23/12/2023
পিঠা কাহিনীর সাত কাহন: ডাক্তার জেরজিনা রহমান (ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন মিরপুর ঢাকা)
শীত এসেছে, কেউ পিঠা খাওয়ালো না এবার। কি দুঃখের কথা। কি আর করা, ভাবলাম নিজেই একটা পিঠা উৎসবের আয়োজন করে ফেলি, আত্মীয় বন্ধুদের নিয়ে। শুধুমাত্র প্রয়োজনেই নয়, অপ্রয়োজনেও যে আনন্দের মুহুর্ত গড়ে তোলা যায়, সেটা দেখতে ইচ্ছে করল।
আমার আত্মীয় পরিমন্ডল একদম ছোট নয়, তার উপর আছে বেড়াইন্ন্যা গ্রুপ। তবে তারমধ্যেও কেউ অসুস্থতার কারণে যেতে রাজি হলেননা, কেউ ঢাকায় নেই বলে, কেউ ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন বলে, কেউ শীতের সকালে ঘুম ভেঙে উঠতে কষ্ট হবে ইত্যাদি কারণে যেতে রাজি হলেন না।তারপরেও নেই নেই করে পিতৃকূল মাতৃকূলের এবং বেড়াইন্ন্যা গ্রুপ সব মিলিয়ে জনা চল্লিশেক হইচই করে শুক্রবারের সকালে বাচ্চাকাচ্চা সমেত মিটিং পয়েন্টে আসতে রাজি হয়ে গেলেন।
আর ড্রাইভার সমেত প্রায় পঞ্চাশ জনের জন্য এই সাতসকালে যারা চার পাঁচ রকমের পিঠা বানাতে এককথায় রাজি হয়ে গেলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে অন্যায় হয়ে যাবে।
আমি খুঁজছিলাম এমন একটা জায়গা যেখানে একটু গ্রামীন পরিবেশ থাকবে, আবার শহর থেকে বেশি দূরেও থাকবে না, খাদ্যমান নির্ভেজাল পাবো, আবার স্বাদেও হবে চমৎকার।
সবগুলি ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করতে এগিয়ে এলো মানিকগঞ্জের বেউথা মোড়ের ব্রিজের পারে অবস্থিত গাঙ রেস্টুরেন্ট। ধন্যবাদ গাঙের সবাইকে, যারা আগের দিন থেকে খেটেপিটে তৈরি করেছেন এতগুলো দুধ চিতই, পাটিসাপটা, আবার সকাল হতেই গরম গরম ভাপা পিঠা বানাতে একদল ব্যস্ত হয়ে গেলেন।
আমরা গিয়ে পৌঁছেছি অনেক দেরিতে, তাও তারা হাসিমুখে আমাদেরকে বসার জায়গা দেখিয়ে খাবার সার্ভের প্রস্তুতি নিলেন।
গাঙ রেস্টুরেন্টটি আমার বেশ ভালো লাগে, কালীগঙ্গা নদীর ধারে, ছোট ছোট ওপেন কটেজে বসার ব্যবস্থা, এক একটি কটেজের এক এক নাম। ভিতরে আঙ্গিনা, নানারকম গাছের শ্যামল ছায়ায় ঘেরা।নদীর ধারের বারান্দাটি উন্মুক্ত, চেয়ার পেতে বসলে দূরে বেউথা ব্রিজ দেখা যায়, নদীতে সব সময় আসা যাওয়া করছে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ছাড়াও বড় বড় ট্রলার, বালি ভরা বার্জ। শীতেও এই নদীতে নাব্যতা ভালোই, বর্ষায় তো ভরভরতি থাকে পানিতে।
তো, ৪০/৪২ জনের দল টি খাবার আসার আগে পর্যন্ত, ছবি তুলল বারান্দায় দাঁড়িয়ে, ইয়ং গ্রুপ ব্যাডমিন্টন খেলল, পিচ্চিগুলা দৌড়াদৌড়ি করল, বাকিরা নির্ভেজাল আড্ডা দিল। তারপর প্লেট ভরে ভরে চলে এল ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা, নরম পাটিসাপটা, সদ্য ভাজা ঝাল পুলি, আর তারপর দুধ চিতই।মানিকগঞ্জের খেজুরের গুড়ের অনেক সুনাম, আর গরুর খাঁটি দুধের ক্ষীর দেওয়া পাটি সাপটা। সবাই খুবই মজা করে খেয়ে ফেলল।
আমার কর্তা একটু পরে এলেন, আমরা দুজন তাই সবশেষেই খেলাম। ছবি তোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজন সমানে ছবি তুলতে লাগলো।ফটোসেশন আর শেষ হয়না। আঙ্গিনায় বারবিকিউ করার ব্যবস্থা দেখে ইয়ং গ্রুপটা তো প্ল্যান করে ফেলল এখানে আবার আসবে, নিজেরা বারবিকিউ করে খাবে। অবশেষে দুপুর গড়িয়ে আসছে দেখে সবাই ছুটলাম বাড়ির পানে।সুন্দর একটা দিন কাটালাম।
ধন্যবাদ গাঙ রেস্টুরেন্ট।