03/07/2026
শাওনের সাথে প্রথম ও শেষবার দেখা হয়েছিল ২০১৮ সালের জুলাইতে একটা প্রাইভেট পার্টিতে। সিগারেট শাওনের খুব পছন্দ। ভেন্যুর বাইরে আমি সিগারেট খাচ্ছিলাম একা একা। । শাওন পাশে কেউ একজনের সাথে কথা বলছেন। একটা সিগারেট ধরালেন। বেনসন। কিন্তু ওনার পছন্দ মার্লবোরো এডভান্স। উনি বেনসন খেতে পাছেন না। আমি শুনে একটু দুই কদম এগিয়ে মার্লবোরো প্যাকেট এগিয়ে দিলাম। গুনে গুনে ৪টা সিগারেট নিলো। কিন্তু ধন্যবাদ দিলো না শাওন ।
সিনেমাতে দেখে যতটা ভালো মনে হয়েছিল, ব্যক্তি জীবনে শাওনের ব্যবহার বেশ অশালীন। অশালীন বলতে উনি মোটামুটি গালি দিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে । সিগারেট খেতে খেতে শাওন ওই পুরুষ মানুষটার সাথে মোটামুটি ৭/৮ বার গালি ব্যবহার দিয়েছে (বাল, সা*উয়া ইত্যাদি ...)
যদিও তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে যতটুকু বুঝেছি কোনও এক সরকারি প্রজেক্টের ৬৫ লাখ টাকার বিল পাশের ব্যাপারে কথা বলছেন।
শাওন সেদিন গান গেয়েছিলেন, আহা কী মধু তার গলায়। তবে সেটার আলাদা কারণ আছে। সেটা হলো চোখ লাল। প্রচুর লাল। এক বন্ধুকে জিগেস করলাম কেমনে এতো সুন্দর গলা? বন্ধু বলল, উনি গাঁজা খেয়েছেন। গাঁজা খাওয়া ছাড়া নাকি ওনার গলা দিয়ে তেমন সুর বের হয় না। আমি বিশ্বাস করিনি। তখন সে বলল, বিভিন্ন টিভি প্রোগ্রামে দেখিস, শাওনা ৩/৪ লাইনের বেশি গায় না, আবার তেমন সুরও তখন গলায় থাকে না । তবে উনি যখন প্রাইভেট পার্টিতে গান গায়, তখন গাঁজা খেয়েই গান গায়। এতে ইনজয়ও করে, সুরও ভালো হয়। আমার ওই বন্ধুটা শাওনের খুব কাছের ছোট ভাই, তাই বিশ্বাস করতেই হলো। আর শাওনের অতিরিক্ত হাসাহাসি উচ্ছ্বাস , দেখে কিছুটা সেরকমই লেগেছিল!
মজার ব্যাপার হলো, মোস্তফা সরোয়ার ফারুরীর 'ডুব' সিনেমা রিলিজ এর সময় সেন্সর বোর্ডে অভিযোগ করে সিনেমা আটকে দিয়েছিল এই মেহের আফরোজ সাওন। ফারুকী ভাইয়ের সাথে তখন আমার দুই/চার বাক্য কথা হয়েছিল!
আমি ফারুকী ভাইকে জিগেস করলাম, শাওন যে বলল, এটা হুমায়ূন আহমেদের বায়োকপি, এটা তো সত্য না, আর হলেও এর সমস্যা কী?
ফারুকী ভাই বলল, 'হুমায়ূন আহমেদ শাওনের বাপ লাগে'
সেদিন উনি ওটা ভুল বলেছেন। এটা এই লিখার মাধ্যমে আজ বললাম, হুমায়ূন আহমেদ শাওনের বাপ নয়, বরং শাওনের বান্ধবীর বাপ হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ। মানে শাওন তার বান্ধবীর বাপরে প্রেমের ফাঁদে ফালাইয়া বিয়ে করছে। অবশ্য এতে স্বার্থও আছে। সেটা হল ক্যারিয়ার। হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী হয়ে নাম, জশ খ্যাতি কোন কিছুই বাদ যায়নি শাওনের। টাকা পয়সা সম্পত্তির কথা বলে তো শেষ হবে না।
হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছে বহু বছর। ২০১৭ সালে নুহাস হুমায়ূনের সাথে একবার ফোনে কথা হয়েছিল, ৯ মিনিটের কনভারসেশনে আমি শাওনের কথা জিগেস করেছিলাম, উনি এক লাইনে স্কিপ করে গেলেন বা এড়িয়ে গেলেম! শুধু বললেন যে, ''আপনি ওই লোভী মহিলার ব্যাপারে ১ সেকেন্ড কথা বললে সেটাই আপনার লস বা ক্ষতি!''
এই বাক্যে বুঝলাম, দুচোখের কোণায় সহ্য করতে পারেন শাওনকে। শুধু নুহাস নয়, হুমায়ূন পরিবারের কেউই পছন্দ করেন না নামক মহিলাকে । ওনাদের পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস করার জন্য নুহাশ ও তার বোনেরা সবাই শাওনকে দায়ী করেন। যদিও শাওন গা ছাড়া ভাব। কারণ ওর তো দরকার সবার পরিচিত মুখ হওয়া, আর হুমায়ূন আহমেদের টাকা আর সম্পত্তি। যেটা তিনি পেয়েছেনও। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন ভগিচগি প্রজেক্ট আর টেন্ডার নিয়ে কাজ করেও বেশ কয়েক কোটি টাকা কামিয়েছে। যেটা ওনার জীবদ্দশায় শেষ হবে না। তবে ,যেটা শেষ হয়ে গেছিল সেটা হচ্ছে পাবলিক এটেনশয়ান। মানুষ শাওনকে ভুলে গেছে। তাই সে জুলাই নিয়ে #জুলাইCDI লিখে পোস্ট করছে। তবে এখন আবার দেখছি হাজার হাজার মানুষ সেটার প্রতিবাদে লিখছে #শাওনCDI , তবে যে যাই বলুক, আমি না, ফ্রিতে দিলেও না।
লেখক :--আতাউর রহমান ( ফ্রীল্যান্সার সাংবাদিক)