03/06/2026
ইয়া রাব্বুল আলামীন তুমি এমন বদ সন্তান কাউকে দিও না।
মারা যাবার পরেও দেখতে আসার সময় হয়নি এই ছেলেদের! আহারে মা জননী!আশেপাশের সবাই ঈর্ষান্বিত চোখে দেখত নুরজাহান বেগমকে। সবাই বলত, "রত্ন ধরেছ পেটে।" প্রত্যেকটি ছেলে-মেয়ে তুখোড় মেধাবী। স্বামী ছিলেন শিক্ষক। মেয়েকেও ভালো পাত্রের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। নুরজাহান বেগমকে তিনি বলতেন, তার সন্তানরা দেশসেরা হবে। অথচ আজ সেই সন্তানরাই দেশসেরা কুলাঙ্গার!নুরজাহান বেগম কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। মনে রাখতে পারতেন না ঠিকঠাক। ছেলেরা কেউ নেয়নি নুরজাহান বেগমের দায়ভার। তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ জীবনে বড্ড ব্যস্ত! তাই মায়ের সমস্ত ভার পড়ে মেয়ের কাঁধে।নুরজাহান বেগম মেয়ের বাড়ির এক অন্ধকার স্টোর রুমে পড়ে থাকতেন। যেখানে কয়েক বছর ধরে ময়লা জমে আছে, পরিত্যক্ত জিনিসপত্রের স্তুপ। কেউ ঢোকে না এই রুমে। নুরজাহান বেগমকে তারা নিজেদের 'স্ট্যাটাস' অনুযায়ী মানিয়ে নিতে পারছিল না। তাই তাকেও যেন ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয়েছিল কোনমতে।কুরবানির আনন্দে সবাই যখন মেতে আছে, চারদিকে ভালোমন্দ রান্না হচ্ছে, ঠিক তখনি জীবনের শেষ দিন গুনছিলেন নুরজাহান বেগম। কেউ খোঁজ নেয়নি মায়ের। না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায় নিঃশব্দে চলে গেলেন ওপারে। এমনকি মারা যাবার পরেও ছেলেদের সময় হয়নি মাকে শেষবার দেখতে আসার!প্রিয় সন্তানদের ছোট ছোট হাত, চোখ টিপটিপ করে খিলখিল করে হেসে গড়াগড়ি খাওয়া—সব কি মনে পড়েছিল মৃত্যুর সময়ে? তখন কি একটু পানি খেতে চেয়েছিলেন এই দুঃখিনী মা? প্রিয়তম স্বামী কি সেই ছোট্ট পরিবারের ঈদের আনন্দটুকু মনে করিয়ে দিতে এসেছিলেন নুরজাহানকে? বিদায়বেলায় কি এই মা জননী কেঁদেছিলেন, ঠিক প্রথম সন্তান ভূমিষ্ট হবার সময়ের মতো?সৃষ্টিকর্তা যেদিন বিচারের খাতা খুলবেন, সেদিনও মা তুমি হয়তো কেঁদে ভাসাবে সন্তানের ক্ষমার দাবি নিয়ে। কিন্তু তিনি কি তাদের ক্ষমা করে দেবেন? কখনই না মা! আমরাও যে ক্ষমা করতে পারিনা তোমার এই কুলাঙ্গারদের! #বাস্তবতা #বৃদ্ধাশ্রম #অসহায়মা #সামাজিকক্ষয় #বিবেকহীনসন্তান