Mama's Closet

Mama's Closet মায়ের হাতের রান্না স্বাদ মামা’স ক্লো?

24/04/2026

ভিন্ন স্বাদে শামসের আলীর ভুনা খিচুড়ি

জিয়াউল জিয়া

বাঙালিদের কাছে বৃষ্টির দিনের সঙ্গে খিচুড়ির সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ। আগেকার দিনে বৃষ্টির সময়ে রান্না সহজে করার তাগিদ থেকে চাল-ডাল একসাথে মিশিয়ে রান্না করা হতো খিচুড়ি। তবে সেই খিচুড়ি এখন আর নিছক প্রয়োজন হয়ে নেই, বৃষ্টি উপভোগের অন্যতম মাধ্যম বা সঙ্গী হয়ে রয়েছে।

সাধারণত বৃষ্টির দিনে বাসা-বাড়িতে খিচুড়ি রান্না হয়েই থাকে। তবে কখনো-সখনো খিচুড়ি খেতে বাইরেও যেতে চায় মন। তেমন হলে স্বাদ নেওয়া যেতে পারে পুরান ঢাকার সাত রওজা এলাকার শামসের আলীর ভুনা খিচুড়ির।

দোকানে ঢুকতেই চোখে পড়ে সাইনবোর্ডের লেখা - ‘বৃষ্টিভেজা দিন, ভুনা খিচুড়ির মজা নিন।’ দোকানটি ছোট। কক্ষের দেয়ালে টিয়ে রং। তিনটি টেবিল, সেখানে বসতে পারবেন ১২ জন। আশপাশে আছে স্বনামখ্যাত কিছু বিরিয়ানির দোকান। তবে খিচুড়ির দোকান এইটিই।

পাওয়া যায় চার ধরনের খিচুড়ি; স্পেশাল লেগ খিচুড়ি তার ভেতর সবচেয়ে বিখ্যাত। দাম শুনে অনেকের কাছেই মনে হতে পারে বেশি। তবে একটু আলাদা ধরনের স্বাদ চাইলে পরখ করে দেখা যেতেই পারে।

ভুনা খিচুড়ি, কিন্তু তেলের বাড়াবাড়ি নেই। ঝাল-মসলা খুব পরিমিত। সঙ্গে খাসির সুসিদ্ধ, মোলায়েম মাংস। এর সাথে আছে তাদের জলপাইয়ের আচার, সালাদ ও ‘এক্সট্রা’ ঝোল।

সাধারণত দোকানে যে ধরনের খিচুড়ি খাওয়া হয়ে থাকে, এর স্বাদ সে তুলনায় একটু ভিন্ন। মাংসের টুকরো খুবই নরম, ঝাল কম।

দোকানের ক্যাশে বসেন মো.আছির। তিনি জানান, ‘আমার আগে নিজের দোকান ছিলো, চিকেন তেহারির। পরে বয়সের কারণে আর চালাতে পারতাম না। তারপর এই দোকানে ঢুকলাম।’

তার কাছ থেকে জানা গেল দোকানের এই খিচুড়ির ভিন্ন স্বাদের রহস্য। রহস্যটা আসলে ডাল ও মসলায়।

তিনি বললেন, ‘দোকানটার শুরু ২০০৪ সালে। শামসের আলী একসময় সৌদি আরবে ছিলেন। সেখান থেকে দুবাই, ইন্ডিয়া হয়ে এখানে, মানে আবার বাংলাদেশে। তার ইন্ডিয়ান এক বন্ধুর থেকে এই রেসিপি প্রথম পান। তারপর দেশে ফিরে সেই রেসিপি অনুযায়ী রান্না করতে থাকেন। অল্পদিনেই নাম ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই রেসিপিটি জানাজানি হোক তা তিনি চান না। তাই এর কোনো শাখা করেননি।’

শামসের আলী ১৯৯৭ সালে রোজগারার্থে যান সৌদি আরবে। তার সেই ভারতীয় বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় সেখান থেকেই৷ রান্নার ধরনটি মূলত দিল্লীতে প্রচলিত একটি রেসিপি থেকে নেয়া। বন্ধুর রান্না করা সেই খিচুড়ি খেয়ে মুগ্ধ হন শামসের আলী। তার অনুরোধে সেই ভারতীয় পাচক তাকে শিখিয়ে দেন খিচুড়ি রান্নার পদ্ধতি।

২০০৩/০৪ সালের দিকে দেশে ফেরেন শামসের আলী। তারপর ক্রেতাদের ভিন্ন স্বাদ দিতে শুরু করেন এই খিচুড়ি রান্না। প্রথমদিন মাত্র ২ কেজি চাল দিয়ে অল্প খিচুড়ি রাঁধেন। সেটি শেষ হয়ে যায় অল্প সময়েই। এরপর ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে যায় তার দোকানের নাম।

আছির জানান, শামসের আলী নিজেই সব রান্না করেন। উনি পুরান ঢাকার বংশালের ছেলে। এই রান্নার জন্য সাধারণভাবে যেসব মসলা লাগে, সেসব তো ব্যবহার করা হয়ই, এর বাইরে ইন্ডিয়া থেকেও উনি মসলা আনান। প্রতিদিন কসাইটুলি থেকে টাটকা খাসির মাংস আনা হয়। রানের দিকের আর সিনার দিকের। পাঁজর, গর্দানের মাংস নেওয়া হয়না। কন্ট্রাক্ট আছে এক দোকানের সঙ্গে। তারা চাহিদামতো পিস করে দেয়। কেজিতে ১২০০ টাকার মতো দাম পড়ে। দৈনিক ৩০-৪০ কেজি মাংস লাগে।

আছির আরো জানান, একটা রানের মাংস থেকে তিন ধরনের পিস হয়। স্পেশাল লেগ, রানের চাকা মাংস আর পেছনের মাংস। সিনার দিক থেকে হয় চাপের মাংস। এই মোট চার ধরনের মাংসের আইটেম। এর সঙ্গে দেওয়া হয় মুগ আর মাসকালাইয়ের ডাল।

মুগ ডাল আমাদের দেশেরগুলো হয় একটু বড়। তাই শামসের আলী ইন্ডিয়ান মুগ ডাল ব্যবহার করেন। এর সঙ্গে দেশি মাসকালাই। চাল ডালের অনুপাত প্রায় সমান। আর জিরা, গোলমরিচ, গরম মসলা - এগুলো তো আছেই, আলাদা কিছু মসলা ভারত থেকে আনান, সেটা সিক্রেট!

দোকানে রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার ছবি। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার হাতের রান্না খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন বলে জানা গেল। বঙ্গভবনের এক অনুষ্ঠানের জন্য রেঁধেছিলেন গরুর মাংসের কয়েকটি পদ। নুনিয়া শাক দিয়ে গরুর মাংস, আনারস, আমড়া দিয়েও গরুর মাংসের পদ। এর সঙ্গে তার ট্রেডমার্ক সেই খিচুড়ি। পরে জেলা প্রশাসক থেকে শুনেছিলেন, রাষ্ট্রপতি তার রান্নার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন!

ব্যাপক সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও অন্য কোথাও শাখা খোলেননি শামসের আলী। এ ব্যাপারে মো. আছির জানালেন, ‘উনি এখনো নিজ হাতে পুরো খাবার রান্না করেন। অন্য কাউকে রেসিপি জানাননি। আর এটা জানাজানি হোক তা তিনি চাননি, তাই কোনো শাখা খোলেননি।’

শামসের আলীর এই খিচুড়ির স্বাদ অপরাপর খিচুড়িগুলো থেকে ভিন্ন। এর পেছনে মূলত ভূমিকা রেখেছে ভারতীয় সেই মসলাগুলো আর মুগ ডাল। তবে কারো কাছে এই খিচুড়ি যেমন লা-জবাব, আবার কারো কাছে ব্যতিক্রমি এই স্বাদ তেমন মনকাড়া নয়।

যেহেতু অন্য কেউই রেসিপি জানেনা, সেক্ষেত্রে এই খিচুড়ি কি একসময় হারিয়ে যাবে- এমন প্রশ্নে হেসে মো.আছির বললেন, ‘শামসের আলীর ছেলে আছে। এ এখনো ছোট। বড় হলে ওকে হয়তো রেসিপি শিখিয়ে দেবেন। তবে শামসের আলী চান অন্য সব দোকান থেকে আলাদা স্বাদ নিয়ে টিকে থাকুক এই খিচুড়ি, তাই মসলা বা রান্নার প্রক্রিয়া নিয়ে এই গোপনীয়তা বজায় রাখেন।’

প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮ টা / সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই দোকানটি। আছির বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে কখনো কখনো সন্ধ্যা ৬টার ভেতরই খাবার শেষ হয়ে যায়। আপনি ৪টার দিকে যে খেলেন, এটা রাতের শিফটের খাবার। আজকে বিক্রি-বাট্টা বেশি, তাই পরের শিফটের খাবার আগেই চলে আসছে, হয়তো সন্ধ্যার ভেতরেই শেষ হয়ে যাবে।’

03/04/2026
29/03/2026

নিজেদের সামরিক শক্তি নিয়ে প্রপাগান্ডা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের পুরাতন পেশা...যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রপাগান্ডা চালানোর আরেক হাতিয়ার হলো হলিউড মুভি...সেখানে যা দেখানো হয় তা মেয়াদ উত্তীর্ন গাঁজার পারফরমেন্সকেও হার মানায়...এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মার্কিন বাহিনী এবার স্মরণকালের সবচেয়ে কঠিন বাহিনীর মোকাবিলা করতে যাচ্ছে...ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে সর্বস্ব দিয়ে লড়তে হবে...আইআরজিসি’র হামলার মুখে তাদের দেশে ফিরতে হতে পারে কফিনে করেই...বাকিটা সময় বলে দেবে...

25/03/2026
25/03/2026
22/03/2026
07/03/2026
07/03/2026

পুরান ঢাকার আতর: এক সুবাসিত ঐতিহ্যের গল্প

জিয়াউল জিয়া

প্রতিটি শহরের ইতিহাসের নিজস্ব সুবাস থাকে। সভ্যতার শহর শাহী বাংলা ও সুবে বাংলার দান ঢাকা তথা আজকের পুরান ঢাকাও তার ব্যতিক্রম নয়। মসলিন যুগের স্মৃতি, সিন্দুকবন্দি ইতিহাসের মতোই একসময় এখানে বাতাসে ভাসতো সুগন্ধির ঘ্রাণ— উদ, আতর, গোলাপ জল কিংবা চন্দনের মিষ্টি সুবাস।

বাংলার সুগন্ধি সংস্কৃতি শুরু হয় অনেক আগে, আরব ও পারস্যের ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। ইসলাম প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে এসব অঞ্চলের বণিক ও সুফি সাধকেরা বাংলা অঞ্চলে আতর ও সুগন্ধির ব্যবহার নিয়ে আসেন। খ্রিস্টীয় ১৩-১৪ শতকে দিল্লি সালতানাতের শাসনামলে বাংলার অভিজাতদের মধ্যে আতরের ব্যবহার শুরু হয়।

কিন্তু বাংলায় আতরের স্বর্ণযুগ শুরু হয় মূলত মুঘল আমলে (১৫৭৬-১৭৫৭)। মুঘল সম্রাটরা আতরকে শুধু বিলাসিতার বস্তু হিসেবেই নয়, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেও গ্রহণ করেন। মুঘল শাসকরা আতরকে শুধু বিলাসিতার অংশ হিসেবেই দেখেননি, বরং এটি ছিল অভিজাত সংস্কৃতির প্রতীক। ঢাকার অভিজাতদের মধ্যে আতর ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়, যা নবাবি আমলে এসে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সেই সময় পুরান ঢাকা ও সোনারগাঁওয়ের বাজারগুলোতে দেখা মিলত বাহারি আতরের— উদ, চন্দন, গোলাপ, কস্তুরি, কেওড়া, কাশ্মীরি জাফরান ইত্যাদির মিশ্রণে তৈরি অনন্য সুগন্ধি। ইসলামপুর, চকবাজার ও বকশীবাজারের অলিগলিতে আতর ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে। আতরের ছোট কাঁচের বোতল বা দস্তার কেটলি যেন এক টুকরো রাজকীয়তার স্মারক ছিল।

একসময় পুরান ঢাকার আতরের চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে ব্যবসায়ীরা আরব, পারস্য ও তুরস্ক থেকে উৎকৃষ্ট মানের আতর আনাতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্য ম্লান হতে থাকে। আতরের জায়গা দখল করে নেয় পাশ্চাত্যের সুগন্ধি, পারফিউম, বডি স্প্রে। এক সময় যেসব দোকানে শত শত আতরের বোতল সাজানো থাকত, সেগুলোর জায়গা এখন নিয়েছে আধুনিক পারফিউম ব্র্যান্ড।

এখন সময় গড়িয়েছে। আতরের সুঘ্রাণও ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে উঠেছে যেন! এই অঞ্চলটির একজন প্রবীণ আতর ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে বিয়ের কনে, বর বা ঈদের নতুন পোশাকের সাথে আতর ছিল অবিচ্ছেদ্য। এখন তরুণরা পারফিউমের দিকে ঝুঁকেছে। এই আতরের কেটলিগুলো একসময় আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল, এখন যেন শুধুই স্মৃতি।’

চকবাজারের এক পুরনো বিক্রেতার কথায় পাওয়া যায় আরও করুণ সুর, ‘আগে আমাদের দোকানে ১০০ রকমের আতর থাকত, এখন কেবল নির্দিষ্ট কিছু ক্রেতাই আসে। রাজকীয় আতরের সেই গন্ধ আর নেই।’

তবে এখনো কিছু মানুষ আতরের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। নামাজের আগে আতর ব্যবহারের ধর্মীয় রীতি আজও অনেকের মধ্যে টিকে আছে। কিছু উদ্যোক্তা ই-কমার্স ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতরকে নতুনভাবে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু পুরান ঢাকার আতরের সেই স্বর্ণযুগ কি আবার ফিরে আসবে? হয়তো না, হয়তো হ্যাঁ। তবে যতদিন না ঢাকার বাতাসে আবার রাজকীয় আতরের সুবাস ভেসে ওঠে, ততদিন হয়তো কেবলই স্মৃতির ঘ্রাণ বয়ে বেড়াবে পুরান ঢাকার অলিগলি।

07/03/2026

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘ছাদ পেটানোর গান’

জিয়াউল জিয়া

মোগল আমল থেকে পুরান ঢাকায় ব্যাপকভাবে ইমারত-দালানকোঠা, দেউড়ি, কাটারা, মসজিদ, মন্দির, খানকা, মাজার, গির্জা, বাজার, ঈদগাহ গড়ে উঠতে থাকে। জাফরি ইট, চুন, সুরকির সংমিশ্রণে গাঁথুনি ও দেয়াল এবং কাঠ ও লোহার সাতিরের ওপর জাফরি ইট বিছিয়ে ওর ওপর সুরকির গুঁড়া ও চুনের মিশেল দিয়ে যে আস্তরণ তৈরি করা হতো সেটা ছাদের ওপর ঢালাই দেওয়া হতো। তৈরি হতো জলছাদ। চলতি ভাষায় বলা হত ‘কোবাকাম’।

সারিবদ্ধভাবে বালকরা এবং দরিদ্র মহিলারা কাঠের মুগুর (কোপা) দিয়ে সারাদিন সেই জলছাদ পিটিয়ে শক্ত করত। কাজের মনোযোগ যাতে রক্ষিত হয় এবং যাতে অলসতা না আসে সেজন্য সর্দার গায়ক থুতনিতে বেহালা ঠেকিয়ে নানান কিসিমের গান জুড়ত।

বিষয়বৈচিত্র্য ছিল ছাদ পেটানো গানে। ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ, হাসি-ঠাট্টা, তামাশা স্থান পেত গানের কথায়। আঁস্তাকুড় থেকে কুড়িয়ে আনা বেহালাখানি হাতের জাদুতে এমন অবিশ্বাস্য ধ্বনি সৃষ্টি করতে পারে, তা স্বচক্ষে না দেখলে কিংবা স্বকর্ণে না শুনলে বিশ্বাস করা কঠিন। সংগীত, বেহালা ও ছাদ পেটানোর ত্রয়ীস্পর্শে অপূর্ব শব্দ ও সুর লহরীর সৃষ্টি হতো।

সম্মিলিত কাঠের মুগুরের আওয়াজ ঠাস ঠাস শব্দে ছন্দের এক মহোৎসব তৈরি করত। ইমারত নির্মাণের সময়কাল ছিল বর্ষাশেষে হেমন্তকাল থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাস অবধি। তাই শীতকাল ছাড়া বাকি মাসগুলোতে প্রচণ্ড উত্তাপে এই ছাদ পেটানোর পরিশ্রম ছিল খুবই ক্লান্তিকর। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ছাদ পেটানোর দল কাজ করত।

কাজের সময় ছাদ পিটানি দল কোরাস গলায় ওস্তাদের গানের সুরে, তালে তালে ছাদ পিটাত। যাকে ছাদ পিটানি গান নামে অভিহিত করা হয়। সিমেন্টের ব্যবহার শুরু হওয়ার পর ঢাকা শহর থেকে জলছাদের প্রচলন বিলুপ্ত হতে শুরু করে। আরসিসি পিলার ও ছাদ তৈরি হতে শুরু করলে জলছাদের প্রচলন ও প্রয়োজন সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে ছাদ পিটানির গান এখন বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গেছে।

বিশ শতকের শুরুতে ঢাকার ছাদ পিটানি গানের কয়েকটি নিম্নরূপ-

১. “আর হোতায় না সজনি-কালা কাউয়া কা-কা করে, ফাল দিয়া যায় রজনী। নাসিকাতে ভড়র ভড়র-দাঁতে আওয়াজ কড়র কড়র, কি ঘুম তরে কবজা করছে-হতভাগিনী, কালা কাউয়া কা-কা করে-ফাল দিয়া যায় রজনী।
টাইনা হ্যাচরাইয়া ক্লান্ত অইছি-কি করমু না ঠাওর পাইছি
তে, নাকের ভিতরে হান্দাইয়া দিমু-বিসল্য করণী,
কালা কাউয়া কা-কা করে-ফাল দিয়া যায় রজনী।”

২. “কালা তোর তরে কদম তলায়-বইসা থাকি, বইসা থাকি, নাম রাইখেছি, চিকন কালা-বাঁশি বাজায় অতি ভালা,
সেই বাঁশিতে দিল উতলা, কেম্বে বাইন্দা রাখি, বইসা থাকি, বইসা থাকি।”

৩. “যে জন আমারে ভালোবাইসাছে-কলকাত্তায় নিয়া আমায় হাইকোট দেখাইছে;
যে জন আমারে ভালোবাইসাছে-গোয়ালন্দ নিয়া আমায় হিল্শা খাওয়াইছে;
যে জন আমারে ভালোবাইসাছে-চাঁটগাঁয় নিয়া আমায় হুটকি খাওয়াইছে;
যে জন আমারে ভালোবাইসাছে-ময়মনসিং নিয়া আমায় বাইগন খাওয়াইছে;
যে জন আমারে ভালোবাইসাছে-ড্যামরায় নিয়া আমায় সারী পিন্দাইছে;
যে জন আমারে ভালোবাইসাছে-লাঙ্গলবন্দ নিয়া আমায় দফা সারাইছে।”

৪. “বিয়া না দিলে দাদা দেশে যামু না-কসম খাই তর জরুরে নজর দিমু না,
দাদায় শোয় টিনের ঘরে, আমি শুই সনের ঘরে-দাদার ঘরে খচ্মচ্ করে, মন তো মানে না;
বিয়া না দিলে দাদা দেশে যামু না।”
ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র ‘চৌরঙ্গী’ র জন্য কবি নজরুল ইসলাম বেশ কিছু গান রচনা করেছিলেন। তার মধ্যে একটি ছিল-
‘সারাদিন পিটি কার দালানের ছাদ গো
সারাদিন পিটি কার দালানের ছাদ।
পাত ভরে ভাত পাই না, ধরে আসে হাত গো।
সারাদিন পিটি কার দালানের ছাদ…।’

এ গানটি পরবর্তী সময়ে ‘ছাদ পেটানো গান’ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

আগেকার দিনে দরিদ্র শ্রেণীর নারীশ্রমিক ছিল। বিত্তবান ঘরের নারীরা ঘরের বাইরে কাজ না করলেও গরীব নারীরা পেটের দায়ে পুরুষের মতো ঘরের বাইরে কাজ করতো। কিন্তু বিনিময়ে পেটপুরে খাবার পেতো না। তাদের মজুরী ছিল কম। ঘরে সন্তানেরা থাকতো পথ চেয়ে। যৌথ পরিবারের কারণে ছিল শাশুড়ী-ননদীদের গঞ্জনা। কবি নজরুলের এই গানে ছাদপেটা নারীশ্রমিকদের গঞ্জনার এমন করুণ ছবি তাদের মুখেই ফুটে উঠেছে।

সময়ের সাথে সাথে এসব ছাদপিটানি গান এখন বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে গেছে। কিন্ত ঢাকাবাসী বরাবরই সংগীতপ্রেমী- এ গানগুলো তারই পরিচয় দেয়।

07/03/2026

পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠলেও ঢাকাইয়া জানেন না হিমি

জিয়াউল জিয়া

নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল হিমি এই সময়ের নাটকের জনপ্রিয় জুটি। তাদের বেশির ভাগ নাটকই বিভিন্ন অঞ্চলের গল্পকে প্রাধান্য দিয়ে করা। পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠলেও ‘ঢাকাইয়া’টা সেভাবে শেখা হয়নি হিমির। এখনো পুরান ঢাকার পটভূমিতে কোনো নাটকে অভিনয় করতে গেলে অভিজ্ঞ শিল্পীদের পরামর্শ নেন এই অভিনেত্রী। তবে ঢাকার ভাষা বলতে না পারলেও অন্য অঞ্চলের ভাষায় কিন্তু ঠিকই ‘পটু’। নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে পাবনা, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষাও শিখেছেন তারা।

হিমি বলেন, ‘এতো সংখ্যক নাটক করি যে আঞ্চলিক ভাষায় এখন আর সমস্যা হয় না। শুটিংয়ে সব সময় শেখার মধ্যে থাকি। কোনো লাইটম্যানও যদি অভিনয় নিয়ে কথা বলেন, তার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। আমি যেহেতু গ্রামে বড় হইনি, তাই চারপাশের অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়েছি।’

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রচারিত হয়েছে হিমি ও নিলয়ের ‘কিস্তির স্যার’। গতকালও নাটকটি বাংলাদেশ থেকে ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে ছিল। ঋণের কিস্তি আদায়কে কেন্দ্র করে নানা ঘটনা নিয়ে এই নাটক।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘গ্রামের কিস্তিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যে ঘটনাগুলো ঘটে, গল্পে সেগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। সেটি বাস্তবসম্মত হওয়ায় অনেকেই আমাদের অভিনয়ের প্রশংসা করছেন। কেউ কেউ বলছেন, গ্রামের চরিত্রে নাকি পুরোপুরি মানিয়ে গেছি।’

নাটকের গল্পে এখন সমসাময়িক বিষয়ই পছন্দ করছেন দর্শক। হিমি বলেন, ‘গ্রামে কিন্তু এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে—ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন, পরে আর কিস্তি দিচ্ছেন না। কিস্তি যে ব্যক্তি নিতে আসেন, তিনি কিস্তি না পেলে বাড়িতে যা আছে তা–ই নিয়ে যান। সম্প্রতি দেখবেন, একটি ঘটনা ভাইরাল হয়েছে।

সেখানে কিস্তির টাকা না পেয়ে একজন কর্মী গরু নিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামে এসব ঘটনা খুবই কমন। নাটকে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে।’

হিমি মনে করেন, নাটক বিনোদনমূলক হলে দর্শক বেশি গ্রহণ করেন; কিন্তু ঘটনাগুলো দর্শকের পরিচিত হতে হবে। ‘বেশির ভাগ দর্শক কী পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, কী ভাবছেন— এসব জানা জরুরি। সেই বিষয়ের মধ্য দিয়ে যদি কোনো বার্তা দেওয়া যায়, তাহলে সেই কাজকে আরোপিত মনে হয় না।’

07/03/2026

পুরান ঢাকায় সকালের নাশতা

জিয়াউল জিয়া

পুরান ঢাকা মানেই তো জমকালো সব আয়োজন। সে ঘোরাঘুরির বেলাতেই হোক অথবা খাওয়াদাওয়া। মুখরোচক খাবারের জন্য পুরান ঢাকার সুনাম যুগ যুগ ধরেই। সাতসকালের নাশতাও কিন্তু এ তালিকার মধ্যেই আছে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকেই ভোজনরসিকেরা ছুটে যান সেই সব নাশতার সন্ধানে। সাধারণ পদ, কিন্তু অসাধারণ স্বাদ। তুলে ধরা হলো নাশতার জন্য জনপ্রিয় কয়েকটি দোকানের কথা।

চৌরঙ্গী রেস্তোরাঁ

৪৭ নর্থ ব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার। এখানে এলেই দেখা হবে চৌরঙ্গী রেস্তোরাঁর। ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে চৌরঙ্গী রেস্তোরাঁটি।
গোবিন্দ চন্দ্র পাল ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা মালিক। তিনি মারা গেলে ছেলে স্বপন কুমার পাল রেস্তোরাঁর হাল ধরেন। চার বছর হয়েছে রেস্তোরাঁটি মূল মালিক বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমান মালিক রবিন সেই আদি নিয়মে রেস্তোরাঁটি পরিচালনা করে চলেছেন। মূলত চৌরঙ্গী রেস্তোরাঁ সকালের নাশতার জন্য জনপ্রিয়। আহামরি কিছু না, কিন্তু মজাদার লুচি ও পাতলা ডাল, সঙ্গে বিট লবণের ডিম পোচ ও ডিমের মামলেটের জন্য বিখ্যাত এই রেস্তোরাঁ। চারটি লুচি ও ডালের প্যাকেজ মূল্য ১৪ টাকা। ডিম পোচ ও মামলেটের মূল্য ১৫ টাকা, চা ৮ টাকা।

ক্যাফে কর্নার

চৌরঙ্গী রেস্তোরাঁ থেকে একটু আগে শ্যামবাজারের দিকে পা বাড়ালেই হাতের ডানে পড়বে হোটেল ক্যাফে কর্নার। এখানে এসে দেখতে পাবেন মাথার ওপর মাথা দাঁড়িয়ে। রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় খাবার পরিবেশনকারীদের। সকালের নাশতা এখানে ডাল-ভাজি, হালুয়া, পরোটা, ডিম ও চা। এই খাওয়ার জন্য মানুষের ভিড়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন চলে এসেছেন সকালের নাশতা খেতে। ছুটির দিনে এই অবস্থা দেখে থমকে যেতে হয়। এক ছুটির দিনে আপনিও হোটেল ক্যাফে কর্নারের খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। ক্যাফে কর্নারের চায়ে সত্যিকার চায়ের ঘ্রাণ পাবেন। আরেকটি কথা, ক্যাফে কর্নারের বয়সও কিন্তু এক শ বছরের ওপরে!

নিউ শাহি দিল্লি রেস্টুরেন্ট

বহু বছর আগে এখানে শাহি দিল্লি রেস্তোরাঁ ছিল। এখন সেই শাহি দিল্লি রেস্তোরাঁ নেই, তবে নিউ শাহি দিল্লি রেস্তোরাঁ আছে। সকালের খাবারের জন্য এই দোকান এককথায় অনন্য। হোটেলটির অবস্থান ইসলামপুরের কাছের ১৮/১ পাটুয়াটুলীতে। রেস্তোরাঁটি মাটির নিচে হওয়ায় একটু খোঁজ করতে হয়। এখানে পরোটা লুচি ও দুই রকম ভাজি পাওয়া যায়। লুচি, ভাজির সঙ্গে মুখরোচক চাটনির জন্য হলেও এখানে ভোজনরসিকদের ভিড় জমে যায়। তা ছাড়া এখানে পাবেন খাসির পায়া, ডাল, স্যুপ ও নানরুটির সঙ্গে গাজর ও বুটের বিভিন্ন প্রকারের হালুয়া, বুন্দিয়া ও জিলাপি। এর সবই সকালের নাশতার পদ।

দেশবন্ধু সুইটমিট

নাম সুইটমিট হলেও দেশবন্ধু ভোজনরসিকদের কাছে সকাল-বিকেলের নাশতার জন্য জনপ্রিয়। এখানে সারা দিনই পরোটা-ভাজি বিক্রি হয়। সঙ্গে বিক্রি হয় সুজির হালুয়া ও বিভিন্ন প্রকারের মিষ্টি। স্পঞ্জ মিষ্টির তুলনা নেই, দাম ৩০ টাকা। মিষ্টি বাদ দিলে ৫০ টাকায় এখানে ভরপেট খেয়ে আসতে পারবেন। দেশবন্ধুর অবস্থান ইত্তেফাক মোড়ে। দেশবন্ধু সুইটমিট তাদের ব্যবসা শুরু করে ১৯৫৮ সালে। দেশবন্ধু সুইটমিটের আরেকটি শাখা রাজধানী মার্কেটের পাশে। ধারণা করা হয়, দেশবন্ধু সুইটমিটের মালিক শচী মোহন গোপ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে ভালোবেসেই দোকানটির নাম রাখেন। পরোটা-ভাজি এখানে বিখ্যাত।

বিসমিল্লাহ হোটেল

পুরান ঢাকার কলতাবাজার বা নাসিরুদ্দিন সর্দার লেনে নাসির হোটেল একনামে পরিচিত ছিল, কেবল গরুর ভুনা মাংসের জন্য। হোটেল মালিক নাসির মারা গেলে এখানকার কর্মচারীদের নিয়ে শুরু হয় বিসমিল্লাহ হোটেলটি। ভুনা মাংস এখানকার প্রধান খাবার হলেও সকালে নেহারি এর প্রধান আকর্ষণ। সারা সপ্তাহ এখানে গরুর নেহারি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার শুক্রবার এখানে স্পেশাল নেহারি বিক্রি হয়, দাম ৮০ টাকা। ধোলাইখালের একেবারে কাছে বিসমিল্লাহ হোটেল। জজকোর্টের পেছনে। কলতাবাজার আল-মঈন মাদ্রাসার ঠিক পাশে। কী, আসছেন তো?

এর বাইরে সকালের খাবারের জন্য পুরান ঢাকায় রয়েছে ইসলামিয়া, আল-ইসলাম, আল-রাজ্জাক, মতিঝিল ঘরোয়াসহ স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।

Address

Dhaka

Telephone

+8801635527592

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mama's Closet posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Mama's Closet:

Share