20/09/2026
"আমি জানি না" বলে কোনো কিছুর উত্তর দেওয়াটা বেশিরভাগ মানুষই পছন্দ করে না। তাই উত্তর না থাকলেও মনগড়া কিছু একটা বলে দেওয়াটা আদিকাল থেকেই মানুষের একটা বদভ্যাস। বৈজ্ঞানিক চিন্তা আসলে এভাবে কাজ করে না। কোনো কিছু জানা না থাকলে তা নিয়ে অনুসন্ধান করতে হয়, পর্যবেক্ষণ করতে হয়। সেই পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া জ্ঞান ব্যবহার করে একটা মডেল তৈরি করা হয়, যা দিয়ে অজানা ঘটনাটিকে ভবিষ্যতে পূর্বাভাস দেওয়া যায়। তখনই সেটাকে একটা বৈজ্ঞানিক ধারণা বা থিওরি বলা হয়।
অনেকে মনে করে থিওরি মানে হলো কোনো একজন এলোমেলো চুলওয়ালা মানুষ গালে হাত রেখে কিছু একটা কল্পনা করে বৈজ্ঞানিক ধারণা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা একেবারেই এমন না। একটা থিওরি বাস্তবতাকে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে না পারলে তাকে থিওরি বলাই যায় না। নিউটনের গ্র্যাভিটেশনাল থিওরি বা আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি ইত্যাদি থিওরি হয়েছে কারণ তাদের গাণিতিক ধারণা বাস্তব পর্যবেক্ষণ আর প্রয়োগের মাধ্যমে বহুবার বহু মানুষের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। নতুন কোনো আরও নিখুঁত ধারণার আবির্ভাব হলে সেটাই ব্যবহার করা হবে। আর এটাই বিজ্ঞান।
এত কিছু বলার কারণ হলো, গত ১৪ তারিখ ঘটে যাওয়া চাঁদ আর শুক্রের অকাল্টেশনের ঘটনা নিয়ে শুনছি অনেকে বিভিন্ন দুর্যোগের আলামতের বাণী দিচ্ছে। প্রথমত, তারা কি আদৌ জানে এই ঘটনা কেন ঘটে বা আবার কবে ঘটবে? এটা তো একেবারেই প্রাকৃতিক একটা বিষয়, যা আগেও ঘটেছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে। এর সঙ্গে পৃথিবীর কোনো ঘটনাকে মেলানো একেবারেই অযৌক্তিক।
অকাল্টেশন ঘটে যখন একটা মহাজাগতিক বস্তু আরেকটা বস্তুকে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে ঢেকে ফেলে। এই ক্ষেত্রে চাঁদ শুক্র গ্রহকে ঢেকে ফেলেছিল। চাঁদ পৃথিবীকে আবর্তন করে, আর এটা করার সময় যদি তার পেছনে কিছু চলে যায়, তাহলে তো তার আড়াল হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। আর এই ঘটনা সচরাচর হয় না, কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথ-তলের তুলনায় প্রায় ৫ ডিগ্রি হেলে আছে। এরকম বিরল দৃশ্য আবার দেখা যাবে ২০৩২ সালের ৯ মে। তবে সেটা সন্ধ্যার আকাশে নয়, সূর্য ওঠার ঠিক আগে দেখা যাবে। চাঁদ থাকবে খুব চিকন আর দিগন্তের কাছে। হাতে গোনা কিছু আকাশপ্রেমী হয়তো এটা দেখার জন্য সাতসকালে উঠবে। আর ১৪ তারিখের মতো সন্ধ্যার আকাশে এই দৃশ্য এই শতাব্দীতে বাংলাদেশ থেকে আর দেখা যাবে না। বিষয়টা কোনো একটা স্কাই অ্যাপ ব্যবহার করে যাচাই করে নিতে পারেন।
কথা হচ্ছে, অজ্ঞ মানুষের কথা শুনে বিভ্রান্ত হবেন না। এখন যেকোনো কিছু যাচাই করা খুবই সহজ। কোনো একটা এআইকে বললেই সব বের করে দেবে।
যাই হোক, এই ঘটনার ছবি তুলতে পেরে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। যেহেতু আমি পুরো ঘটনার টাইমল্যাপস নিয়েছি, তাই শুক্রের গতিপথটাও বের করা গেছে। আর শুক্র পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের আরও কাছে অবস্থান করার কারণে এটিও চাঁদের মতো পক্ষ বদলায়। এবার তাকে ঠিক একটা ছোট্ট চিকন চাঁদের মতোই দেখা গেছে।
জানাবেন ছবিটি কেমন লাগল। আর এটার পোস্টার সংগ্রহ করতে চাইলে কমেন্টে লিঙ্ক দিয়ে রেখেছি। একটু জানিয়ে রাখি, এটা সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখের পর আর পাওয়া যাবে না।