29/10/2023
৩০/১০/২০০৪ইং
কর্ম জীবনের শুরু হয়েছিল। দেখতে দেখতে ২০টি বছর পার করলাম। এই দিনেই শুরু করেছিলাম জীবনের নতুন এক অধ্যায়। এ এক অন্য অনুভুতির পরশ। এই দিনটি আসলে যেমন খুশির এক ছোয়া হৃদয়ে অনুভব হয়। তেমনি বিগত দিনে জীবনে আসা চরম বাস্তবতা গুলিও হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে। মনে পড়ে বেকার জীবনের চরম কষ্টের দিন গুলি। মনে পড়ে একদিনের কথা। সে দিন আমি সেনা বাহিনীতে ভর্তি হওয়ার জন্য দিনাজপুর যাব। বাবা কে বললাম কালকে সেনা বাহিনীতে লোক নিবে দিনাজপুরে। আমি যাব টাকা লাগবে। বাবা বলছিল টাকা তো নাই দেখি কোথাও পাই নাকি। পরের দিন সকাল বেলা আমাকে ৭০ টাকা দিয়ে বলছিল, এই টাকাই আছে পারলে যাও, না হলে থাক যাওয়ার দরকার নাই। আমি বিনিময়ে হেসে বলছিলাম ধুর এতো টাকা লাগে নাকি এটাই হবে। বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে আমিসহ বন্ধুরা মিলে দিনাজপুর গেলাম। গিয়ে দেখলাম হাজার হাজার ছেলে এসেছে সেনা বাহিনীতে ভর্তি হওয়ার জন্য। আহত মন নিয়ে লাইনে দাঁড়ালাম। লাইনে টিকলাম। প্রাথমিক মেডিক্যালে টিকলাম। রিটার্ন পরিক্ষায়ও টিকলাম। এবার মনের মধ্যে স্বপ্ন বাসা বাধা শুরু করলো। মনে হচ্ছিল সেনাবাহিনীতে মনে হয় চাকুরীটা হয়ে যাবে। কিন্তু ভাগ্যের কি চরম নিলা খেলা ফাইনাল মেডিক্যালে আমাকে আউট করা হল। ততক্ষণে রাত প্রায় ৭টা বাজে। বন্ধুরা সব আগেই চলে এসেছে। আর আমার পকেটে ৭০ টাকার মধ্যে রয়েছে ১০ টাকা। মন দুরু দুরু করছে রেল স্টেশনে ট্রেন পাব কি না। দিনাজপুর স্টেডিয়াম মাঠ থেকে হেটে গেলাম রেলস্টেশনে। গিয়ে দেখি ট্রেন নাই। রাত ৯টার পরে একটা ট্রেন আছে বললো স্টেশন মাস্টার। পরে স্টেশনে অপেক্ষা করে সেই ট্রেনেই পার্বতীপুরে আসলাম। এই সময়ের মধ্যে পেটে যে ক্ষুদার যন্ত্রণা সেটা শেয়ার করতে পারলাম না।
যাই হোক এভাবেই চলছিল সেনা, বিজেপি, নৌ, বিমান,আনসার ব্যাটালিয়ান, ও পুলিশ, বাহিনীতে যোগদানের আপ্রান প্রচেষ্টা। কারণ অন্য কোন জায়গায় চাকুরী করার ক্লাস আমার নাই। বেশি ক্লাস লেখা পড়া করার ভাগ্যে আমার জোটে নাই।
এর মধ্যে বাবা মারা গেলেন। এবার পুরো দুনিয়াটাই যেন অন্ধকার হয়ে গেল। বাবার খুবই ইচ্ছা ছিল ছেলে আমার কোন না কোন বাহিনীতে চাকুরী করবে। বাবা নামক বটগাছটা মাথার উপর থেকে সরে গেল আর তখনেই আমিও দেখতে শুরু করলাম দুনিয়ার বৈচিত্রময় রুপ। দেখেছি কত মানুষ রুপি হায়েনা কে।
শুরু হলো বাউন্ডেলে জিবন যাত্রা। প্রাইমারি স্কুলের মাঠে বসে রাতের পর রাত জাগা। বন্ধু-বান্ধবের সাথে অসুস্হ জীবনযাত্রা। সব কিছুর সমাপ্তি ঘটিয়ে আল্লাহ যেন মুখ তুলে চাইলেন। আল্লাহ যেন বাবার মনের আশাটা পূরণ করেছেন। এই দিনেই আমার রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকুরী হয়। চাকুরী হলো ঠিকই আমার বাবা সেটা দেখে যেতে পারলো না।
পরিশেষে বলতে চাই আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীতে চাকুরী দিয়ে আমার হালাল রিজিকের ব্যাবস্হা করেছেন। আমি গর্বিত আমি একজন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। ততসঙ্গে সবার কাছে দুআর মুহতাজ আল্লাহ যেন আগামী দিন গুলি নেক হায়াতের সহিত ন্যায়, নিষ্ঠা,ও সততার সাথে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার তৌফিক দান করেন।