14/11/2024
শ্রদ্ধেয় কথার জাদুকর,
চিঠির প্রথমে প্রিয় লিখা নিয়ম তবে আপনার ক্ষেত্রে তা লিখতে পারছি না। প্রিয় লেখকের তালিকায় আপনার নাম কখনো নেয়া হয়নি।
তবু আপনার বই সামনে দেখলে পড়ার লোভ সামলাতে পারিনি।
"একটু দেখি" এই বাহানায় ছুঁয়েছি। এভাবে আপনার অগণিত বই পড়া হয়ে গেছে। হলুদ পাঞ্জাবি পরনে কাউকে দেখলেই হিমুর কথা মনে হয়, শুভ্রর মতো বাস্তব জীবনে এখনো কাউকে খুঁজে পাইনি, বড় চাচার মতো কাউকে দেখলে অকারণে হেসে উঠি, মিসির আলীর মতো বুদ্ধিদীপ্ত কারো সাথে দেখা হলে অদ্ভুত কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা চাইতাম।
তিতলি, কংকা, মুনা কিংবা মনীষা এদের মতো কি জীবন হয়? হয়তো হয়....
এই যে এতো লিখা পড়েছি তবু আপনার যেই বই টা সর্বাধিক পড়েছি সেটা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। হয়তো অন্যান্য লিখার মতো তা অসাধারণ না। তবু এই বইটা বার বার পড়েছি। কেন পড়েছি?? জানিনান হয়তো বাসার শেল্ফে সামনে থাকতো বলে।
বইটা অনেক দিন খুঁজে পাচ্ছিনা। গত রাতে যখন লিখতে বসবো তার আগে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে দেখলাম বইটার অনেক অংশ ভুলে গেছি। কি সাংঘাতিক!!
বইয়ের একটুখানি অংশ মনে আছে....
-"শওকত অতিদ্রুত পেন্সিল টানছে। কোনো দিকেই তাকাচ্ছে না। অন্যদিকে তাকানোর সময় তার নেই।অনেক অনেক দিন পর তার মাথায় পুরনো ঝড় উঠেছে। কী ভয়ঙ্কর অথচ কী মধুর সেই ঝড়! ইমন একগাদা পেন্সিল হাতে দাঁড়িয়ে আছে।বাবার হাতের পেন্সিল ভেঙ্গে যেতেই সে পেন্সিল এগিয়ে দিচ্ছে। তার খুব ইচ্ছা করছে পোট্রেটটা কেমন হচ্ছে উঁকি দিয়ে দেখতে। সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তবে না দেখেও ইমন বুঝতে পারছে বাবা অসাধারণ একটা পোট্রেট আঁকছেন।"
আজকের দিনটা উৎসর্গ করছি এই বই টি কে।
ধন্যবাদ কথার জাদুকর। ধন্যবাদ এতো সুন্দর অভিজ্ঞতা দেয়ার জন্য। ধন্যবাদ এতোগুলা সুন্দর চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য ❤️