08/06/2026
নবিজি মুহাম্মদ (সা.)-এর শাসন আমলে এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে এমন বেশ কয়েকজন সাহাবি ছিলেন, যাদের স্ত্রীরা ব্যবসায়িক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং দ্বীনি কাজে সক্রিয়ভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করতেন। ইসলামে নারীদের হালাল উপার্জন, সমাজসেবা এবং পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্ট করার চমৎকার সব উদাহরণ সেই সময়েই তৈরি হয়েছিল।
এমনই কয়েকজন উল্লেখযোগ্য সাহাবি ও তাঁদের স্ত্রীদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এবং তাঁর স্ত্রী জয়নাব (রা.)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ছিলেন একজন বিখ্যাত ও অত্যন্ত জ্ঞানী সাহাবি, তবে তিনি আর্থিকভাবে কিছুটা অসচ্ছল ছিলেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী হজরত জয়নাব (রা.) হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তিনি নিজের হাতে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন এবং সেই উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার চালাতেন ও স্বামীকে সাহায্য করতেন।
একবার জয়নাব (রা.) নবিজি (সা.)-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তিনি যদি তাঁর উপার্জিত অর্থ তাঁর দরিদ্র স্বামী এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা এতিমদের পেছনে খরচ করেন, তবে তিনি সদকার সওয়াব পাবেন কি না। নবিজি (সা.) উত্তরে বলেছিলেন, এতে তিনি দ্বিগুণ সওয়াব পাবেন—একটি আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্য, অন্যটি সদকার জন্য।
২. হজরত যুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.) এবং তাঁর স্ত্রী আসমা (রা.)
হজরত আবু বকর (রা.)-এর কন্যা এবং হজরত যুবায়ের (রা.)-এর স্ত্রী হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী এক নারী। বিয়ের পর প্রাথমিক জীবনে হজরত যুবায়ের (রা.)-এর আর্থিক অবস্থা সাধারণ ছিল।
হজরত আসমা (রা.) নিজেই ঘরের সমস্ত কাজ করতেন, উটের দেখাশোনা করতেন, ঘোড়াকে ঘাস-পানি দিতেন। এমনকি নবিজি (সা.) যুবায়ের (রা.)-কে যে জমি দিয়েছিলেন, সেখান থেকে আসমা (রা.) নিজেই মাথায় করে খেজুরের আঁটির বোঝা বহন করে নিয়ে আসতেন। তাঁর এই অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতা যুবায়ের (রা.)-এর সংসার ও সম্পদ গোছাতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
৩. হজরত আবু তালহা (রা.) এবং তাঁর স্ত্রী উম্মে সুলাইম (রা.)
হজরত উম্মে সুলাইম (রা.) ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ, ধৈর্যশীল এবং কর্মঠ একজন নারী। তিনি তাঁর স্বামী আবু তালহা (রা.)-কে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কঠিন সময়ে মানসিক ও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দারুণভাবে সাহায্য করতেন। যুদ্ধের ময়দানেও তিনি আহতদের সেবা ও পানি পান করানোর কাজে অংশ নিতেন।
৪. হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীদের অবদান
নবিজি (সা.)-এর আমলে মদিনার বাজারে বেশ কয়েকজন নারী সাহাবি স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন এবং পরিবারকে সাহায্য করতেন। যেমন—হজরত কায়লা আনমারিয়্যা (রা.)। তিনি ব্যবসা করতেন এবং নবিজি (সা.)-এর কাছে এসে ব্যবসা-বাণিজ্যের দরদাম ও কেনাবেচার নিয়মকানুন শিখে নিতেন, যা তাঁর পরিবারকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেছিল।
মূল শিক্ষা: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সাহাবিদের স্ত্রীরা শুধু ঘরের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী ঘরের বাইরে কৃষিকাজ, পশুপালন, হস্তশিল্প এবং ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জনে অংশ নিয়ে স্বামীকে এবং পুরো পরিবারকে সাহায্য করতেন, যা নবিজি (সা.) নিজেই অনুমোদন ও উৎসাহ দিয়েছিলেন