30/10/2024
এক গ্রামের নাম ছিলো কালিগাঁও। সেখানকার মানুষজন একসময় দারুণ সুখে-শান্তিতে থাকতো। কিন্তু একদিন রাতের আঁধারে গ্রামের প্রান্তে একটি পুরনো বাড়িতে এক নতুন পরিবার থাকতে আসে। সেই বাড়িটি গ্রামের সবার কাছে ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল। কেউ কখনো সেখানে রাতে পা রাখতো না, কারণ শুনেছিলো, সেখানে এক ভয়ংকর বেতাল বাস করে।
নতুন পরিবারটি এই কথাগুলোতে বিশ্বাস করতো না, তাই তারা নিশ্চিন্তে সেখানে উঠলো। প্রথম দু'দিন সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু তৃতীয় রাত থেকে ঘটতে থাকলো ভয়ংকর সব ঘটনা। ঘরের মধ্যে নিজেদের থেকেই দরজা-জানালা বন্ধ হয়ে যেত, মাঝে মাঝে কানে আসতো কারো চাপা হাসির শব্দ। রাত গভীর হলে কখনো টেবিলের উপর থেকে জিনিসপত্র নিজে থেকেই পড়ে যেত, আবার কখনো মনে হতো কেউ যেন পেছন থেকে হাঁটছে, কিন্তু ঘুরে দেখলে কেউ থাকতো না।
তাদের মেয়ে রিয়া, যেই কিনা দশ বছরের মেয়ে, রাতে হঠাৎ করেই চিৎকার করে জেগে উঠলো। মা-বাবা তাকে অনেক বার জিজ্ঞেস করলেও সে কিছুই বলতো না। একদিন রিয়ার মা তার ঘরে গিয়ে বসে ছিলো, তখন হঠাৎ রাতের অন্ধকারে দেখলো, মেয়েটা চুপচাপ জানালার দিকে তাকিয়ে হাসছে। মা তাকে জিজ্ঞেস করলো, "তুমি হাসছো কেন রিয়া?"
রিয়া উত্তর দিলো, "মা, ঐ বেটা মামা তো খুব ভালো, সারারাত আমার সাথে খেলতে আসে।"
মা ভয়ে কেঁপে উঠলো এবং জানালার দিকে তাকিয়ে দেখলো, সেখানে কালো ছায়ামূর্তি একটা দাঁড়িয়ে আছে, মেয়েটার পাশে। ভয়ে মা চিৎকার করে উঠতেই সেই ছায়ামূর্তি যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল। এর পরের দিন থেকে পরিবারের সবাই ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কোনো এক ভোরবেলা হঠাৎ সেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
সেই দিন থেকে কালিগাঁওয়ের মানুষ আর কেউ কখনো সাহস করে সেই বাড়ির কাছেও যায়নি।
ভুতুড়ে গল্পটি কেমন লেগেছে কমেন্ট বক্সে জানাবেন