08/09/2026
খাদ্য মানুষের প্রথম মৌলিক উপাদান
খাবারের জন্য সব জীবে ব্যস্ততা। খাদ্য একটি অধিকার। যুদ্ধ বিধ্বস্ত অঞ্চল গুলোতে দেখতে পাওয়া যায় খাদ্যের অভাব জনিত সংকট পরিস্থিতি। আমাদের বাংলাদেশে খাদ্যের সংকট আপাতদৃষ্টিতে যাই দেখাক না কেন। যাদের অভাব তাদের অভাব৷ একবেলা না খেয়ে থাকার কি যাতনা সেটা যারা না খেয়ে থাকে শুধু তারাই বুঝে৷
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের খাবারের সংকট রয়েছে যা প্রকাশ করবার মতো না। এরমধ্যে যারা এতিম রয়েছে তাদের খাবারের সংকট আরও অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকবে এটা বেমানান। আর একজন শিক্ষার্থী নিজের সম্মানের কথা ভেবে না খেয়ে থাকার কথাটা কাহাকেও বলবে না। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ( ২০০০-২০১০) তখন আমার পাশে অনেক শিক্ষার্থী যারা আমার বন্ধু বা বড়ভাই ছিল তাদের খাবারের সংকট আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। দুদিন না খেয়ে থাকার পর আমার কাছে এসেছে কিছু টাকার জন্য কিছু খাবারের জন্য। কেন জানি আমি জানি না। তখন আমার কাছে তারা এসেছিল। নিজের কথা তখন আর চিন্তার সুযোগ থাকে না যখন এমন পরিস্থিতি জীবনে এসে যায়।
পরিস্থিতি সব সময় একই রকম থেকে যায় কিন্তু সময় পাল্টায়। আমি সেই দিনের কথা বিবেচনা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী নিশ্চয় মেধাবী হয়। সেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা না খেয়ে থাকবে এটা হতে পারে না। ব্যবস্থা নিশ্চয় হতে হবে। মহান আল্লাহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণকারী। তিনিই উত্তম পরিকল্পনাকারী।
"Orphan's Meal" যাত্রা শুরু করেছে.....
বিশ্ববিদ্যালয়ে এতিম শিক্ষার্থীরা না খেয়ে থাকবে। ক্ষুধার জ্বালায় লেখাপড়া হয় না। এতিম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু করেছে Parent House.
এটি প্রাথমিক ধাপ। এতিম সবরকম সুযোগ সুবিধার পরিকল্পনা রয়েছে "প্যারেন্ট হাউজ" এর৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ এর চেয়ারম্যান প্রোফেসর ড. সাবরিনা নাজ মহোদয় আমাদের এই প্রোগ্রামকে সব রকম সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আমাদের পাশে আছেন। মানবিক মানুষ হিসেবে আমরা Parent House পরিবার ম্যাডামের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।
প্রোফেসর ড. শহীদুল আলম স্যার ( সাবেক চেয়ারম্যান উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, রাবি) আমাদের এই যাত্রায় প্রথম সঙ্গী ছিলেন৷ স্যারের অনুপ্রেরণা আমাদের প্রতি পরতে অনুভব করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এতিম শিক্ষার্থীরা অনেক ভাবে উপকৃত হচ্ছে মানসিক ভাবে তারা শক্তিশালী হচ্ছে। নিজেকে টিকে থাকার লড়াইয়ে অংশ নিতে পারছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের কলেবর বৃদ্ধিতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছে। এটা একটা সুসংবাদ এতিমের জন্য। পরিবর্তীত পরিবেশে নিজেকে টিকে থাকবার জন্য নিজেকে পরিবর্তন করে নিতে হয়। আমরা সেটাই করছি নিজেদের টিকে থাকার জন্য। এতিমেরা নিজেদের টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হয়। আর এ লড়াই করতে হয় একাই সারাজীবন। প্যারেন্ট হাউজ এতিমের জন্য নিবেদিত থেকেছে। সবসময়ই এতিমের পাশে রয়েছে যাতে তার চলার পথে হোচট খেয়ে না পরে। প্যারেন্ট হাউজ এতিমের কল্যাণে।
৩ সেপ্টেম্বর
প্যারেন্ট হাউজ দিবস।
এই দিবসে আমাদের উদ্দেশ্য এতিমের সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি করা। এতিমেরা সংগঠিত থাকলে জীবন গঠন সহজ হবে। জীবন উপভোগ্য হবে।