22/09/2026
আমাদের ক্যাফে শুরু হওয়ার পর থেকেই একটা জিনিস বেশ ভালো লেগেছে—কিছু গেস্ট শুধু ক্যাফেতে আসেন না, ক্যাফেটাকে নিজেরও মনে করেন।
ফেসবুকে আমাদের কোনো পোস্ট আসলে একজন আপু প্রায় নিয়ম করেই খুব সুন্দর সুন্দর কমেন্ট করেন।
আর কেউ যদি সেখানে একটু নেগেটিভ কিছু বলেন, ব্যস।
আপু হাজির। 😐
কখনো আমাদের হয়ে উত্তর দিচ্ছেন,
কখনো ভুলটা ধরিয়ে দিচ্ছেন,
কখনো আবার এমনভাবে সাপোর্ট করছেন, মনে হয় ক্যাফেটার মালিকানার একটু অংশ উনারও আছে।
প্রথম দিকে বিষয়টা বেশ মজার লাগত।
পরে একসময় কৌতূহল হলো—
আপু আসলে কে?
আমি স্টাফদের জিজ্ঞেস করি।
— উনাকে চেনেন?
সবাই বলে,
— না।
মার্কেটিং টিমকে জিজ্ঞেস করি।
— উনি কি আপনাদের পরিচিত কেউ?
উত্তর একই।
— না তো!
আমরা ভাবলাম, হয়তো আমাদের খুব পছন্দ করেন।
সেটাই হবে।
কিন্তু ব্যাপারটা এক-দুই মাসের না।
ছয়-সাত মাস ধরে উনি নিয়মিত আমাদের টপ কমেন্টারদের একজন।
ক্যাফের কোনো সমস্যা হলে সাপোর্ট আছে।
কেউ কিছু বললে সাপোর্ট আছে।
নতুন কিছু পোস্ট করলে সেখানেও সাপোর্ট আছে।
একসময় মনে হলো, এতদিন ধরে যে মানুষটা আমাদের পাশে আছেন, তাকে একটা coffee treat দেওয়া যাক।
তাই মেসেজ দিলাম—
“আপনি যেহেতু আমাদের এত সাপোর্ট করেন, আমাদের পক্ষ থেকে একটা ছোট্ট coffee treat থাকলো। যেকোনো সময় ক্যাফেতে এসে কাউন্টারে এই মেসেজটা দেখালেই হবে।”
উনি খুব খুশি।
আমরাও খুশি।
মনে হলো, এবার তাহলে দেখা হবে সেই রহস্যময় আপুর সাথে।
চার-পাঁচ দিন পর একজন গেস্ট ক্যাফেতে এলেন।
কাউন্টারে এসে ফোন বের করে বললেন,
— এই মেসেজটা আমাকে দেওয়া হয়েছিল। একটা coffee treat পাওয়ার কথা।
আমরা মেসেজটা দেখলাম।
তারপর গেস্টের দিকে তাকালাম।
আবার মেসেজের দিকে তাকালাম।
একটু থামলাম।
কারণ এতদিন ধরে যাকে আমরা “আপু” বলে জেনে এসেছি, ব্যাপারটা আসলে তেমন না। 😐
এরপর আর বেশি কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি।
আইডিটা কার, ছবিগুলো কী, এতদিন ধরে কে আমাদের হয়ে যুদ্ধ করে গেলেন—এসবের investigation-ও আর করা হয়নি।
শুধু coffee-টা দিয়ে দেওয়া হলো।
কারণ একটা জিনিস অন্তত নিশ্চিত—
মানুষটাকে আমরা হয়তো ঠিকমতো চিনি না,
কিন্তু ছয়-সাত মাস ধরে আমাদের হয়ে যে ভালোবাসাটা দেখিয়েছেন, সেটা একদমই fake ছিল না।
আর উনি আসলে কে?
সেটা থাক।
কিছু mystery বোধহয় সমাধান না করাই ভালো।
ক্যাফে ডায়েরি।