25/07/2014
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
যে-সকল লোক রাত্রিতে বা দিনে গো পনে বা প্রকাশ্যে তাদের ধনসম্পদ দান করে, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাই তাদের কোনো ভ্য় নেই ও তারা কোনো দুঃখও পাবে না। যারা সুদ খায় তারা সেই লোকের মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ ক’রে পাগল ক’রে দিয়েছে। এ এজন্য যে তারা বলে, ‘বেচাকেনা তো সুদের মতো’। অথচ আল্লাহ্ বেচাকেনাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন। যার কাছে তার প্রতিপালকের উপদেশ এসেছে সে বিরত হয়েছে। অতীতে যা হয়েছে তা তারই এবং তার ব্যাপার আল্লাহ্র এখতিয়ারে! আর যারা আবার (সুদ) নিতে আরম্ভ করবে তারাই আগুনে বাস করবে।সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ্ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন ও দানকে বৃদ্ধি ক’রে দেন। আল্লাহ্ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে ভালোবাসেন না। যারা বিশ্বাস করে ও সৎকার্য করে এবং নামায কায়েম করে ও জাকাত দেয়, তাদের পুরস্কার আছে তাদের প্রতিপালকের কাছে। তাদের কোনো ভয় নেই, আর তারা কোনোরকম দুঃখও পাবে না। হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করো ও সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও। যদি তোমরা না ছেড়ে দাও তবে জেনে রাখো যে, এ আল্লাহ্ ও তাঁর রসুলের সাথে যুদ্ধ। কিন্তু যদি তোমরা তোবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা জুলুম করো না ও জুলুম হতেও দিয়ো না। যদি (খাতক) অভাবী হয়, তবে তাকে সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও। আর যদি ঋণ মাফ ক’রে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও ভালো, যদি তোমরা তা জানতে! আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহ্র কাছে ফিরিয়ে আনা হবে তারপর প্রত্যেককে তার কর্মফল পুরোপুরি প্রদান করা হবে। আর তাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না।
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সাথে ঋণসংক্রান্ত কারবার করবে, তখন তা লিখে রেখো, আর তোমাদের মধ্যে কোনো লেখক যেন ন্যায্যভাবে লিখে দেয়। লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। যেহেতু আল্লাহ্ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন, সুতরাং সে যেন লেখে। আর ঋণগ্রহীতা যেন লেখার বিষয় ব’লে দেয় ও তার প্রতিপালক আল্লাহ্কে ভয় করে, আর কিছু যেন কম না লেখায়।কিন্তু ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ বা দুর্বল হয় বা লেখার বিষয়বস্তু ব’ল দিতে না পারে, তবে যেন তার অভিভাবক ন্যায্যভাবে লেখার বিষয়বস্তু ব’লে দেয়। আর তোমাদের পছন্দমতো দুইজন পুরুষকে সাক্ষী রাখবে, আর যদি দুইজন পুরুষ না থাকে, তবে একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রীলোক। স্ত্রীলোকদের মধ্যে একজন ভুল করলে তাদেরকে অন্যজন স্মরণ করিয়ে দেবে। সাক্ষীদেরকে যখন ডাকা হবে তখন যেন তারা অস্বীকার না করে। আর এ (ঋণ) কম হোক বা বেশি হোক, মেয়াদ লিখতে তোমরা বিরক্ত হয়ো না। আল্লাহ্র কাছে এ বেশি ন্যায্য ও প্রমাণের জন্য বেসি পাকাপোক্ত; আর তোমাদের মধ্যে যেন সন্দেহ না জাগে তার জন্য প্রশস্ত। কিন্তু তোমরা পরস্পর যে-ব্যাবসার নগদ আদানপ্রদান কর তা তোমরা না লখে রাখলে কোনো দোষ নেই। তোমরা যখন পরস্পরের মধ্যে বেচাকেনা কর তখন সাক্ষী রেখো। লেখক ও সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, যদি তোমরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কর তবে এ হবে তোমাদের জন্য অন্যায়। তোমরা আল্লাহ্কে ভয় করো। আল্লাহ্ই তো তোমাদেরকে সিক্ষা দেন। আল্লাহ্ সকল বিষয়ে ভালো করেই জানেন। যদি তোমরা সফরে থাক এবং কোনো লেখক না পাও তবে বন্ধক রাখা বৈধ। তোমরা একে অপরকে বিশ্বাস করলে জাকে বিশ্বাস করা হয় সে যেন আমান্ত ফেরত দেয় এবং তার প্রতিপালক আল্লাহ্কে যেন ভয় করে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না। প্রকৃতপক্ষে যে তা গোপন করে তার অন্তর তো অপরাধ করে। তোমরা যা কর আল্লাহ্ তা ভালো করেই জানেন।
সূরা আল বারাকা, রুকু ( ৩৮ - ৩৯ ), আয়াত ( ২৭৪ -২৮৩ )