24/10/2024
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ নিয়ে আজ তোমরা আনন্দ করছ, করো। খুব ভালো। তোমরা শুধু গল্পের একটা অংশই দেখতে পাও। গল্পের অন্ধকার অংশ টা তোমাদের চোখে পড়ে না।
তোমরা কি একজন বাবার কষ্ট বুঝতেছ? যার যুবক ছেলে পড়ালেখা চলাকালীন অবস্থায় লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করে এনে বাবার মুখে হাসি ফোটাতো? পরিবারের হাল ধরত?
তোমরা কি সেই কৃষকের বেদনা বোঝার চেষ্টা করছ? আগামীবছর কিভাবে ধান কাটা হবে, কে তার হাত থেকে কাচি কেড়ে নিয়ে মাঠে ঝাপিয়ে পড়বে, কিভাবে সে ঘরে তুলবে সোনার ফসল, সেই চিন্তায় যার রাতে ঘুম হচ্ছে না?
তোমরা কি সেই বোনের মনের দুঃক্ষ টা বুঝতেছ? যার অসম্মানে সবার আগে এগিয়ে যেত ছাত্রলীগ। আজকের পর থেকে কি কোনো বোন অসম্মানিত হওয়ার সাহস দেখাবে?
সেই হেলমেট ব্যবসায়ীর কথা কি তোমরা একবারো ভেবেছ? দিন প্রতি কয়েকটা হেলমেট বিক্রি করে যার সংসার চলত? কাল থেকে তার বউ বাচ্চার মুখে সে কিভাবে খাবার তুলে দিবে?
তোমরা কি সেই যুবক ছেলেটার কথা একবারো ভেবেছ যে আজ সারারাত হৃদয় ভাঙার কষ্টে বুক ভাসিয়ে কাঁদবে। প্রেম ভাঙার তীব্র বেদনায় যার সবকিছু তোলপাড় হয়ে যাবে৷ তোমরা কি ভুলে গেছ, যৌবনের প্রথম প্রেমের নাম ছাত্রলীগ৷ প্রথম প্রেম কি কেউ ভুলতে পারে?
তোমরা কি সেই টোকাইগুলোর কথা ভেবেছ, যারা কতদিন বিরিয়ানি খায় না৷ কোকের বোতলে চুমুক দেয় না৷ সিঙ্গারা পায় না ফ্রিতে। ওদের কি ভালোমন্দ খেতে ইচ্ছা করে না?
তোমরা মনে রেখ, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু ছাত্রলীগ হারিয়ে যাবে না। ছাত্রলীগের নাম লেখা থাকবে হাজারো তরুনের রক্তে, হকিস্টিকের বাটে, রামদার ফলায়, চাইনিজ কুড়ালের হাতলে, আবরারের কাফনে, বিশ্বজিতের রক্তাক্ত শরীরে, বাইক ছাড়া হেলমেটের চুড়ায়, নারীর ইজ্জ্বতে, ভার্সিটির র্যাগে, হলের গনরুমে, চাঁদার টাকায়, টেন্ডারের কাগজে, কোক সিঙ্গাড়া আর বিরিয়ানির বক্সে।
আমি অপেক্ষা করব হে ছাত্রলীগ তোমার জন্য৷ আমি জানি তোমরা ফিরবে। আমি জানি ছাত্রলীগ ফিরবে। একদিন না একদিন এই বাংলার মাটিতে তোমরা আবার রাজ করবে৷ সেদিন এই লেখাটা তোমাদের চোখে পড়বে৷ এই লেখার মর্ম তোমরা বুঝবে৷ সেদিন নিশ্চয় তোমরা আমাকে ফোন দিয়ে বলবে, "সোহাইল ভাই, একটু নিচে নামেন। আপনার জন্য একটা ফুড পান্ডার অর্ডার আছে...!".)
Copied