09/08/2026
আমার বাবা আমার কাজ পছন্দ করতো। আমার বাবা অনেক বিশ্বাস করতো আমাকে,ছোট বেলা থেকেই। আমার বাবা বিশ্বাস করতো আমি যা বলি তাই রাইট, আমি যা করি তাই রাইট। আমি মুখে কোন কথা বলছি মানে আমি তা করবোই, এই বিশ্বাসটা আমার বাবার ছিলো আমার প্রতি।
আমি যখন এস এস সি পরীক্ষা দিলাম, রেজাল্ট যেদিন দিবে, সেদিন সকালেই অনেক মিষ্টি কিনে নিয়ে আসলেন। রেজাল্ট তখনো দেয় নি, আমি মিষ্টি দেখে কান্না করতে করতে শেষ ভয়ে।
যদি কোন কারনে রেজাল্ট খারাপ হয়। কিন্তু আমার বাবা বললো আমি জানি তুমি ভালো করবা। দুপুরে তো ভিড় থাকবে ভালো মিষ্টি পাবো না। বাবাকে সেদিন আল্লাহ খুশি করলেন আলহামদুলিল্লাহ।
রাস্তায় কোন স্যারের সাথে দেখা হলে, স্যার যদি আমার প্রশংসা করতো, আমার বাবার বুক গর্বে ভরে যেত। বাড়িতে আসলে আমারে সেদিন আরও বেশি আদর করতো।
আমার বাবা ভরসা করতো আমি পারবো।সবসময় বলতো তুমি আমার ছেলে। সবার কাছেই বলতো এ কথা।
বাবার সবচেয়ে কাছাকাছির ছিলাম আমি। সব কথা আমার সাথে শেয়ার করতো। যেদিন লাস্ট আমার বাসায় আসলো, বের হয়ে যাওয়ার সময় সূরা পড়ে আমার মাথায় ফু দিলো,কপালে একটা আদর দিলো। মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলো। আব্বা বের হয়ে লিফটের সামনে। আমি তাকিয়ে আছি,আব্বা বলে বাবা তুমি ভিতরে যাও। দুইবার বলছে কথাটা। আমি বলি আব্বা আপনি যান, তারপর যাচ্ছি। লিফট আসলো আব্বা চলে গেলো। আর আসবে না... 😔
আমাদের চার ভাইবোনই ছিলাম আমার বাবার কলিজা। আমাদের চার ভাইবোন ছাড়া কিচ্ছু বুঝতো না। এত আদর করতো, পুরো মাধবদীর মানুষ তা বলাবলি করতো। এত আদর করতো, ছোট থেকে বড় হয়েছি কখনো ভাত মেখে খেতে হয় নি। কত যত্ন করতো তা আল্লাহ জানেন।
কখনো তুই করে ডাকেন নি। সবসময় ডাকতো বাবা কি করো, খাইছো, তোমার শরীর কেমন,মাথা ব্যাথাটা আছে?? বাবা বাবা বাবা, একটা কথায় বাবা ডাকতো তিন চার বার। এখন আমরা ভাইবোন বাবা ছাড়া। আমাদেরকে কেউ আর বাবা বলে ডাকবে না। এ শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না, এ ক্ষত কখনো সারবে না। এ কষ্ট সহ্য করতে পারি না। 😔
আমার বাবা সারাদিনে কয়েকবার কল দিতো। কি করি,খাইছি কিনা, বাসায় ফিরছি কিনা, রাতে কখন ঘুমাবো সব খবর নিতেন প্রতি মুহূর্তে। আমার বাবার মত এত আদর আর কেউ করবে না।
বাবা যেদিন মা রা গেলেন, আগের দিন সকালে কল দিয়ে, আমার শরীর কেমন জিজ্ঞেস করলেন, বাবা তোমার শরীর কেমন, খাইছো, মাথা ব্যাথা কমছে বাবা? কথা শেষ করে ২ মিনিট পর আবার কল দিলেন, বাবা আমার মোবাইলে জানি কি হয়েছে, তোমার পোস্ট গুলো শেয়ার করি, শেয়ার হয় না।
আমি বললাম আব্বা শেয়ার হবে, টেনশন কইরেন না। হয়তো ফেসবুকের আপডেট। বলে অহ আচ্ছা বাবা।
আমার পোস্ট গুলো করার সাথে সাথে আমার বাবা শেয়ার করতো। সব পোস্ট, একটাও বাদ নাই। আমার বাবা ছিলো আমার কাজের অনুপ্রেরণা,শক্তি।
সেদিন দুপুরে আবার কল দিলো,ভিডিও কল। আমি বললাম আব্বা আমি একটু শুইছি,একটু পরে শপে যাব। আব্বা বলে বাবা তোমারে দেখতাম একটু। আমি আবার কল দিলাম। আব্বারে সেদিন এমন সুন্দর লাগছে, জসিম পাশেই ছিলো।
বলতাছিলাম আব্বারে আজকে সুন্দর লাগতাছে। কে জানতো আমার বাপ সকালে চলে যাবে। আর কোন দিন এই নূরানী চেহারা দেখবো না। 😔
রাতে বাড়ি ফিরতে আমার লেট হলো। শপে অনেক কাজ করছি শরীর টায়ার্ড। বাসায় ফিরে বিদ্যুৎ নাই। আই পি এসে ওয়াইফাই চলে।কিন্তু সেদিন চললো না। আব্বা যে ১০.৫৭ এর দিকে আমার পেইজের পোস্ট ইনবক্সে দিছে, দেখি নি। সারারাত ঘুম হয় নি। আব্বার সাথে সবসময় কথা বলে ঘুমাই। সেদিন কথা হয় নি। কেমন যেন অস্থিরতা। সারারাত এমন করছি। সকালে তো নাস্তার টেবিলে বসে আব্বা আর মার সাথে কথা বলি তারপর কাজ করি। সেই টেবিলে বসতেই মার কল, আমাদের সব শেষ এখানেই। সব আনন্দ, সব খুশি, হৃদয়ের শান্তি সব শেষ। আমাদের কলিজার টুকরা ঘুমিয়ে আছে শিশু বাচ্চার মত।
আমার মাকে ভালো রাখতে হবে। শক্ত হতে হবে। আমার বাবার সপ্ন পূরণ করতে হবে। পারতে হবে, পারতেই হবে।আমি জানি আমার বাবার দোয়া সাথে আছে সবসময়।😔