17/09/2026
“আল্লা রিযীকে যা রাইকছে তা খামু”
সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে কাদার মধ্যে হাটতেছি স্পীডবোটে উঠার জন্য। ঠিক আমার পেছনে একটা ছোট ছেলের কথার আওয়াজ শুনতেছিলাম।
প্রথমে ভাবছিলাম সে কারো সাথে কথা বলতেছে। যখন শুনলাম সে বলতেছে “বেশি টিঁয়ার লোভে তিনগা চাইরগা লইতামন, মাইনসের দামি দামি জিনিষ লোদের মাইদ্দে হরি গেলে কি অইব? উগ্গার বেশি লইতামন, আল্লা রিযীকে যা রাইকছে তা খামু”, তখন পেছনে ফিরে দেখলাম ছেলেটি একা।
কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম “তুঁই কাল্লগে কতা কইছ এতক্কন? কেওরে তো দেইনা”।
সে বুঝাল যে, তার সমবয়সী আরো যে শিশু শ্রমিকগুলু বোটের যাত্রীদের মালামাল বহণ করে তারা বেশি টাকার লোভে তাদের সামর্থের চাইতে বেশি মাল বহণ করে।
আর সে চিন্তা করে বেশি টাকার লোভে সামর্থের বাইরে মাল বহণ করতে গেলে যাত্রীদের দামি মালামাল কাদায় পড়ে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই সে একটার বেশি ব্যাগ নেবেনা। প্রয়োজনে কম রুজি করবে, আল্লাহ তাকে খাওয়াবে।
আমি কিছু টাকা গিফ্ট দিতে চাইলে সে নিতে চাচ্ছিলনা। আমাকে বলে “আন্নে আঁরে এগুন কিল্লাই দেন?”। আমি বল্লাম “এগুন আল্লা তঁর রিযীকে রইকছে, তুঁই কতক্কন আগে কইছনা? আল্লা তো নিজে আইতন, হেই কতাল্লাই তঁর রিযীক্বের এগুন আল্লা আঁদ্দিগে হাডাইছে। একটু লজ্জার হাসি দিল!
প্রথমত এত ছোট ছেলের ব্যাগ মাথায় নিয়ে হাটতে দেখে মনটা খুব খারাপ লাগল। তারপর নীতি নৈতিকতা ও আল্লার উপর তার ভরসা দেখে নিজেই লজ্জিত হলাম যে আমরা পরিণত বয়সে এসে ও আল্লার উপর ভরসা হারিয়ে কত হতাশায় ভুগি।
আমাদের সমাজে অনেকেই অনেককভাবে দান সদাকা করেন। কিন্তুু সমস্যা চিহ্নিত করে সঠিক জায়গায় আমাদের দানগুলু করা হয়না।
বিক্ষিপ্তভাবে করা দান গুলু গঠণমুলকভাবে অন্যন্য খাতের পাশাপাশি এসব শিশু শ্রমিকদের পরিবারকে দিয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্হা করে দিলে দানের উদ্যেশ্য শতভাগ সফল হত। আর ছোট্র বাচ্চাগুলু এই বয়সে পড়ালেখা না করে অন্ন জোগারের জন্য এই কচি শরীরে ভারি মালামাল বহণ করা লাগতনা।
শুধু কথা না বলে পরিবর্তনের সুচনা হোক। সবাই মিলে উদ্যোগ নিলে সমাজে একটা একটা করে ব্যাপক পরিবর্তন হবে। সঠিক উদ্যেগ নেয়ার অভাব।
সন্দ্বীপের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যাক্তিগত দানবীররা উদ্যোগ নিলে আলমানার ফাউন্ডেশন ও পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
— ওমর ফরিদ বাবর এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত।