17/10/2020
**প্রতিদিন গ্রিন টি কেন খাবেন?
গ্রিন টি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও উপকারী পানীয়; এর মধ্যে রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। আর এ কারণেই এই চা এত জনপ্রিয়। গ্রিন টিতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা সব দিক থেকে শরীর চাঙা রাখে। এটি রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়, ক্যানসার প্রতিরোধ করে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে প্রচলিত। গ্রিন টি পান মস্তিষ্কের কার্যক্রম ভালো করে, শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমায়, ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া ক্যাটেচিন নামের একটি উপাদান থাকে এই চায়ে, যা ভিটামিন ই এবং সির থেকেও বেশি শক্তিশালী, যা শরীরে একাধিক উপকার করে।
গ্রিন টি ওজন কমায়। গ্রিন টি হজমপ্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। এতে উপস্থিত ক্যাটেচিন পেটের মেদ ঝরাতে জোরালো ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই অতিরিক্ত ওজন কমাতে নিয়মিত এই চা পান করতে পারেন। ইদানীং ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেকেই গ্রিন টিকে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রাখতে পছন্দ করেন। গ্রিন টি সব সময় ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে এক দিনে ২-৩ কাপের বেশি পান করা উচিত নয়।
**আসলেই কি গ্রিন টি দ্রুত ওজন কমাতে কার্যকর?
এক কাপ কফির থেকে এক কাপ গ্রিন টি পান করা বেশি স্বাস্থ্যকর। কফির তুলনায় গ্রিন টিতে ক্যাফেইন কম থাকে, তবু তা শরীরের সতেজতায় যথেষ্ট। আবার বেশি ক্যাফেইন অনেক সময় পানিশূন্য করে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, বি, বি৫, ডি, ই, সি, ই, এইচ সেলেনিয়াম, ক্রোমিয়াম, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ও সামান্য ক্যাফেইন।
শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তাপ উৎপন্ন হয়, যা আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখে। আর এই চা পান করলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে থাকে। তাপ বাড়াতে হলে শরীর থেকে ক্যালরি খরচ করতে হয়। আর ক্যালরি পোড়া মানেই তো ওজন কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি শরীরের বিপাকীয় ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান এই কাজে মুখ্য ভূমিকা রাখে। গ্রিন টি একধরনের হরমোনের পরিমাণ শরীরে বাড়িয়ে তোলে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
যাঁরা গ্রিন টি পান করেন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের দ্রুত চর্বি ঝরে। আর যাঁরা ব্যায়াম করেন, কিন্তু গ্রিন টি পান করেন না, তাঁরা এই উপকার থেকে বঞ্চিত হন। আর যাঁরা গ্রিন টি পান করেন, তবে ব্যায়াম করেন না, তাদেরও চর্বি পোড়ে কিন্তু তা কম।
গ্রিন টি পরোক্ষভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে
প্রতিদিন অল্প পরিমাণে পান করলেও সপ্তাহ বা মাস শেষে তা বড় পরিমাণই হয়। তবে যদি ব্যায়াম না করে গ্রিন টি পান করা হয়, এটি তেমন ভালো কাজে দেয় না। ব্যায়াম এবং গ্রিন টি পান একসঙ্গে চালিয়ে গেলে ওজন কমবে দ্রুত হারে।
**ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
গ্রিন টি পান টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন গ্রিন টি পান ৪২ ভাগ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।
**অকালবার্ধক্য প্রতিরোধ
নিয়মিত গ্রিন টি পান শরীরের ফ্রি রেডিকেল কমিয়ে অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে কাজ করে এবং বলিরেখা কমায়।
**মানসিক চাপ কমায়
গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে থায়ানিন। এই উপাদান শরীর ও মনকে শিথিল করে এবং মানসিক চাপ কমাতে কাজ করে।
**হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
প্রতিদিন গ্রিন টি পান শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া এর মধ্যে থাকা পলিফেনল হৃৎপিণ্ডকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি গ্রিন টি স্ট্রোকেরও ঝুঁকি কমাতে উপকারী।
**ঠান্ডা-কাশি
সাধারণত ঠান্ডা-কাশি প্রতিরোধেও গ্রিন টি উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
****উপকারী গ্রীন টি বানানোর ৩টি সহজ রেসিপি জেনে নিন
গ্রীন টি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি, এটি শরীরের সাথে সাথে রক্তকেও পরিষ্কার রাখে।কিভাবে গ্রীন টি বানাতে হয়? নিয়ে এলাম গ্রীন টি বানানোর ৩টি সহজ রেসিপি।
****পদ্ধতি ১:
উপকরণ:
* গ্রিন টি পাতা ( প্রতি কাপ পানির জন্য ১ চা চামচ )
* গরম পানি
* পুদিনা/তুলসি পাতা (৪-৫ টি )
* মধু
* লেবুর রস
প্রনালিঃ
১. আগে ঠিক করে নিন কয় কাপ চা বানাবেন । সাধারণত প্রতি এক কাপ পানির জন্য এক চা চামচ (৫ গ্রাম) সবুজ চা পাতা দেয়া হয় । এতে করে একটি ঘন লিকার আসে ।
২. একটি ছাঁকনিতে যে পরিমান চা বানাবেন তার পরিমাণ অনুযায়ী গ্রিন টি নিন ।
৩. একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলায় গরম করুন । খেয়াল রাখবেন পানি যাতে না ফোটে ।
৪. একটি খালি মগ বা কাপের উপর ছাঁকনিটি রাখুন ।
৫. চা পাতার উপর দিয়ে মগে গরম পানি ঢালুন ।
৬. ২-৩ মিনিট পর্যন্ত চা পাতা গুলো ভেজান এর বেশি নয়, নতুবা চা তিতা লাগবে ।
৭. মগ থেকে ছাঁকনি নামান ।
৮. কিছুক্ষণ আপনার চা ঠাণ্ডা করুন এবং উপভোগ করুন আপনার গ্রিন টি .
****পদ্ধতি ২:
উপকরণ:
১ ১/২ টেবিল চামচ গ্রিন টি
২. ১ কাপ পানি
৩. ২ টেবিল চামচ মধু
৪. ১/২ টুকরা লেবু
প্রনালিঃ
১. পানিতে গ্রিন টি মিক্স করুন । চা বেশি বানাতে চাইলে পানি আর চা পাতার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন ।
২. একটা সসপ্যানে পানিটি সিদ্ধ করুন । গ্রিন টি powder সসপ্যানের তলদেশে পরা পর্যন্ত পানিটি সিদ্ধ করুন ।
৩. একটি মগে গ্রিন টি পানিটি ছেঁকে নিন ।
৪. লেবু আর মধু যোগ করুন ।
৫. পরিবেশন করুন ।
****পদ্ধতি ৩:
উপকরণঃ
* ১ চা চামচ ( ৫ g ) গ্রিন টি প্রতি এক কাপ পানিতে
* আদা/ শুকনা আদা গুঁড়া
*পানি
প্রনালি:
১. আগে ঠিক করে নিন কয় কাপ চা বানাবেন । সে অনুযায়ী পাতা আর পানি নিন ।
২. একটি ছাঁকনিতে যে পরিমান চা বানাবেন তার পরিমান অনুযায়ী গ্রিন টি আর আদা/শুকনা আদা গুঁড়া নিন ।
৩. একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলায় গরম করুন । খেয়াল রাখবেন পানি যাতে না ফোটে ।
৪. একটি খালি মগ বা কাপের উপর ছাঁকনিটি রাখুন ।
৫. চা পাতার উপর দিয়ে মগে গরম পানি ঢালুন ।
৬. ২-৩ মিনিট পর্যন্ত চা পাতা আর আদা গুলো ভেজান এর বেশি নয়,নতুবা চা তিতা লাগবে ।
৭. মগ থেকে ছাঁকনি নামান ।
৮. কিছুক্ষণ আপনার চা ঠাণ্ডা করুন এবং উপভোগ করুন আপনার গ্রিন টি
****কখন পান করবেন গ্রিন টি?
**সকালের নাশতার পর
সকালের নাশতায় এমন খাবার খাওয়া উচিত, যেন সারা দিন শরীর অনেক ভালো। খালি পেটে গ্রিন টি খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। সুতরাং সকালের নাশতায় স্বাস্থ্যকর কোনো খাবার খেতে হবে এবং এরপর গ্রিন টি পান করবেন।
**রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ২ ঘণ্টা আগে
রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে গ্রিন টি ওজন কমাতে সাহায্য করবে। তবে অনেক সময় তা ঘুম নষ্ট করতে পারে, এ জন্য ঘুমানোর দুই ঘণ্টা আগেই চা পান করতে হবে। এরপরও যদি ঘুমের সমস্যা হয়, তবে তা বাদ দিতে হবে এবং দিনের অন্য সময় তা পান করতে হবে।
**ব্যায়াম করার আগে
ব্যায়াম করার আধা ঘণ্টা আগে গ্রিন টি পান করলে যেমন শরীরের মেটাবলিজম বাড়বে, তেমনি কর্মদক্ষতা বাড়বে। ফলে ওজন এবং মেদ কমাতে সাহায্য করবে।
**খাবার খাওয়ার পরে বা আগে কখন
অনেকেই খাবার খাওয়ার পরপরই চা পান করেন। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রিন টি পান করা উচিত নয়। খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পরে অথবা আগে গ্রিন টি পান করুন।
**কখন গ্রিন টি পান করবেন না
* সকালে খালি পেটে গ্রিন টি পান করবেন না।
* খাওয়ার পরপরই গ্রিন টি পান করবেন না।
* ঘুমের সমস্যা এড়িয়ে যেতে গভীর রাতে গ্রিন টি পান করবেন না।