opening Hours

Monday 10:00 - 22:00
Tuesday 10:00 - 22:00
Wednesday 10:00 - 22:00
Thursday 10:00 - 22:00
Friday 10:00 - 22:00
Saturday 10:00 - 22:00
Sunday 10:00 - 22:00

Telephone

+8801725323344

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Da. Appetizer posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share