26/01/2026
নয়া নয়া বথুয়া শাক, নুন তেলে খায়।
বুড়া হলে বথুয়া শাক,গড়াগড়ি যায়।।
খাদ্য বিশেষজ্ঞ মাইকেল পোলানের মতে বথুয়া শাক একটি সুপার ফুড।
অন্যান্য স্থানীয় নাম: বেথুয়া, বাইত্তা, বৌতা, ভাত্তা, Lamb's quarters, Melde, Goosefoot and fat-hen, Goosefoot, Pigweed, বেতো শাক, পাপ্পুকুরা, পারুপ্পুক্কিরাই, কড়ৌমা, ভাস্টুককিরা, চাকভিট।
বৈজ্ঞানিক নাম : Chenopodium album
পরিবার : Amaranthaceae
বাংলাদেশে শীতকালীন জনপ্রিয় শাক বথুয়া। এটি মূলত গম, আলু, কপি ও পিঁয়াজসহ বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেতে আগাছা হিসেবে জন্মে থাকে। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে জমি কিংবা পুকুরের ধারে এই শাকটি প্রচুর দেখতে পাওয়া যায়। মূলত শীতকালে সহজলভ্য শাকটি অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর।
বথুয়া উত্তর ভারতে প্রচুর চাষাবাদ করা হয়। তেলেগু ভাষায় এটিকে পাপ্পুকুরা, তামিল ভাষায় পারুপ্পুক্কিরাই, কন্নড় ভাষায় কড়ৌমা, মালয়ালম ভাষায় ভাস্টুককিরা এবং কঙ্কণী ভাষায় চাকভিট বলা হয়।
অন্যান্য প্রচলিত শাকের চেয়ে বথুয়া শাকে ভিটামিন ‘এ’ বেশি থাকে। ক্যালসিয়াম ও আয়রনের পরিমাণও বেশি থেকে।
১। বথুয়া শাকে থাকা পটাশিয়াম, আয়রন,ফলিক এসিড এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হজম শক্তি বাড়ায়, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে, কনজাংটিভাইটিস নিরাময়ে সাহায্য করে, অনিমিত পিরিয়ড সমস্যা দূর করে। এছাড়াও এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ডায়াটারিফাইবার আমাদের যকৃতকে ভালো ভাবে কাজ করতে এবং আমাদের মল নির্গমন প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
২। বথুয়া শাক পেটের বিভিন্ন অসুখে উপকারী। পুরাতন আমাশয়ের মত রোগে যারা ভুগছেন তাদের জন্য বথুয়া শাক খুবই কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী ডায়েরিয়া সারাতে এটি খুব দ্রুত কাজ করে থাকে।
৩। বথুয়া শাকে পটাসিয়াম এবং সোডিয়াম থাকায় এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। একই সাথে বথুয়া শাক আমাদের শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়। ফলে হার্ট ভালো থাকে এবং বিভিন্ন রকমের হার্ট ডিজিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক হ্রাস পায়।
৪। বথুয়া শাকে আছে বিভিন্ন খনিজ উপাদান যা দেহ গঠনে যথেষ্ঠ সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন আমাদের শরীর সুস্থ্য রাখে এবং এইসাথে দেহের কোষের ক্ষয় রোধ করে ও কোষকলার সুস্থ্যতায় সাহায্য করে।
৫। বথুয়া শাকে থাকা ভিটামিন বি ত্বকের চুলকানীসহ ত্বকের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়াও শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কমাতে বথুয়া শাক অনেক কার্যকর। যকৃত এবং কিডনির রোগ প্রতিরোধ করে বথুয়া শাক।
৬. মুখে ঘা হলে, বথুয়া শাক ভেজে খেলে মুখের ঘা ভাল হয়।
৭. বিষ পিঁপড়া, বিচ্ছু বা চেলায় কামড়ালে বথুয়া পাতা রস করে লাগালে বিষ নষ্ট হয়ে যায়।
৮. বথুয়া শাক রক্তের ইউরিক এসিড কমিয়ে দেয়। তাই বাত রুগীর ব্যাথা কমার জন্য একটি আদর্শ শাক।
বথুয়া শাকের ভর্তা, ভাজি, তরকারি (শুটকি, ছোটমাছ, বড়মাছ যেকোনটার সাথে) খুব সুস্বাদু। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা লঙ্কা আর ছোট চিংড়ি মাছ দিয়ে ফোড়ন ছাড়া চচ্চড়ির স্বাদ অপূর্ব ৷
তথ্যসূত্র: ১. চিরঞ্জীব বনৌষধি - আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য, ২. উইকিপিডিয়া ৩. উবিনীগ ৪. প্রাযোগ ৫. ভারতীয় বনৌষধি - ড.কালিদাস বিশ্বাস, ৬. বাংলাদেশ আগাছা পরিচিতি- বাংলা একাডেমী , ঢাকা।
ছবি- প্রাযোগ ও উবীনীগ