12/02/2018
বর্তমান প্রেক্ষাপটে একান্নবর্তী পরিবার খুব একটা চোখে পড়ে না। বেশিরভাগই এখন একক পরিবার। ঢাকায় স্বামী-স্ত্রী এবং একটি কিংবা দুটি বাচ্চার পরিবারের সংখ্যাই বেশি। আবার এই একক পরিবারের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই চাকরি করে এমন পরিসংখ্যান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজনের উপার্জনে এখন আর সংসারটা ভালভাবে সাজানো যায় না। তাছাড়া শিক্ষিত মেয়েরা আজকাল নিজেদের মেধাকে অলসভাবে পড়ে থাকতে দিতে নারাজ। এটা অবশ্যই সমাজ এবং দেশের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে বিপত্তি ঘটে নিজ সংসারে। একদিকে ক্যারিয়ার অন্যদিকে সংসার সামলাবার হ্যাপা, সব মিলিয়ে বড্ড গোলমেলে অবস্থা। ব্যস্ততায় ভরা যান্ত্রিক জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকেই। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছি ৯-৫ টা অফিস করে বাসায় ফিরে রাতের খাবার রান্না করা বা পরের দিনের জন্য খাবার তৈরি করে রেখে যাওয়া। এর একটু ব্যাতিক্রম হলেই হয়তো সংসারে শুরু হয়ে যায় মনোমালিন্য বা অশান্তি। যুদ্ধটা তাই যেন সকালবেলা থেকেই শুরু হয়ে যায়। বাচ্চাকে স্কুলের জন্য তৈরি করা, নাস্তা বানানো, টিফিন তৈরি করা, নিজেদের খাবার প্রস্তুত করা যেন বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। আবার রাতে এসে রাতের খাবারের ঝামেলা, যা রীতিমতো এক যন্ত্রদায়ক ব্যাপার। তার মধ্যে বাচ্চার টেনশন তো আছেই। অথচ খাবার প্রস্তুতের এ ঝামেলা থেকে যদি একটু নিস্তার পাওয়া যেত তাহলে কাজে একটু বেশি মনোযোগী হওয়া সম্ভব হতো, যা থেকে উন্নত বিশ্বের মানুষেরা অনেকটাই মুক্ত। যে কারণে তাদের কাজের গতিও বেশি। তবে আমাদের দেশেও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মজীবী মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক কিছুই এখন প্যাকেজ আইটেমের আওতায় চলে এসেছে। খাবার-দাবারেও এসেছে বৈচিত্র্য। চালু হয়েছে হোম ফুড ডেলিভারি সার্ভিস। তবে এখনও তা নিয়মিত হয়ে উঠেনি। অথচ মানুষ কাজের চাপ কমানোর জন্য বিকল্প কিছু খুঁজছে। যেমন কোন প্রতিষ্ঠান যদি সকালের নাস্তার প্যাকেজ অফার করে এবং তা বাড়ি পর্যন্ত সময়মতো পৌঁছে দেয় তাহলে অনেকেই তা সানন্দে গ্রহণ করবে। দুপুরের খাবারের ক্ষেত্রে অফিসগুলোতে এখন ভিন্নতা দেখা যায়। অনেক ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান সুলভ মূল্যে অফিস স্টাফদের জন্য দুপুরের খাবার সরবরাহ করে। এ চিত্র এখন প্রায় প্রতিটি অফিসেই দেখা যায়। খাবারটা যদি স্বাস্থ্যসম্মত হয় তাহলে বাড়ি থেকে খাবার বয়ে আনার ঝামেলাও পোহাতে হবে না। প্রাইভেট সেক্টরের অফিসগুলোয় কাজের সীমা পরিসীমা নেই। দেখা যায় অনেক সময় কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায়। তখন বাসায় ফিরে রান্না করতে ইচ্ছে হয় না। এ ঝামেলা থেকে মুক্ত করতে এক্সপ্রেস মিল (Express Meal) শুরু করতে যাচ্ছে মানসম্মত খাবার বাড়িতে পৌঁছে দেবার নিশ্চয়তা। ফলে ইচ্ছে হলেই যে কেউ এ ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে পারবেন। প্রতিদিনের জন্য না হোক, যখন কাজের চাপ খুব বেশি থাকে অফিসে সেদিন রাতে এরকম অর্ডার করা যেতেই পারে। যান্ত্রিকতার এ যুগে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। কল করা মাত্রই যদি হাতের কাছে পছন্দসই স্বাস্থ্যসম্মত খাবারটি পাওয়া যায় তাহলে অনেক সময় বাঁচানো সম্ভব, যা অন্যান্য জরুরী কাজে লাগানো যায়। এতে বেড়ে যাবে কর্মোদ্দীপনাও।
কয়েক বছর আগে থেকেই বেশকিছু চেইন রেস্তোরাঁ তাদের হোম ডেলিভারি সেবা দিচ্ছে। প্রথমদিকে ডোমিনাস পিৎজা, পিৎজা ইন, পিৎজা হাট তাদের হোম ডেলিভারি সুবিধা দিয়ে আসছিল। এর সঙ্গে বর্তমানে বিএফসি, শর্মা হাউস, কেএফসি, নান্দুসের মতো চেইন রেস্তোরাঁও হোম ডেলিভারি সুবিধা চালু করেছে। তবে তাদের গ্রাহকসেবা নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাই চাহিদা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই হোম ডেলিভারি সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এসব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে কিছু প্রতিষ্ঠান, যারা গ্রাহকদের পছন্দের রেস্তোরাঁ থেকে নগরীর যেকোনো এলাকায় খাবার পৌঁছে দেয়। শুধু খাবারের অর্ডার সংগ্রহ করাই তাদের কাজ। অর্ডারকারীর পছন্দের খাবার, পছন্দের জায়গা থেকে ঘরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে খাবার অর্ডার করতে পারেন যে কেউ। ওয়েবসাইটে বা ফোন করে অর্ডার করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্রেতার কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। কিছু নিয়মকানুন মেনে এ সেবার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সার্ভিস চার্জ নিয়ে থাকে।