25/07/2026
ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য কিংবদন্তি বিশ্বকাপ জিতেছেন। কেউ টানা দুটি আসরে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন, কেউ অধিনায়ক হিসেবে দেশকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছেন। কিন্তু তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়তে পেরেছেন মাত্র একজন। তিনি ব্রাজিলের কালো মানিক পেলে।
১৯৫৮ সালে সুইডেনে আয়োজিত বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে পা রাখেন পেলে। চোটের কারণে ব্রাজিলের প্রথম দুটি ম্যাচে খেলতে না পারলেও সুযোগ পাওয়ার পর দ্রুত নিজের প্রতিভার জানান দেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হয়ে ওঠেন তিনি।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন পেলে। এরপর স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে করেন আরও দুটি গোল। ব্রাজিল ম্যাচটি ৫-২ ব্যবধানে জিতে প্রথমবার বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে। ফাইনালে পেলের একটি গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নান্দনিক গোল হিসেবে স্মরণ করা হয়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়ে তিনি জানান দিয়েছিলেন, ফুটবলে নতুন এক সম্রাটের আগমন ঘটেছে।
১৯৬২ সালে চিলি বিশ্বকাপেও ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন পেলে। প্রথম ম্যাচেই মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করেন। তবে পরের ম্যাচে চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান তিনি। পেলের অনুপস্থিতিতেও গারিঞ্চার অসাধারণ নৈপুণ্যে ব্রাজিল টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতে। ফলে মাত্র ২১ বছর বয়সেই দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে যান পেলে।
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ছিল তাঁর জন্য হতাশার। প্রতিপক্ষের কঠোর আঘাত এবং চোটের কারণে ব্রাজিল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। সেই ব্যর্থতার পর পেলে আর বিশ্বকাপে না খেলার কথাও ভেবেছিলেন।
কিন্তু ১৯৭০ সালে মেক্সিকোয় তিনি ফিরে আসেন আরও পরিণত ও ভয়ংকর রূপে। জাইরজিনহো, রিভেলিনো, তোস্তাও ও কার্লোস আলবার্তোদের নিয়ে গড়া ব্রাজিল দল খেলেছিল মোহনীয় ফুটবল। ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারানোর ম্যাচে পেলে একটি গোল করেন এবং কার্লোস আলবার্তোর বিখ্যাত গোল তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন।
তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে পেলে এমন এক রেকর্ড গড়েন, যা আজও কেউ স্পর্শ করতে পারেননি। ১৯৫৮ সালের বিস্ময়বালক থেকে ১৯৭০ সালের পূর্ণাঙ্গ নেতা, তিন বিশ্বকাপজুড়ে তাঁর যাত্রাই তাঁকে ফুটবলের চিরন্তন সম্রাটে পরিণত করেছে।
সংগ্রহ ইতিহাসের গল্প