13/09/2025
মুক্তিযুদ্ধে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ (পাকশী,ঈশ্বরদী)
***************************************
সেদিন যেভাবে হার্ডিঞ্জ ব্রিজে বোমা হামলা করা হয়েছিল, তার বর্ণনা করেন ঈশ্বরদীর কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানি কমান্ডার (পাবনা এফএফ) কাজী সদরুল হক তাঁর বর্ণনায় জানান, যুদ্ধের শেষের দিকের ঘটনা। ১৪ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীজুড়ে ১০টি অপারেশন ক্যাম্প তখনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। এরই মধ্যে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে পালাতে শুরু করে পাকিস্তানি সেনারা। তারা ওই দিন (১৪ ডিসেম্বর) পালিয়ে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ হয়ে ঈশ্বরদীর দিকে আসছিল। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করার জন্য চরসাহাপুরে প্রকৌশলী আব্দুল গফুরের বাড়ির সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন।
যশোর-কুষ্টিয়া তখন মুক্ত হয়ে গেছে। দলে দলে পাকিস্তানি হানাদােররা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পার হতে লাগল। ব্রিজে তারা ডিনামাইট (চার্জ) লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোজন করে রেখেছিল। কারণ অবস্থা বেগতিক দেখলে ব্রিজটি উড়িয়ে দেওয়া হবে। তারা বেশ ক্ষুধার্ত ছিল বলে মনে হয়েছিল।
পাকিস্তানি সেনাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা ঈশ্বরদী-কুষ্টিয়া সড়কের ধারে অবস্থান নিয়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে পাকিস্তানি সেনারা কর্ণপাত না করে গুলি ছুড়তে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা গুলি চালালে পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ শুরু করে দেয়। একপর্যায় মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে গ্রামের চারপাশ দিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ঘিরে ফেলেন। বেপরোয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তানি সেনারা। তারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর দিয়ে ট্যাংক, কামান ও জিপ নিয়ে পার হতে থাকে। সদরুল হক বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা মিত্র বাহিনীর স্থানীয় কমান্ডারের কাছে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর সহযোগিতা চাই। দুপুর ১২টার দিকে পাকশীর আকাশ দিয়ে ভারতীয় পাঁচটি যুদ্ধবিমান হার্ডিঞ্জ সেতুর ওপর চক্কর দিতে থাকে। এরপর শুরু হয় বিমান থেকে বোমাবর্ষণ। চার-পাঁচটি বোমা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর নিক্ষেপ করা হয়।
বোমার প্রচণ্ড আঘাতে এ সময় ব্রিজের ১২ নম্বর স্প্যানটির একদিকের অংশ ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। আরেকটি স্প্যানের মারাত্মক ক্ষতি হয়। হঠাৎ বোমার আওয়াজে চমকে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধারা। আর দলবদ্ধ ও অ্যাম্বুশ ভেঙে পাকিস্তানি সেনারা পাকশী থেকে পালিয়ে যেতে শুরু করে।’
পুরো ঘটনা কমেন্টের লিংকে।