12/12/2022
১৯৫০-এর দশক ও ঢাকার চা....
আমাদের বাড়ির সদর দরজার ঠিক বাইরে বসে প্রতিদিন সকালে চা বানাত অবাঙালি এক লোক। এক পাতিল ভর্তি চা সে দিয়ে যেত আমাদেরকে প্রতিদিন।মা প্রায়ই বলতেন ওকে, 'এত চা দেন কেন?' কিন্তু ওই কথা শুনে চা-এর পরিমাণ কোনদিন কমায়নি লোকটা।আসলে নতুন পানীয় হিসেবে চা-এর জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য চা-বাগানের মালিকদের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চা খাওয়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তখন।
যা-হোক,কোনো কোনো সকালে রুটি বা বিস্কিট কিনে আনতেন দাদাভাই বা মিয়াভাই,দারূণ মজাদার সেই চা-এ ভিজিয়ে খেতাম আমরা।তখন আবার কুলচা বিস্কিট নামের সুস্বাদু একটা বিস্কিটের প্রচলন ছিল।গুড়,যবের ভুষি আর সপ দিয়ে বানানো হতো এটা,উপরে দুচারটা কিশমিশও দেয়া থাকত।সব মুদি দোকানেই পাওয়া যেত এই বিস্কিট।ইংরেজি 'এস' অক্ষরের মতো দেখতে আরেক জাতের বিস্কিটের চল ছিল খুব,নাম ক্র্যাশ বিস্কিট,আমরা অবশ্য বলতাম কান বিস্কিট।কোনো বাড়িতে মেহমান এলে তাঁকে কুলচা এর কান বিস্কিট দিয়ে আপ্যায়ন করা হলে সুনাম হতো খুব।
অবাঙালি ওই চা-বিক্রেতা বলতে গেলে হুট করেই উধাও হয়ে যায় একদিন।ততদিনে মহল্লাবাসীদের চা-এর নেশা হয়ে গিয়েছে,সুতরাং তাদের চাহিদা মেটানোর জন্য আমাদের বাড়ির আশেপাশে চা-এর বেশ কয়েকটা দোকান চালু হয়ে গেল।এদের কেউ কেউ আবার চা-এর সঙ্গে দুধ-মালাই মেশাত,ফলে খেতে আরো মজা লাগত।