09/03/2026
আপনার জীবনে নানা রকমের সিজন আসবে যাবে। কখনো মনে বসন্তকালের মতো ফুল ফুটবে, কখনো শীতকালের মত মনে হবে প্রকৃতি শূন্য হয়ে গেছে।
জীবনের সব ঋতুতেই কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখবেন—
১) প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যার জিকির কিছুতেই ছাড়বেন না। হয়তো প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগবে। কিন্তু এতোটুকু ছেড়ে দিলে আপনি হয়তো আল্লাহর নিরাপত্তার ঢাল নিজের জন্য বন্ধ করে দিচ্ছেন।
২) আজকে যাকে প্রচন্ড আপন মনে হচ্ছে, কিছুদিন পর টেবিল ঘুরে যেতে পারে এবং তার সাথে সম্পর্কটা অন্যরকম হয়ে যেতে পারে। এর জন্য নিজের ভেতরের গভীর গোপন বিষয়/ সিক্রেট অনেক বেশি আপন কারো কাছেও না বলার চেষ্টা করুন। যদি আপনার এবং আল্লাহর মাঝে জিনিসটা রাখলে সুরাহা করা যায়, সেটাই করুন। মানুষকে যত বেশি আপনার দুর্বলতা জানাবেন, ততোই নিজেকে দুর্বল করে ফেলবেন।
৩) আপনার চিন্তাভাবনা দিয়ে আপনার সমস্ত আমল পরিচালিত হয়। আপনি যত পজিটিভ চিন্তা করবেন সুধারণা রাখবেন, তত বেশি সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন। এমনকি সিম্পলি যদি আপনি সকালটা শুরু করেন এভাবে, "আজকে আমি প্রচন্ড বরকতপূর্ণ এবং প্রোডাক্টিভ একটা দিন সামনে পেতে যাচ্ছি, আল্লাহর অনুমতিতে, ইন শা আল্লাহ!" —এতটুকু বলার সাথে সাথেই আপনার ব্রেনের কেমিক্যাল আসলে পরিবর্তন হচ্ছে! এই একটা কথার বলেই হয়তো আপনি নিজের দিনটাকে গুছিয়ে নিতে পারবেন ইন শা আল্লাহ
৪) যে মানুষগুলো আপনাকে পজিটিভ এনার্জি দেয়, যাদের জীবনের একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে, যারা নিজের বাইরের গন্ডি নিয়ে চিন্তা করতে পারে, যারা আল্লাহ এবং আল্লাহর দ্বীন কে প্রাধান্য দেয়, এমন মানুষের আশেপাশে অবশ্যই থাকবেন। এ ধরনের মানুষের পাশে বসে যদি কেউ একদিন ও কাজ করে , দেখা যায় যে তার সাফল্যের পরিমাণ বেড়ে যাবে।
৫) দুনিয়াতে তো সব মনমতো মিলবে না। কিন্তু মন খারাপ করবেন না। হতে পারে দুনিয়াতে এই জিনিসটা কম পাওয়ার মাধ্যমে আখেরাতে আপনি অনেক বড় কিছু পাবেন। হয়তো আপনি যেটা ভাবছেন এখন না পেলে আমার কি হবে? হয়তো ওই জিনিসটা হাতে পেলে আপনি আরো গাফেল হয়ে যেতেন। আল্লাহ যেটা জানেন, আপনি সেটা জানেন না।
৬) কুরআনের সাথে যত বেশি থাকবেন, তত জীবনে বরকত পাবেন। কুরআন বুঝে বুঝে না পড়লে জীবনের ষোল আনাই মিথ্যা হয়ে যাবে।
৭) যখন কোন বিষয় নিয়ে খুব অশান্তি বা ঝামেলা হচ্ছে, নিজেকে জিজ্ঞেস করবেন 'আমি যখন ৬ হাত মাটির নিচে কবরে শুয়ে থাকবো, তখন আজকের এই বিষয়টা নিয়ে আমার কি আফসোস থাকবে? আমি কেমন ভাবে জিনিসটা সুরাহা করে কবরে শুয়ে থাকতে চাই? আসলে এটা কতটুকু ম্যাটার করে?" দেখবেন আপনার সামনে অনেক কঠিন সমস্যার অনেক সহজ সমাধান চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।
৮) গীবত থেকে দূরে থাকুন। আপনার মুখ থেকে যদি এমন কথা বের হয়, যার মাধ্যমে আপনার অন্য মুসলিম ভাই বোনের সম্মান নষ্ট হচ্ছে, দেখবেন কোথাও না কোথাও গিয়ে আপনার সম্মানও নষ্ট হচ্ছে। এবং আল্লাহ মাফ করুক গীবতের মাধ্যমে আপনি আপনার মৃত ভাইয়ের গোশত খাচ্ছেন, তাহলে এর প্রভাব আপনার জীবনের অন্যান্য বিষয়ে পড়বে। আপনার জীবনে বরকত অনেক কমে যাবে।
৯) মোটিভেশনের জন্য অপেক্ষা করলে এই অপেক্ষার কখনো শেষ নেই। যে কাজটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা করে ফেলতে হবে। আসলে কাজটা প্রথমে করে ফেলতে হয়, এরপর মোটিভেশন আসে। "মোটিভেশন আগে আসলে কাজ করব" এভাবে জীবন চলে না।
১০) নিজেকে আল্লাহর উপর যত নির্ভরশীল করবেন, যতই সফল হবেন। অন্যদের উপর ইমোশনালি যত কম নির্ভরশীল হবেন, ততই জীবনে প্যারা কমবে। যতটা দক্ষতার সাথে অন্যের সাথে কমিউনিকেট করতে পারবেন, ততই আনন্দ এবং সমৃদ্ধি বাড়বে। যত অন্যের ব্যাপারে সুধারণা রাখবেন, অন্তরের ভেতর বোঝা কমবে। এবং কি দারুন এই দশ নম্বর পয়েন্টের প্রত্যেকটা কাজ আপনি প্রিয় রসূল ﷺ এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা এবং গল্প থেকে শিখে নিতে পারবেন।
~শারিন সফি অদ্রিতা