19/01/2026
‘ওয়ান বাক্স’ হাইজ্যাক: জামায়াতের সুচতুর রাজনীতি
এক বাক্স’ নির্বাচনী সমঝোতা শেষ পর্যন্ত জামায়াত হাইজ্যাক করেছে এটা এখন আর অনুমান নয়, বরং প্রকাশ্য বাস্তবতা।
জামায়াত চূড়ান্ত আসন বণ্টনে মামুনুল হকের দলকে ২০টি, মজলিসের এক শাখাকে ১০টি, এনসিপিকে ৩০টি এবং অলি আহমেদের দলকে ৭টি আসন দিয়েছে। প্রশ্ন হলো এনসিপির সারাদেশে ভোট কত শতাংশ?
মামুনুল হকের দলের প্রকৃত ভোটভিত্তি কত?
অলি আহমেদের দলের নামই বা কতজন জানে, আর মার্কা চেনে কজন?
এই দলগুলোর তুলনায় ই আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তি, মাঠের কর্মী ও ভোটব্যাংক বহুগুণ বেশি এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ইনসাফের ভিত্তিতে আসন বণ্টন হলে, এসব দলের সম্মিলিত আসনের সমান কিংবা তার চেয়েও বেশি আসন পাওয়ার কথা ছিল ই আন্দোলনের।
এনসিপি যদি ৩০টি আসন পায়, মামুনুল হক একাই যদি ২০টি পায় তাহলে ই আন্দোলনের ভাগে কি মাত্র ৪০–৪৫টি আসনই ন্যায্য? তাও আবার সেগুলো এককভাবে নয়। প্রস্তাবিত আসনের অনেকগুলো ‘উন্মুক্ত’ রাখা হয়েছে যেখানে হাতপাখা ও দাঁড়িপাল্লা উভয় মার্কাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর ফলে ইসলামী আন্দোলনের কার্যকর একক আসন নেমে আসবে ৩০-এর নিচে।
এই পরিকল্পনার একটাই উদ্দেশ্য
👉 এনসিপিকে কৃত্রিমভাবে দ্বিতীয় প্রধান শক্তি বানানো
👉 ই আন্দোলনকে তৃতীয় সারিতে ঠেলে দেয়া
আরও গুরুতর বিষয় হলো যে কটি আসন ই আন্দোলনকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর একটিতেও তাদের শক্তিশালী বা সম্ভাবনাময় প্রার্থী নেই। বিপরীতে, যেসব আসনে ইসলামী আন্দোলনের জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো জামায়াত নিজের দখলে রেখেছে।
বাস্তবে জামায়াত বগলে ‘ইট’ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের ডাকে ‘এক বাক্স’ সমঝোতায় নাম লিখিয়েছিল। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তারা ৪৭টি আসন উন্মুক্ত রেখে তথাকথিত চূড়ান্ত আসন বণ্টন ঘোষণা করেছে যাতে পরে সমঝোতা ভাঙলে দায়টা ই আন্দোলনের ঘাড়ে চাপানো যায়।
ই আন্দোলন ৪০–৫০টি আসন মেনে নিতেও প্রস্তুত ছিল শর্ত ছিল, আলোচনা হবে, সম্ভাবনাময় আসনগুলো ছাড়া হবে। কিন্তু জামায়াত তা করেনি। বরং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে, ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি শক্তিশালী আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর বাজারে ছড়িয়েছে একগাদা ভিত্তিহীন অপবাদ যেমন,
– ইসলামী আন্দোলন নাকি ১৫০ আসন দাবি করেছে
– নির্বাচিত হলে পীর সাহেবকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে
– গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় লিখিতভাবে দিতে হবে
এই অভিযোগগুলোর একটিরও কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আজ পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি।
অন্যদিকে, ই আন্দোলনের অভিযোগ ছিল স্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য
জামায়াত কারো সঙ্গে আলোচনা না করেই তিনটি দলকে সমঝোতায় যুক্ত করেছে। দিনের পর দিন আসন বণ্টনের বৈঠক ঝুলিয়ে রেখেছে। মিটিংয়ের সময় দিয়ে বিনা নোটিসে বাতিল করেছে। ইসলামী আন্দোলনকে অন্ধকারে রেখে এককভাবে সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই অভিযোগগুলোর একটিও জামায়াত অস্বীকার করতে পারেনি। বরং সবগুলোই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বাস্তবতা হলো
জামায়াত ‘এক বাক্স’ উদ্যোগে ঢুকেছিল মূলত এই উদ্যোগটাই কব্জা করতে। আজ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ‘এক বাক্স’-এর উদ্যোক্তা সৈয়দ রেজাউল করিমকে আড়াল করে তারা নতুন নাম চালু করেছে ‘নির্বাচনী ঐক্য’।
এখন পরিস্থিতি এমন ইসলামী আন্দোলন যদি এককভাবে নির্বাচনে যায়, জামায়াত কৌশলে দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী দেবে, এমনকি যেসব ৪৭টি আসন তারা উন্মুক্ত রেখেছে সেগুলোতেও।
কিন্তু জামায়াতের এই মতলব আঁচ করেই ইসলামী আন্দোলন আগেভাগে ২৮৬টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। অর্থাৎ তারা এককভাবে মাঠে নামলে জামায়াতের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত। কারণ ধর্মপ্রাণ ভোট মূলত হাতপাখা ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে ভাগ হবে। আমার হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১১৫টি আসনে হাতপাখার কারণে জামায়াত ধানের শীষের বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারবে না।
জামায়াত যদি এই দুষ্টু ও আত্মঘাতী রাজনীতি না করতো, তাহলে দেশে শাসনক্ষমতায় বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তারা তা হতে দেয়নি। নিজেদের নাক কেটে তারা গোটা ইসলামপন্থী রাজনীতির উত্থানই ভেঙে দিয়েছে।
তাওহীদ রিফাত
১৬/১/২৬