Mufti Tawhidul Islam Rifat

Mufti Tawhidul Islam Rifat আমার রব আমার সব❤️আমার রাসূল আমার আদর্শ

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদ'আত? পর্ব ---২জিকির করার সময় জিকিরের সংখ্যা গণনার জন্য মাধ্যম হিসেবে আঙুল, কঙ্কর (পাথর) খেজুরের...
26/08/2026

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদ'আত? পর্ব ---২

জিকির করার সময় জিকিরের সংখ্যা গণনার জন্য মাধ্যম হিসেবে আঙুল, কঙ্কর (পাথর) খেজুরের আঁটি কিংবা প্রচলিত তাসবিহ ব্যবহার করার বিষয়ে ইমামগনের তিনটি মত পাওয়া যায়।

★১ম মত: বিদআত★
হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারীর ১১ নং খন্ডের ২২৩ নং পৃষ্ঠায় আল্লামা তাকিউদ্দিন সুবকি রহ.-এর মতামত উল্লেখ করে বলেন:
«وقد أنكر ذلك جمعٌ من المتأخرين من الشافعية، وقال الشيخ تقي الدي السبكي في فتاويه: التسبيح بالمسبحة بدعة، ولم يكن ذلك في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما حدث بعده.»

অনুবাদ:পরবর্তী যুগের কিছু শাফেয়ী আলেম এটিকে অস্বীকার করেছেন। শাইখ তাকিউদ্দিন সুবকি রহ. তাঁর ফাতাওয়ায় বলেছেন: তাসবিহের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা বিদআত। এটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে ছিল না; বরং তাঁর পর এটি প্রচলিত হয়েছে।”

প্রিয় পাঠক!! তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো,
প্রথমত: আল্লামা তাকিউদ্দিন সুবকি রহ. তাসবিহকে বিদআত বলার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের যুগের পর এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ির বিষয়টিকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, শরিয়তের কোনো আমলের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি করা হলে তা নিন্দনীয়.. এ কথা আমরাও অস্বীকার করি না। দ্বিতীয়ত: আল্লামা তাকিউদ্দিন সুবকি রহ. এই ফাতাওয়ার শেষ অংশে বলেছেন: «والأولى تركه» অর্থাৎ, “এটি পরিত্যাগ করাই উত্তম।”
তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, এখানে “বিদআত” শব্দ দ্বারা বিদআতে হাকিকী উদ্দেশ্য নয়; বরং অনুত্তম উদ্দেশ্য ।তাছাড়া ইবনু হাজার আসকালানী রহ. তাকিউদ্দিন সুবকি রহ.-এর এই মতামত উল্লেখ করার পর বলেন: «والجمهور على الجواز» আর জমহুর আলেমদের মত হলোএটি জায়েয।”

★২য় মত: মাকরুহ★
শাফেয়ী মাযহাবের অন্যতম মুহাক্কিক ইমাম নববী রহ. বলেন:
«قَالَ أَصْحَابُنَا: وَيُكْرَهُ السَّبْحُ بِالنَّوَى وَالْحَصَى وَالسُّبْحَةِ، وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ»

অনুবাদ: “আমাদের ইমামগণ বলেছেন: খেজুরের আঁটি, কঙ্কর ও তাসবিহের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা মাকরুহ। আর এটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে ছিল না।”( আল আজকার পৃ: ২৩)
তাছাড়া ইমাম নববী রহ. আল-মাজমু শরহুল মুহাযযাব খণ্ড নং ৪ পৃষ্ঠা: ৫৯৫ বলেন:
«يُسْتَحَبُّ عَقْدُ التَّسْبِيحِ بِالْأَنَامِلِ، وَكُرِهَ بِالْحَصَى وَالسُّبْحَةِ»
অনুবাদ:“আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা মুস্তাহাব। আর কঙ্কর ও তাসবিহের মাধ্যমে গণনা করা মাকরুহ।”
অর্থাৎ ইমাম নববী রহ.-এর বক্তব্যের আলোচনায় মূল বিষয় হলো আঙুলের মাধ্যমে গণনা করা উত্তম, আর অন্য মাধ্যম গ্ৰহন করা তাঁর কাছে মাকরুহ হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ, তাঁর দৃষ্টিতে আঙুলের সুন্নাহ পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

★৩য় মত:জায়েয; এবং এটিই প্রাধান্য প্রাপ্ত মত★
এ মত অনুযায়ী, জিকিরের জন্য আঙুল ছাড়াও কঙ্কর,খেজুরের আঁটি ও তাসবিহের মতো (وسائل ) মাধ্যম ব্যবহার করা জায়েয। তবে আঙুলের মাধ্যমে গণনা করা অধিক উত্তম এই মতের পক্ষে বিভিন্ন মাযহাবের অনেক মুহাক্কিক আলেমের বক্তব্য রয়েছে।

১.শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন:
«وَعَدُّ التَّسْبِيحِ بِالْأَصَابِعِ سُنَّةٌ، كَمَا عَقَدَ النَّبِيُّ ﷺ بِالْأَصَابِعِ، وَأَمَّا عَدُّهُ بِالنَّوَى وَالْحَصَى وَنَحْوِ ذَلِكَ فَحَسَنٌ، وَكَانَ مِنْ الصَّحَابَةِ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ»

অনুবাদ: “আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা সুন্নত, যেমন নবী ﷺ আঙুলের মাধ্যমে গণনা করেছেন। আর খেজুরের আঁটি, কঙ্কর ও এ ধরনের জিনিসের মাধ্যমে গণনা করাও উত্তম। সাহাবাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনটি করতেন।” (আল-ফাতাওয়া আল কুবরা ৫/২৪৯)
লক্ষণীয় বিষয় হলো:এখানে ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. একদিকে আঙুলে গণনাকে সুন্নত বলেছেন, অন্যদিকে খেজুরের আঁটি, কঙ্কর ও অনুরূপ মাধ্যমেও গণনাকে ভালো বলেছেন।

২.শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ নাসাফী হানাফী রহ. বলেন العقد الثمين في إثبات التسبيح باليمين ২৩ নং পৃষ্ঠায় এই তৃতীয় মতকে বিশুদ্ধ মত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন
«الثَّالِثُ: الْجَوَازُ، وَهُوَ الصَّحِيحُ، لِأَنَّهُ أَسْكَنُ لِلْقُلُوبِ، وَأَجْلَبُ لِلنَّشَاطِ»
অনুবাদ:তৃতীয় মত হলো জায়েয। আর এটিই বিশুদ্ধ মত। কারণ, এটি অন্তরকে অধিক প্রশান্ত করে এবং ইবাদতের প্রতি অধিক উদ্যম সৃষ্টি করে।”
এখানে নাসাফী রহ. স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন: الْجَوَازُ، وَهُوَ الصَّحِيحُ
জায়েয আর এটিই বিশুদ্ধ মত।”

৩.আল্লামা আব্দুল হাই লাখনবী রহ. مجموعة رسائل اللخنوي খণ্ড:১, পৃষ্ঠা: ১৪৯–১৫১তাসবিহ ব্যবহারের ব্যাপারে তৃতীয় মতকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন: «فَالْحَقُّ أَنَّهُ جَائِزٌ بِلَا كَرَاهَةٍ، بَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ عِنْدَ الْحَاجَةِ» অর্থাৎ:“সঠিক কথা হলো এটি কোনো প্রকার মাকরুহ ছাড়াই জায়েয। বরং প্রয়োজনের সময় এটি মুস্তাহাব। আল্লামা আব্দুল হাইলাখনবী রহ. এর বক্তব্য অনুযায়ী শুধু জায়েযই নয়; বরং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তাসবিহ ব্যবহার করা মুস্তাহাবও হতে পারে।

৪.শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন রহ. لقاء الباب المفتوح খণ্ড:৩নং পৃষ্ঠা: ৩০ এ বলেন:
«التسبيح بالمسبحة لا بأس به، ولكن التسبيح بالأصابع أفضل»
অনুবাদ: “তাসবিহের মাধ্যমে তাসবিহ পড়তে কোনো সমস্যা নেই। তবে আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ পড়া অধিক উত্তম। এখানে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট তিনি বলেছেন«لا بأس به» যা জায়েয হওয়ারই প্রমান বহন করে , একই সঙ্গে তিনি আরো বলেছেন «ولكن التسبيح بالأصابع أفضل» তবে আঙুলের মাধ্যমে গণনা করা অধিক উত্তম।”

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝে রাখা দরকার সেটা হল কেউ বলেননি যে প্রচলিত দানার তাসবিহ ব্যবহার করাই সুন্নত।বরং তৃতীয় মতের ইমামগন মূলত জায়েয বলেছেন।অর্থাৎ, তাসবিহের দানা ব্যবহার করা সুন্নত এ কথা বলা হচ্ছে না; বরং তা বৈধ হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।একই সঙ্গে আরো বলা হচ্ছে যে “আঙুলের মাধ্যমে জিকির গণনা করা অধিক উত্তম।”

জিকির গণনার ক্ষেত্রে আঙুল, কঙ্কর ও খেজুরের আঁটি ব্যবহার করা হাদিসসমূহ দ্বরা ও প্রমানিত
১. রাসুলুল্লাহ ﷺ আঙুলে তাসবিহ গণনা করতেন:
সুনানে আবু দাউদে এসেছে
«حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، فِي آخَرِينَ، قَالُوا: حَدَّثَنَا عُثَامٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ. قَالَ ابْنُ قُدَامَةَ: بِيَمِينِهِ.»
অর্থ:আবদুল্লাহ ইবনু আমর রা. বলেন, “আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে তাসবিহ গণনা করতে দেখেছি।” ইবনু কুদামাহর বর্ণনায় রয়েছে“তাঁর ডান হাত দিয়ে।”

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫০২
জামে‘ তিরমিযী, হাদিস: ৩৪১১

এই হাদিসের হুকুম সম্পর্কে
১.ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ»
২.ইমাম নববী রহ. বলেছেন «إِسْنَادُهُ حَسَنٌ»“এর সনদ হাসান।”
( আল-আযকার, ১/৪৫)
৩.হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. বলেছেন«رِجَالُهُ ثِقَاتٌ» “এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।”
(নাতায়িজুল আফকার ১/২৩৮)
উল্লেখিত বর্ননা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আঙুলের মাধ্যমে জিকির গণনা করা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হল।

২. ইউসাইরা রা.-এর হাদিসে আঙুলের ডগায় জিকির গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
সুনানে আবু দাউদে এসেছে
«حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةَ بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بِالتَّكْبِيرِ، وَالتَّقْدِيسِ، وَالتَّهْلِيلِ، وَأَنْ يَعْقِدْنَ بِالْأَنَامِلِ، فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ، مُسْتَنْطَقَاتٌ.»

অর্থ:ইউসাইরা রা. বর্ণনা করেন, নবী ﷺ তাঁদের তাকবির, তাকদিস ও তাহলিল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আঙুলের ডগার সাহায্যে তা গণনা করতে বলেছেন। কারণ, এসব আঙুল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে এবং এগুলোকে কথা বলানো হবে।সুনানে তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে
«عَلَيْكُنَّ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّقْدِيسِ، وَاعْقِدْنَ بِالْأَنَامِلِ، فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ، وَلَا تَغْفُلْنَ فَتَنْسَيْنَ الرَّحْمَةَ.»
অর্থ: “তোমরা তাসবিহ, তাহলিল ও তাকদিসকে অবলম্বন করো এবং আঙুলের ডগার সাহায্যে গণনা করো। কারণ এগুলোর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে এবং এগুলোকে কথা বলানো হবে। আর তোমরা গাফেল হয়ো না; তাহলে রহমত ভুলে যাবে।”

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫০১
জামে‘ তিরমিযী, হাদিস: ৩৫৮৩
সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস: ৮৪২

এই হাদিস সম্পর্কে
১. ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন «هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ» “এটি গরীব হাদিস।”
২. হাফেজ ইরাকী রহ. বলেছেন «إِسْنَادُهُ جَيِّدٌ» “এর সনদ জাইয়িদ।”
৩. শাইখ শু‘আইব আরনাউত রহ. বলেছেন «إِسْنَادُهُ حَسَنٌ»এর সনদ হাসান।” (تخريج المسند, হাদিস: ২৭০৩৫)
অতএব, আঙুলের ডগার মাধ্যমে জিকির গণনা করা শুধু সাহাবির আমল নয়; বরং তা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশ দ্বারাও প্রমাণিত।

৩. কঙ্কর বা খেজুরের আঁটি দিয়ে তাসবিহ গণনা :
সুনানে আবু দাউদে সা‘দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রা.-এর হাদিস এসেছে।
«حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي هِلَالٍ حَدَّثَهُ، عَنْ خُزَيْمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهَا، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ، فَقَالَ: أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ، فَقَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِثْلَ ذَلِكَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ.»

অর্থ: সা‘দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রা. বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে এক মহিলার কাছে প্রবেশ করেন। তার সামনে খেজুরের আঁটি অথবা কঙ্কর ছিল, যার মাধ্যমে সে তাসবিহ পড়ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: “আমি কি তোমাকে এর চেয়ে সহজ অথবা উত্তম একটি পদ্ধতি বলে দেব?”এরপর তিনি তাকে এই জিকির শিক্ষা দেন “আকাশে আল্লাহ যত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার সংখ্যা পরিমাণ ‘সুবহানাল্লাহ’; পৃথিবীতে আল্লাহ যত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার সংখ্যা পরিমাণ ‘সুবহানাল্লাহ’; এ দুয়ের মাঝে তিনি যত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার সংখ্যা পরিমাণ ‘সুবহানাল্লাহ’; এবং তিনি যত কিছু সৃষ্টি করবেন, তার সংখ্যা পরিমাণ ‘সুবহানাল্লাহ’। আর অনুরূপ ‘আল্লাহু আকবার’, অনুরূপ ‘আলহামদুলিল্লাহ’, অনুরূপ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং অনুরূপ ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।”

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫০০
জামে‘ তিরমিযী, হাদিস: ৩৫৬৮
সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস: ৮৩৭

এই হাদিসের সনদ সম্পর্কে
১. হাকিম নিশাপুরী রহ. বলেছেন «هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ» “এটি সহিহ সনদের হাদিস।”
২. ইমাম শামসুদ্দিন যাহাবী রহ. বলেছেন «صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ» “মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ।”
৩. শাইখ শু‘আইব আল আরনাউত রহ. বলেছেন «حَسَنٌ لِغَيْرِهِ»
অতএব, কঙ্কর বা খেজুরের আঁটি দ্বার তাসবিহ পাঠ করার বিষয়টি ও গ্রহণযোগ্য হাদিস দ্বারা সমর্থিত।কারণ রাসুলুল্লাহ ﷺ ওই নারীকে কঙ্কর বা খেজুরের আঁটি দিয়ে জিকির করার কারণে নিষেধ করেননি; বরং তাঁকে আরও উত্তম একটি জিকির শিক্ষা দিয়েছেন।

মোল্লা আলী আল-কারি (রহ.) তাঁর مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح-এ লিখেছেন:
«قال ابن حجر: والروايات في التسبيح بالنوى والحصى كثيرة عن الصحابة، وبعض أمهات المؤمنين، بل رآها عليه السلام، وأقر عليها، قيل: وعقد التسبيح بالأنامل أفضل من المسبحة، وقيل: إن أمن الغلط فهو أولى، وإلا فهي أولى.»
অর্থ:“ইবনু হাজার বলেছেন: খেজুরের আঁটি ও কঙ্কর দ্বারা তাসবিহ গণনার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম এবং উম্মাহাতুল মুমিনীন থেকে বহু বর্ণনা রয়েছে। বরং নবী ﷺ তা দেখেছেন এবং তা অনুমোদন করেছেন। বলা হয়েছে, আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা তসবিহের দানা দ্বারা গণনার চেয়ে উত্তম। আর বলা হয়েছে, ভুল হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে আঙুলের মাধ্যমে গণনাই উত্তম; অন্যথায় তসবিহ দ্বারা গণনা উত্তম।”
(মিরকাতুল মাফাতিহ৪/৫৪)
হাশিয়াতুত তহতাবী ‘আলা মারাকিল ফালাহতে ও ইবনু হাজার রহ উদ্ধৃতিতে এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
«قال ابن حجر: والروايات بالتسبيح بالنوى والحصى كثيرة عن الصحابة وبعض أمهات المؤمنين بل رآها صلى الله عليه وسلم وأقرها عليه..»
(হাশিয়াতুত তহতাবী ‘আলা মারাকিল ফালাহ১/৩৭২)

৪. সাফিয়্যা রা.-এর সামনে ৪,০০০ খেজুরের আঁটি ছিল
জামে‘ তিরমিযীতে এসেছে
«حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَاشِمٌ، وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ الْكُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي كِنَانَةُ، مَوْلَى صَفِيَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ صَفِيَّةَ تَقُولُ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَبَيْنَ يَدَيَّ أَرْبَعَةُ آلَافِ نَوَاةٍ أُسَبِّحُ بِهَا، قَالَ: لَقَدْ سَبَّحْتُ بِهَذِهِ، أَلَا أُعَلِّمُكِ بِأَكْثَرَ مِمَّا سَبَّحْتِ؟ فَقُلْتُ: بَلَى، عَلِّمْنِي، فَقَالَ: قُولِي: سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ.»

অর্থ: সাফিয়্যা রা. বলেন:“রাসুলুল্লাহ ﷺ আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমার সামনে চার হাজার খেজুরের আঁটি ছিল, যার মাধ্যমে আমি তাসবিহ পড়ছিলাম। তিনি বললেন, ‘তুমি এগুলোর মাধ্যমে তাসবিহ পড়েছ। আমি কি তোমাকে এর চেয়েও বেশি সওয়াবের একটি পদ্ধতি শিক্ষা দেব?’আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমাকে শিক্ষা দিন।’তিনি বললেন, ‘বলবে: «سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ»

জামে‘ তিরমিযী, হাদিস: ৩৫৫৪
মুসনাদ আবু ইয়া‘লা, হাদিস: ৭১১৮
আল-মু‘জামুল আওসাত, তাবারানী, ২৪/৭৪, হাদিস: ১৯৫
আল-মুস্তাদরাক, হাকিম, হাদিস: ২০৩৪

এই হাদিসের ব্যাপারে ইমামদের বক্তব্য পরস্পর ভিন্ন।
১. ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন «هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ، لَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ صَفِيَّةَ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ هَاشِمِ بْنِ سَعِيدٍ الْكُوفِيِّ، وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمَعْرُوفٍ.»
অর্থ:এটি একটি গরীব হাদিস। হাশিম ইবনু সা‘ঈদ আল-কূফীর এই সূত্র ছাড়া সাফিয়্যা রা.-এর হাদিস হিসেবে আমরা এটিকে অন্য কোনো সূত্রে জানি না এবং এর সনদ পরিচিত নয়।”
২. ইমাম হাকেম নিশাপুরী রহ. বলেছেন «هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ» “এটি সহিহ সনদের হাদিস।”( আল-মুস্তাদরাক, হাদিস: ২০৩৪)
৩. হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. নাতায়িজুল আফকার ২/৭৬ পৃষ্ঠায় এটিকে «حَسَنٌ» বলেছেন

সাফিয়্যা রা.-এর এই হাদিসের ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম তিরমিযী রহ. সনদকে «ليس إسناده بمعروف» বলেছেন; অপরদিকে ইমাম হাকিম রহ. «صحيح الإسناد» বলেছেন এবং হাফেজ ইবনু হাজার রহ. এটিকে «حسن» বলেছেন। ফাজায়েলের ক্ষেত্রে যেহেতু জয়ীফ হাদিসও প্রমাণযোগ্য হয় সেহেতু হাদিসটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলা ঠিক হবে।

উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট:
প্রথমত আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ পড়া রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আমল ও নির্দেশ দ্বারা প্রমাণিত।
দ্বিতীয়ত: তাসবীহ পাঠ করার ক্ষেত্রে কঙ্কর ও খেজুরের আঁটি ব্যবহারের বর্ণনাও হাদিসের কিতাবে রয়েছে।
তৃতীয়ত:এসব বর্ণনার মধ্যে কিছু হাদিসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও একাধিক মুহাদ্দিস সেগুলোকে حسن، صحيح الإسناد، حسن لغيره ইত্যাদি পরিভাষায় গ্রহণযোগ্য বলেছেন।
সুতরাং শুধু এ যুক্তিতে যে, “রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে বর্তমান প্রচলিত তসবিহের দানা ছিল না” সুতরাং প্রচলিত পদ্ধতিতে তাসবীহ বর্ণনা করা বিদআত হবে, কারণ জিকিরের সংখ্যা গণনার মূল বিষয়টি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং গণনার মাধ্যম হিসেবে আঙুলের পাশাপাশি কঙ্কর ও খেজুরের আঁটির ব্যবহার সম্পর্কেও বর্ণনা রয়েছে।

চলবে..................

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদআত? পর্ব নং.১ভূমিকা:সুতা ও দানা দিয়ে তৈরি প্রচলিত তসবিহকে আরবিতে “সুবহা” (سُبْحَة) এবং “মিসবাহা...
23/08/2026

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদআত? পর্ব নং.১

ভূমিকা:
সুতা ও দানা দিয়ে তৈরি প্রচলিত তসবিহকে আরবিতে “সুবহা” (سُبْحَة) এবং “মিসবাহা” (مِسْبَحَة) বলা হয়।
মুহাম্মদ ইবনু মুকরিম ইবনু মানযূর আল-আফরীকী আল-মিসরী
তার বিখ্যাত গ্রন্থ লিসানুল আরবে (العرب, مادة: (سبح লিখেছেন: وَالسُّبْحَةُ: الْخَرَزَاتُ الَّتِي يُسَبَّحُ بِهَا.
অর্থাৎ: সুবহা হলো সেই দানাগুলো, যার মাধ্যমে তাসবিহ পাঠ করা হয়।
তাছাড়াও আল মুজামুল ওয়াসিতে. السُّبْحَة-এর সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে السُّبْحَةُ: خَيْطٌ يُنْظَمُ فِيهِ عَدَدٌ مِنَ الْخَرَزِ يُسَبَّحُ بِهِ. অর্থাৎ: সুবহা হলো এমন একটি সুতা, যাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক দানা গাঁথা থাকে এবং যার মাধ্যমে তাসবিহ পাঠ করা হয়।

আমাদের প্রচলিত ভাষায় যেহেতু অনেক সময় কোনো وسائل(উপকরণের) নাম দিয়ে সেই উপকরণের মাধ্যমে সম্পাদিত কাজকেও বোঝানো হয়, তাই দানা ও সুতা দিয়ে তৈরি এই উপকরণকেও “তসবিহ” বলা হয়। এর প্রামানিকতা কুরআন ও ব্যাকারণিকভাবে সাব্যস্ত
১. কুরআনের সুস্পষ্ট উদাহরণ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ الَّتِي كُنَّا فِيهَا
তুমি সেই জনপদের লোকদের জিজ্ঞেস করো, যেখানে আমরা ছিলাম।”(সূরা ইউসুফ: ৮২)
এখানে القرية (জনপদ)-কে জিজ্ঞেস করার কথা বলা হয়েছে। অথচ জনপদ, ঘরবাড়ি বা ভূমিকে জিজ্ঞেস করা উদ্দেশ্য নয়; বরং জনপদের অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করা উদ্দেশ্য।

২. আরবি ভাষার দৃষ্টিতে:
আরবি ভাষায় কোনো কিছুর سبب (কারণ), وسائل (মাধ্যম) ইত্যাদির নাম ব্যবহার করে তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়কে বোঝানোর ব্যবহার রয়েছে। একে সাধারণত مجاز বা إطلاق اسم السبب على المسبب বলা হয় । যেমন: আরবরা বলে رَعَيْنَا الْغَيْثَ আমরা বৃষ্টি চরিয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বৃষ্টির কারণে উৎপন্ন ঘাসে চরানো। এখানে سبب (কারণের) দ্বারা ثمره তথা ফলাফল বোঝানো হয়েছে।

কিছু মানুষ এই তসবিহ ব্যবহারকে বিদআত বলে থাকেন এবং যারা তসবিহ ব্যবহার করেন তাদেরও নিন্দা করেন। অন্যদিকে আহলে হক ওলামায়ে কেরাম তসবিহকে জিকিরের সংখ্যা গণনার একটি বৈধ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
এই বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝার জন্য প্রথমেই একটি মৌলিক পার্থক্য মনে রাখা জরুরি আর তা হল:জিকির একটি ইবাদত; আর তসবিহের দানা দিয়ে জিকিরের সংখ্যা গণনা করা হলো সেই ইবাদত সম্পাদনের একটি وسائل বা মাধ্যম। এই পার্থক্যটি স্পষ্ট হলে তসবিহ ব্যাবহারের বৈধতা সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।

★জিকিরের গুরুত্ব ও মর্যাদা★
আল্লাহর জিকির আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন, মানুষের আত্মিক উন্নতি এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
শাইখুল ইসলাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ মাদারিজুস সালিকীনে জিকিরের মর্যাদা, গুরুত্ব, প্রভাব ও বরকত সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন
তিনি জিকিরের উপকারিতা সম্পর্কে তাঁর الوابل الصيب ورافع الكلم الطيب গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন :
وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي الذِّكْرِ نَحْوَ مِائَةِ فَائِدَةٍ فِي كِتَابِنَا «الْوَابِلِ الصَّيِّبِ وَرَافِعِ الْكَلِمِ الطَّيِّبِ»، وَذَكَرْنَا هُنَالِكَ أَسْرَارَ الذِّكْر وَعِظَمَ نَفْعِهِ، وَطِيبَ ثَمَرَتِهِ.
আমি ‘আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব ও রাফিউল কালিমিত ত্বইয়্যিব’ গ্রন্থে জিকিরের প্রায় একশত উপকারিতা উল্লেখ করেছি। সেখানে আমরা জিকিরের রহস্য, এর বিরাট উপকারিতা এবং এর উত্তম ফলাফলও উল্লেখ করেছি।” (মাদারিজুস সালিকিন২/৪৪৮)

পবিত্র কুরআন মাজিদে বিভিন্ন পদ্ধতি ও বর্ণনাভঙ্গিতে আল্লাহর জিকিরের প্রতি গুরুত্বারোপ, উৎসাহ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও ঈমানদারদের জিকিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও আল্লাহকে ভুলে যাওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে, কোথাও সফলতা ও কল্যাণকে অধিক জিকিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং কোথাও জিকিরকারীদের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত, ক্ষমা ও প্রতিদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহর জিকিরের প্রতি ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছেন।

১. আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রা.-এর হাদিস
ইমাম ইবনু হিব্বান রহ. তাঁর সহিহ-ইবনে হিব্বানে বর্ণনা করেছেন:

«أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ قَيْسٍ الْكِنْدِيَّ حَدَّثَهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيَّانِ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي بِأَمْرٍ أَتَشَبَّثُ بِهِ، قَالَ: «لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ».»
অনুবাদ:আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রা. বলেন, দুইজন বেদুঈন নবী ﷺ-এর কাছে এল। তাদের একজন বলল, “হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি বিষয় বলে দিন, যা আমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে পারি।” তিনি বললেন, “তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে।”
(সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস: ৮১৪;) এছাড়াও ইমাম তিরমিযী রহ.সুনানুত তিরমিজি, হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন:«هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْہ»

২. মু‘আয ইবনু জাবাল রা.-এর হাদিস
ইমাম ইবনু হিব্বান রহ. পূর্ন সনদে বর্ণনা করেছেন:
«أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ مَكْحُولٌ بِبَيْرُوتَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّ بْنُ هَاشِمٍ الْبَعْلَبَكِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «أَنْ تَمُوتَ وَلِسَانُكَ رَطْبٌ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ».»
অনুবাদ:মু‘আয ইবনু জাবাল রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, “আমলসমূহের মধ্যে কোন আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়?” তিনি বললেন, “তোমার মৃত্যু এমন অবস্থায় আসা যে, তোমার জিহ্বা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত।”
(সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস ৮১৮,)
এ হাদিসের সনদ সম্পর্কে মুহাক্কিক শু‘আইব আল-আরনাউত রহ.উল্লেখ করেন যে, এ সনদে ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম নামক একজন মুদাল্লিস দাবী রয়েছে এবং তিনি ‘আন‘আনাহ সহ বর্ননা করেছেন;এছাড়া এই হাদিসের অন্য রাবিরা নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া এই হাদিসের শাওয়াহিদ অন্য সহীহ হাদিসে বিদ্যমান রয়েছে। যেমন: «لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ» এই হাদিসটি সুনানের তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ মুসনাদে আহমদে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী রহ. এই হাদিস উল্লেখ করে বলেন هذا حديث حسن غريب ، ইবনে রজব হাম্বলি রহ. جامع العلوم والحكم এটাকে সহীহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহর জিকির” ব্যাপক অর্থে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দুআ ইত্যাদিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তবে বিশেষভাবে প্রচলিত অর্থে আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা, একত্ববাদ , প্রশংসা, মহত্ত্ব , বড়ত্ব এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি প্রকাশার্থে উচ্চারিত শব্দকে আল্লাহর জিকির ও তাসবিহ বলা হয়। শরিয়তে বিভিন্ন জিকিরের নির্দিষ্ট বাক্য যেমন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তেমনি কোনো কোনো জিকিরের নির্দিষ্ট সংখ্যাও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

যেমন: ইমাম বুখারী রহ. পূর্ণ সনদে হযরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন
«حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّه قَالَ: «مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ».»
অনুবাদ :যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশবার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বলবে, তার গুনাহগুলো মুছে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো হয়।”
( সহিহুল বুখারি হাদিস ৬৪০৫)

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেই «مِائَةَ مَرَّةٍ» “একশবার” সংখ্যা উল্লেখ করেছেন। ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যাটি যথাযথভাবে পূর্ণ করার জন্য গণনার প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক। জিকিরের সংখ্যা গণনা কোনো অনর্থক কাজ নয়। বরং নির্দিষ্ট সংখ্যার জিকিরের ক্ষেত্রে এটি আমলকে সুশৃঙ্খল রাখতে সাহায্য করে।যখন শরিয়ত কোনো জিকিরের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেছে তখন সেই সংখ্যা পূর্ণ হয়েছে কি না তা জানার জন্য গণনার প্রয়োজন হয়।এখানে মূল ইবাদত হলো জিকির; আর সংখ্যা নির্ণয় করা হলো সেই ইবাদত যথাযথভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যম।সুতরাং জিকির এবং জিকিরের গণনামাধ্যমকে একই বিষয় মনে করা ঠিক নয়।
হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. জিকির গণনার একটি উপকার উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হলো:শুরুতে নফসকে কোনো নেক আমলে অভ্যস্ত করানো কঠিন হয়। কিন্তু যখন তসবিহের মাধ্যমে জিকিরের সংখ্যা গণনা করা হয়, তখন নফসের মধ্যে একটি আনন্দ সৃষ্টি হয় যে, আজ এত পরিমাণ আমল করা হয়েছে এবং এত সওয়াবের আশা করা যায়। এতে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি আমল করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়।অন্যদিকে কোনো হিসাব ছাড়া যতই জিকির করা হোক, নফস ক্লান্ত হতে পারে; কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ আমল করার যে আনন্দ ও উৎসাহ, তা সৃষ্টি নাও হতে পারে। অতএব, জিকিরের সংখ্যা গণনা করা বিশেষত নিয়মিত আমল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

চলবে..............

BKM এর মোল্লা খালিদদের রাজনীতি আসলে কোন মানদণ্ডে চলে সেটিই এখন মুখ্য প্রশ্ন!বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (BKM)-এর কিছু নেতার জা...
16/08/2026

BKM এর মোল্লা খালিদদের রাজনীতি আসলে কোন মানদণ্ডে চলে সেটিই এখন মুখ্য প্রশ্ন!

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (BKM)-এর কিছু নেতার জামায়াতের আকিদা নিয়ে অবস্থান দেখে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে তা হল তাদের কাছে আকিদা যাচাইয়ের মানদণ্ড কি সত্যিই নীতিনির্ভর, নাকি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশনির্ভর?
জামায়াতের পক্ষ থেকে যখন বলা হয় “আমরা মওদুদীর সব আকিদায় বিশ্বাস করি না।”
তখন মোল্লা খালিদদের মতো নেতারা বলেন “তারা নিজেরাই বলছে যে তারা মওদুদীর আকিদায় বিশ্বাস করে না। অতএব তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যই গ্রহণ করতে হবে। অন্তরের কথা আল্লাহই জানেন।”

বেশ! যদি এটাই নীতি হয়, তাহলে প্রশ্ন হলো:এই নীতি কি সবার জন্য, নাকি শুধু জামায়াতের জন্য?
আহমদিয়া মুসলিম জামাতও (কাদিয়ানী) নিজেদের ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিভিন্ন বক্তব্য দেয়। তাদের প্রচারসামগ্রী ও বিভিন্ন প্রকাশনায় তারা হজরত মুহাম্মদ ﷺ-কে “খাতামুন নাবিয়্যিন” তথা শেষ নবী হিসেবে মানার কথা বলে। তাহলে প্রশ্ন হলো তাদের এই প্রকাশ্য বক্তব্যও কি একইভাবে গ্রহণ করা হবে?
জামায়াতের ক্ষেত্রে যদি বলা হয় “তারা নিজেদের আকিদা সম্পর্কে যা বলছে, সেটাই গ্রহণ করতে হবে; তাদের অন্তরের খবর আমাদের জানার বিষয় নয়।” তাহলে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি প্রযোজ্য হবে না? নাকি জামায়াতের জন্য এক নিয়ম, আর অন্যদের জন্য আরেক নিয়ম?

এখানেই আসল পরীক্ষা।
দুটি পথের একটি বেছে নিন. কিন্তু সবার জন্য একই পথ খোলা রাখুন । নীতিগতভাবে এখানে দুটি পদ্ধতি হতে পারে।
প্রথম পথ: শুধু প্রকাশ্য বক্তব্য গ্রহণ।
যদি আপনার নীতি হয় কোনো দল বা গোষ্ঠী নিজেদের বিশ্বাস সম্পর্কে যা প্রকাশ্যে বলে, সেটিই গ্রহণ করতে হবে; তাহলে জামায়াতের “আমরা মওদুদীর আকিদায় বিশ্বাস করি না” এই বক্তব্য যেমন গ্রহণযোগ্য হবে, তেমনি আহমদিয়া মুসলিম জামাতের “আমরা মুহাম্মদ ﷺ-কে শেষ নবী হিসেবে মানি”এই বক্তব্যও একই নীতিতে গ্রহণ করতে হবে।
দ্বিতীয় পথ:
প্রকাশ্য বক্তব্যের পাশাপাশি দলিল-প্রমাণ ও বাস্তব অবস্থান যাচাই।
যদি বলেন শুধু মুখের বক্তব্য যথেষ্ট নয়; বরং কোনো সংগঠনের প্রকৃত বিশ্বাস বুঝতে তাদের বই, সাহিত্য, নেতাদের বক্তব্য, সাংগঠনিক নীতি, দীর্ঘদিনের অবস্থান ও অন্যান্য প্রমাণও যাচাই করতে হবে তাহলেও কোনো আপত্তি নেই।কিন্তু তখন ও সেই একই মানদণ্ড সবার জন্য প্রয়োগ করতে হবে।
জামায়াতের ক্ষেত্রে মওদুদীর বই, তাদের সিলেবাস, নেতাদের বক্তব্য ও সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই করা হবে, আহমদিয়া মুসলিম জামাতের ক্ষেত্রেও তাদের ধর্মীয় সাহিত্য, প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বের বক্তব্য এবং আকিদাগত অবস্থান একইভাবে যাচাই করতে হবে।
একজনের ক্ষেত্রে দলিল-প্রমাণ চাইবেন, আর অন্যজনের ক্ষেত্রে শুধু মুখের কথা মেনে নেবেন এটা কোনো নীতি নয়; এটা দ্বৈতনীতি।

আসল প্রশ্ন হল রাজনৈতিক স্বার্থ কি আকিদার মানদণ্ড ও বদলে দেয়?
নির্বাচনী জোট, রাজনৈতিক সমঝোতা, পারস্পরিক সহযোগিতা কিংবা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে কি আকিদা যাচাইয়ের মানদণ্ড ও পরিবর্তিত হবে? জামায়াতের ক্ষেত্রে যদি বলা হয়
“তারা নিজেরাই তো বলছে, তারা মওদুদীর আকিদায় বিশ্বাস করে না; তাই তাদের বক্তব্য গ্রহণ করতে হবে।” তাহলে অন্য কোনো পক্ষের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি গ্রহণ করতে হবে।
আর যদি অন্যদের ক্ষেত্রে বলা হয় “শুধু মুখের কথা যথেষ্ট নয়; তাদের প্রকৃত আকিদা যাচাই করতে হবে।”তাহলে জামায়াতের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন করতে হবে।এখানে সুবিধামতো নীতি বদলানোর সুযোগ কোথায়?একজনের জন্য এক পাল্লা, আরেকজনের জন্য অন্য পাল্লা এটা ইনসাফ নয়।
বরং এটা হলো সুবিধামতো মানদণ্ড তৈরি করা।

আকিদার প্রশ্নে রাজনৈতিক ক্যালকুলেশন কেন?
আকিদার প্রশ্ন যদি সত্যিই আকিদার প্রশ্ন হয়, তাহলে সেখানে রাজনৈতিক জোটের হিসাব ঢুকবে কেন?আজ যার সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা আছে, তার বক্তব্যকে “প্রকাশ্য বক্তব্য” বলে গ্রহণ করা হবে;আর যার সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা নেই, তার বক্তব্যকে সন্দেহের চোখে দেখে বলা হবে “তার অন্তর্গত বিশ্বাস খুঁজে বের করতে হবে”
এ কেমন নীতি?যদি কোনো বক্তব্য সত্য হয়, তাহলে রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে সেটি সত্য হবে না; আর রাজনৈতিক সম্পর্ক না থাকলে মিথ্যা হয়ে যাবে না। সত্যের মাপকাঠি রাজনৈতিক জোট নয়।

তাওহীদ রিফাত
১৬/০৮/২৬

15/08/2026

صلى الله عليه وسلم

21/01/2026

জামায়াতে ইসলামী: শরীয়াহ “অসম্ভব” প্রচারের রাজনীতি ও ইসলামের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।

শরীয়াহ আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ও অপরিহার্য শর্ত হলো জনগণের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন। আর এই সমর্থন আপনা-আপনি আসে না মানুষকে শরীয়াহ শাসনের ন্যায়, বাস্তবতা ও কল্যাণের ব্যাপারে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে হয়।
কিন্তু বিপরীতভাবে যদি কোনো কথিত ইসলামিক দল জনগণের মধ্যে এই ধারণা ছড়ায় যে “বাংলাদেশে শরীয়াহ শাসন সম্ভব নয়”, তাহলে সেটি মানুষের মনোবল ভাঙার শামিল। এমন দল কখনোই জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন আদায় করতে পারবে না, এবং বাস্তবে ক্ষমতায় গিয়েও শরীয়াহ বাস্তবায়নের ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না।

এর পাশাপাশি একটি মৌলিক সত্য হলো যে দল নিজেই তার নেতাকর্মীদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ, সে দল রাষ্ট্রে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার দাবি করার নৈতিক অধিকার হারায়।
নিজেদের ঘরে, আচরণে ও সিদ্ধান্তে শরীয়াহ অনুপস্থিত রেখে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শরীয়াহর কথা বলা নিছক ভণ্ডামি।
অতএব, যদি কোনো কথিত ইসলামিক দল
নিজেরা পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা না করে, এবং একই সঙ্গে প্রচার করে যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব,
তাহলে তা স্পষ্টভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের ইসলামিক চেতনার সঙ্গে প্রতারণা করা।
এ ধরনের রাজনীতি ইসলাম প্রতিষ্ঠার রাজনীতি নয়; বরং ইসলামের নামে ক্ষমতা দখলের কৌশলমাত্র।

তাওহীদ রিফাত
২১/১/২৬

20/01/2026

ইসলামের নামে শয়তানি রাজনীতি: জামায়াতের আসল রূপ এখন উন্মোচিত

একটা নির্মম সত্য বলি
গত দেড় বছর আপনি শান্তিতে রাজনীতি করতে পেরেছেন একটাই কারণে: তখন আপনি জামায়াতের সাথে ছিলেন। তাই তারা তখন গালি দেয়নি, প্রোপাগান্ডা চালায়নি, চরিত্রহনন করেনি।
কিন্তু এখন আপনি জামায়াতের সাথে নেই।
আর জামায়াতের রাজনীতিতে একটাই নীতি এলায়েন্সে থাকলে ফেরেশতা, বের হলেই শয়তান।
এখন শুরু হয়েছে তাদের আসল নোংরা রাজনীতি।
চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলনের নামে এমনসব জঘন্য, কুৎসিত ও কল্পনাতীত মিথ্যাচার তারা ছড়াচ্ছে যা ইবলিশ শয়তান ও করতে লজ্জা পায়। শয়তানও কাউকে নিয়ে এসব বানাতে দশবার ভাববে। কিন্তু জামায়াতের কাছে এগুলো শুধু বৈধই না, বরং ইবাদতসম রাজনীতি।
এখন আপনার নামে যা খুশি তাই বলা বৈধ।
পৃথিবীর সব মিথ্যা একত্র করে ছড়ানো বৈধ।
চরিত্রহত্যা, অপবাদ, সোশ্যাল ব্যাশিং সবই হালাল।
কারণ আপনি এখন “তাদের লোক” নন।
ইতোমধ্যে শুরু করেছে আলহামদুলিল্লাহ।
সকাল-সন্ধ্যা প্রোপাগান্ডার কারখানা ফুল স্পিডে চলছে। এমনসব মিথ্যা তারা এখন ছড়াচ্ছে, যা শুনলে শয়তানও বলবে “এটা তো বেশি হয়ে গেছে!”

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো
এইসব কুকর্ম তারা করে ইসলামের নামে।
দলের নামের সাথে ইসলাম জুড়ে দিয়ে।
ধর্মকে ঢাল বানিয়ে মিথ্যা, কুৎসা আর চরিত্রহনন চালায়।যে দল ইসলামের নামে মিথ্যাচারকে রাজনীতি মনে করে,
যে দল ইসলামের নামে মানুষের সম্মান ধ্বংস করাকে জায়েজ মনে করে
তারা ইসলামের প্রচারক না, ইসলামের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর শত্রু।ইসলামের ক্ষতি করার জন্য যদি এমন দল থাকে,তাহলে ইসলামের বিরুদ্ধে আর আলাদা করে শয়তানের দরকার কী?

তাওহীদ রিফাত
২০/১/২৬

19/01/2026

ইকামতে দীন থেকে পিছু হটা: জামাআতের দাওয়াত, দ্বিচারিতা ও ঐতিহাসিক আত্মস্বীকৃতি

জামাআত প্রকাশ্যে তার তথাকথিত ‘ইকামতে দীন’-এর মিশন থেকে সরে এসেছে। এখন নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক হলো তাদের দাওয়াত থেকেও সরে আসা। অন্যথায় এটি আর দাওয়াত থাকবে না; তা পরিণত হবে শঠতা, প্রতারণা ও ধর্মব্যবসায়।
প্রায় এক শতাব্দী ধরে খেলাফতহারা উম্মাহকে ‘ইকামতে দীন’-এর নামে যে দাওয়াত দিয়ে জামাআত নিজেদের দল ভারী করেছে, ড. শফীক সাহেবের নেতৃত্বাধীন জামাআত আজ সেই মূল দাবিকেই অস্বীকার করছে। তারা সংখ্যালঘু হিন্দু খ্রিস্টানদের আশ্বাস দিচ্ছে ক্ষমতায় গেলে শরীয়া বাস্তবায়ন করা হবে না। এমনকি সেই আশ্বাসের ধারাবাহিকতায় কোথাও কোথাও কট্টর হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতেও তারা দ্বিধা করেনি।

কেন এই পিছু হটা?
নিশ্চয়ই তারা বলবে রাষ্ট্রে শরীয়া বাস্তবায়নের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।কিন্তু যদি এটাই একমাত্র ও চূড়ান্ত বাস্তবতা হয়, তাহলে প্রশ্ন জাগে
‘এতক্ষণ অরিন্দম কহিলা বিষাদে?’
এই সত্য তো আমাদের আকাবির বুযুর্গগণ বহু আগেই বলে এসেছেন। দাওয়াত-তাবলীগের মেহনতকারীরাও শুরু থেকেই বলে আসছেন ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে গভীর দীনী ঘাটতি রেখে হঠাৎ করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম কায়েম করা কখনোই সম্ভব নয়।নির্মাণ শুরু করতে হয় ভিত্তি থেকে, চূড়ায় ওঠা আসে পরে এটাই নবীগণের মানহাজ।এই মানহাজ ধরেই আমাদের বুযুর্গগণ কাজ করে গেছেন। হযরত ইলয়াস (রহ.) এই উপলব্ধি থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে তাবলীগের কাজ শুরু করেছিলেন, আর উলামায়ে রাব্বানী তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। যে সত্য আমাদের আকাবির বহু আগেই বুঝেছিলেন, জামাআত হয়তো শত বছর পর এসে তা উপলব্ধি করেছে।
“কলন্দর জো গোয়াদ দীদাহ গোয়াদ।”

এখন অনিবার্য প্রশ্ন হলো
এতদিন জামাআত আমাদেরকে যে গালিগালাজ করেছে, ট্যাগ দিয়ে জর্জরিত করেছে, ‘ইকামতে দীন করছে না’ বলে অভিযুক্ত করেছেতার দায় কি তারা নেবে?তাবলীগ জামাআত ও দাওয়াত-ইসলাহে নিয়োজিত পীর-বুযুর্গদের কাছে কি তারা ক্ষমা চাইবে?নৈতিকতার খাতিরে, সত্যের খাতিরে ক্ষমা চাওয়া তাদের অবশ্যকর্তব্য।

‘ইকামতে দীন’ আন্দোলনের ভ্রান্ত ভিত্তি
বাস্তবতা হলো ইকামতে দীন’-এর নামে যে নতুন আন্দোলন মাওলানা মওদূদী ও সাইয়েদ কুতুব (রহ.) প্রবর্তন করেছেন, তা শুনতে ও ভাবতে যতই মোহনীয় হোক না কেন, এটি মূলত এক অলীক ও অসার দাওয়াত।এর সঙ্গে নববী মানহাজের মৌলিক কোনো সম্পর্ক নেই।।এই অসারতা উপলব্ধি করেই জমহুর আলিমগণ শুরু থেকেই এই ধারার সঙ্গে একাত্ম হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মাওলানা মনজুর নোমানী, সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভী (রহ.) সহ জামাআতের প্রতিষ্ঠাকালীন বহু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য একসময় জামাআত ত্যাগ করেছেন এবং নববী মানহাজ অনুযায়ী ভিন্ন ধারায় কাজ করে গেছেন

তাওহীদ রিফাত
১৮/১/২৬

19/01/2026

আমীরে জামায়াতের আসনে ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকেই কোনো প্রার্থী দেয়নি। অন্যদিকে, জামায়াতও শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের আমীরের আসন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যদি শুরুতেই নেওয়া হতো, তাহলে অনেক জটিলতা, টানাপোড়েন ও অপ্রয়োজনীয় নাটক এড়ানো যেত।
কিন্তু বরিশাল-৫ আসন নিয়ে জামায়াত যা করেছে, তা কোনোভাবেই ভোলার মতো নয়। সেখানে তারা কম লেবু চেপে নেয়নি বরং চিপে চিপে পুরো বিষয়টিকে তিক্ত করে তুলেছিল। রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সৌজন্য কিংবা পারস্পরিক সম্মানের ন্যূনতম বালাই সেখানে দেখা যায়নি।
শায়েখে চরমোনাইয়ের মুখ বন্ধ রাখা, কিংবা তার অবস্থানকে চাপে রাখার জন্য জামায়াত এই সামান্য ‘ত্যাগ’ করতেই পারে এটা তাদের জন্য বড় কোনো সেক্রিফাইস নয়। বরং এটি ছিল বাস্তবতার চাপে পড়ে নেওয়া একটি বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত, কোনো মহান উদারতার নিদর্শন নয়।

তাওহীদ রিফাত
১৮/১/২৫

Address

Kazipur-Sirajgong
Bogura

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mufti Tawhidul Islam Rifat posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share