11/01/2026
লেখকের কথা
১৩৯৬ হিজরির রবিউল আওয়াল মাসে পাকিস্তানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সীরাত সম্মেলনে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে রাবেতা আলমে ইসলামি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেন যে, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত বিষয়ে মানসম্মত গ্রন্থ রচনার প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে পঞ্চম স্থান অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করা হবে।
এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনাদর্শের গভীর গবেষণার মাধ্যমে তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আমার কাছে এ উদ্যোগ যেন মানবতার জন্য এক বড় আশীর্বাদ। এটি শুধু ইসলামের নবজাগরণেই নয়, বরং শান্তি, কল্যাণ এবং নৈতিকতার ধারাবাহিকতায়ও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত এমন এক অফুরন্ত আলো, যা সমস্ত মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক হতে পারে।
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তাঁর পবিত্র জীবনচরিত নিয়ে গভীর চিন্তা করতে গিয়ে আমার অন্তরে একটি তীব্র আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়। মনে হলো, এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা আমার জীবনের জন্য এক বড় সৌভাগ্যের কারণ হতে পারে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই একটি প্রশ্ন আমাকে ভাবনায় ফেলে দেয়ড়আমার সীমিত জ্ঞান ও যোগ্যতা কি তাঁর অতুলনীয় জীবনাদর্শ যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে?
আমার বিশ্বাস, যদি আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশও সঠিকভাবে ধারণ করতে পারি, সেটাই হবে আমার জীবনের সেরা অর্জন। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে মানবিকতা, ন্যায়পরায়ণতা ও কল্যাণের পথে চলতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করব। আর আল্লাহ তাআলার অশেষ করুণায় তাঁর শাফায়াতের আশায় যদি আমার পাপরাশি মোচন হয়, সেটাই হবে আমার একমাত্র কামনা।