04/05/2026
আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মদ রাজনীতিতে পা রাখেন ১৯৬৪ সালে।একই ষাটের দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হন শেখ হাসিনা। ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক " ছয় দফা" কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেখ হাসিনার রাজনীতির অন্যতম বড় মাইলফলক। ১৯৮১ সালে মাহাথির মোহাম্মদ যখন মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা তখন ছয় বছরের ভারতের নির্বাসিত জীবন ছেড়ে জীবনের মায়া তুচ্ছ করে ১৭ মে দেশে ফিরেন। মাহাথির মোহাম্মদ একটানা ১৯৮১ - ২০০৩ পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বছর মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। মালয়েশিয়াকে কৃষিভিত্তিক দেশকে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করার নায়ক মাহাথির মোহাম্মদ।
লুসিড ড্রিম ছোটবেলা থেকেই মাহাথির মোহাম্মদকে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেখেছে। ২০২৩ সালে মাহাথির মোহাম্মদকে নিয়ে তাঁর কন্যা মেরিনা মাহাথিরের লেখা " দ্য অ্যাপল অ্যান্ড দ্য ট্রি" বইটি লুসিড ড্রিমের পড়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাও মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ এর মতো পড়তে ও লিখতে ভালোবাসেন। একজন মানুষের এই অনন্য শ্রেষ্ঠ গুণটি তাকে পৃথিবীর অন্যসব মানুষ থেকে বুদ্ধিমান করে তুলে। মাহাথির মোহাম্মদ একজন ডাক্তার এটা জানলেও শেখ হাসিনা একজন লেখক, এই সত্যটা বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জানে না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মাহাথির মোহাম্মদের শিক্ষাজীবন পরিচালনা করার জন্য কফি, চকলেট এসব বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস আপনাকে মুগ্ধ করে। অথচ, ১৯৭৭ সালে ভারতের সংসদ নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হয়ে মোরারজি দেশাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে শেখ হাসিনার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। শেখ হাসিনার সকল সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেয় মোরারজি সরকার। ছোট বোন শেখ রেহানা ও দুই সন্তান জয় ও পুতুলের লেখাপড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ছদ্মনামে শেখ হাসিনাকে দিনের পর দিন সেলাইয়ের কাজ করতে হয়েছে। মাহাথিরের চকলেট বিক্রি যদি ইতিহাস হয় তবে পরিবারের জন্য শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ইতিহাসের বাপ হওয়ার কথা ছিলো। এজন্য এই দেশের বেশীরভাগ প্রজন্ম শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে শতভাগের একভাগও জানে না।আমার মনে হয়, নিজের মায়ের সংগ্রামী জীবন নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মাহাথিরের কন্যা মেরিনা মাহাথিরের মতো একটা বই লেখা উচিত।
তরুণ প্রজন্মকে শেখ হাসিনার ইতিহাস , দর্শন , রাজনীতি ও তার ব্যক্তিগত সংগ্রাম সম্পর্কে জানানো জয় ও পুতুলের দায়িত্ব হওয়া উচিত।
মাহাথির মোহাম্মদকে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মানলেও শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার/ জনক মানতে এই দেশের একশ্রেণীর পঙ্গপালের দীর্ঘদিনের আপত্তি ! ডক্টর ইউনুস মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ হতে চায়, কিন্তু শেখ হাসিনা হতে চায় না। একশ্রেণীর গোবরের মগজ প্রজন্মের কাছে শেখ হাসিনাকে স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিস্ট মনে হয়। মাহাথির মোহাম্মদ কি নিরাপরাধ ছিলেন?
দেশ চালাতে হলে মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদের মতো কঠোর হতে হবে তা শেখ হাসিনা ২০০৬ সালে বিএনপি ও জামায়াতের ভোট ডাকাতির নির্বাচন, পুতুল ইয়াজউদ্দিন সরকার প্রতিষ্ঠা ও ২০০৪ সালে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলার পরই বুঝে গিয়েছিলেন। মাহাথির মোহাম্মদকে তার দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনার সংগ্রামের জীবনের দশ ভাগের এক ভাগও সহ্য করতে হয়নি। মালয়েশিয়ার কোন রাজনৈতিক দল মাহাথির মোহাম্মদের পুরো পরিবারকে হত্যা ও তাকে নির্বাসনে পাঠায়নি। কিন্তু শেখ হাসিনার পুরো পরিবারকে হত্যার পরও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে শেখ হাসিনা এশিয়ার আয়রন লেডিতে পরিণত হয়েছেন। শেখ হাসিনার মতো সংগ্রাম ও মৃত্যু ভয় তুচ্ছ করে রাজনীতি করতে হলে মাহাথির মোহাম্মদকে হয়তো খুঁজেই পাওয়া যেতো না।
লুসিড ড্রিম মাঝে মাঝে তিতা সত্য কথা বলে। এসব সত্য হজম করার শক্তি বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষের নেই। শেখ হাসিনার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে বাংলাদেশে নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হননের বড় বড় বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের মুসলিম তরুণদের মাঝে মাহাথির মোহাম্মদকে হিরো আর শেখ হাসিনাকে জিরো হিসেবে দেখানোর প্রবণতা দীর্ঘদিনের। অথচ শেখ হাসিনার চেয়েও জঘন্য ইন্টারনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ( ISA) ব্যবহার করে বিনাবিচারে মালয়েশিয়ায় বিরোধী দলের নেতা , অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিকদের আটক করতেন মাহাথির মোহাম্মদ। শেখ হাসিনার ঘুম , খুন ও আয়নাঘর নিয়ে তাকে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরশাসক সাজানো হলো বাংলাদেশের অধিকাংশ হিপোক্রেটস রাজনীতিবীদ মাহাথির মোহাম্মদকে স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিস্ট মনে করে না। একই অপরাধ করে মাহাথির মোহাম্মদ দোষী হয় না, দোষী হয় শেখ হাসিনা। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের নষ্ট রাজনীতি। শেখ হাসিনার জন্ম বাংলাদেশে না হয়ে মালয়েশিয়ায় হলে মালয়েশিয়ার মুসলমানরা শেখ হাসিনাকে মাথার তাজ করে রাখতো। শেখ হাসিনার শত বছরের আয়ু কামনা করতো।
শেখ হাসিনার দুর্ভাগ্য হচ্ছে শেখ হাসিনার জন্ম বাংলাদেশে। পুরুষ না হয়ে নারী হয়ে জন্মানোর কারণে তার অবদানকে বারবার খাটো করে দেখানো হয়েছে।
১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ছয় বছর পর ১৯৮৭ সালে মাহাথির মোহাম্মদ " অপারেশন ল্যাংলাং" পরিচালনা করে ১০৯ জন রাজনৈতিক কর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের আটক করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টি ( DAP) এর প্রধান লিম কিট সিয়াং, তার ছেলে লিম গুয়ান , কারপাল সিং, ও ইসলামী শীর্ষ রাজনৈতিক দল RAS এর শীর্ষ নেতাদের জেলে ভরে নির্যাতন করেছেন। মাহাথির মোহাম্মদের এসব কর্মকাণ্ড অপরাধ না হলে এতিমের টাকা চুরি ও বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে জেলে দেওয়া শেখ হাসিনার অপরাধ হবে কেন ⁉️
👉 বেগম খালেদা জিয়া কি আইনের উর্ধ্বে ?
শেখ হাসিনার শাসনামলে আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ , দিগন্ত টিভি বন্ধ করে দেয়াকে আপনারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ বলে শেখ হাসিনাকে স্বৈরশাসক সাজানোর চেষ্টা করেন। আরে আহম্মকের দল , মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ায় জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম
( The star, Sin Chew jit Poh ও Watan ) এর লাইসেন্স বাতিল করে বন্ধ করে দিয়েছিলেন । শেখ হাসিনা স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিস্ট হলে মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ কি?
👉 বঙ্গবন্ধু বাকশালের নামে পত্রিকা বন্ধ করে অপরাধ করলে মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ কি সেই অপরাধ করেননি ⁉️ তবে বাংলাদেশের বাঙ্গুরা গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করা মাহাথির মোহাম্মদকে গণতন্ত্র হত্যা ও স্বৈরাচার না বলে তাদের হিরো বলার চেষ্টা করে কেন ⁉️
👉 রাজনৈতিক ভণ্ডামি বন্ধ কর। এসব আমরা বুঝি। মালয়েশিয়ায় রাজনীতির টাইটানিক খ্যাত মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে ১০ বছর কারাগারে বন্দী করে রেখেছিলেন।
এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ।শুধু শেখ হাসিনার দোষ, আর মাহাথির মোহাম্মদ নির্দোষ ‼️
মাহাথির মোহাম্মদকে শেখ হাসিনার মত আমার ভালো লাগার কারণ হচ্ছে তার রাজনৈতিক দর্শন।তার সেই দর্শনটি হচ্ছে - ' বই পড়তে হবে , লিখতে হবে , কথা বলতে হবে , যুক্তি দিতে হবে , বিতর্ক করতে হবে।"
সংবাদপত্র, বই পাঠ, বই লেখা ও চিন্তা করার শক্তি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের অন্য সকল প্রধানমন্ত্রী থেকে অনন্যা ও চিন্তাশীল বানিয়েছে। এসবের কারণে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে শিল্পপ্রধান দেশে পরিণত করতে পেরেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে উন্নত করার জন্যই শেখ হাসিনাকে কঠোর হতে হয়েছে। শেখ হাসিনা রাজনীতিবীদ দের বোতলবন্দি করেছেন, গরীব মানুষ ও রাষ্ট্রের হক মেরে খাননি।
বাংলাদেশের বাঙ্গু জনগোষ্ঠী লুসিড ড্রিমকে একদম সহ্য করতে পারে না।ওরা লুসিড ড্রিমের " সত্য সবসময় সুন্দর " কে ভয় পায়। ওরা যখন বাকশাল নিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে খলনায়ক সাজাতে চায় তখন আমি তাদের বলি আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক লি কুয়ান ইউ এর ইতিহাস পড়ো।লি কুয়ান ইউ বঙ্গবন্ধুর বাকশালের আদলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক দলের অধিকার হনন করে দীর্ঘ ৩১ বছর এক হাতে সিঙ্গাপুর চালিয়েছেন বলেই মৎস চাষীদের সিঙ্গাপুর আজ পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্র হতে পেরেছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র জন্ম দিয়ে বঙ্গবন্ধু তো পাঁচ বছরও রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাননি। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ দিয়েছেন বলেই তারেক জিয়া ও খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছে । না হলে পাকিস্তানের অধীনে ঝাড়ুদার ছাড়া আর কিছুই হওয়ার সৌভাগ্য মিলতো না। জিয়া মেজরই থাকতেন, জীবনেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান হতে পারতেন না।
আধুনিক দক্ষিণ কোরিয়ার জনক পার্ক চুং- হি দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর দমন - পীড়ন চালিয়েই ( Miracle on the Han River) করতে পেরেছেন তার সফল নেতৃত্বে। শেখ হাসিনাও রাজাকারের বিচার , পাঁচ বারের দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বিএনপি ও জামায়াতকে বোতলবন্দি এবং পাকিস্তানের গুপ্তচর গো আযম পুত্র আমান আযমীকে আয়না ঘরে পাঠিয়েছেন বলেই আজকের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সম্ভব হয়েছে। আজকের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ৬০ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চয়তা , মেট্রোরেল , পদ্মা সেতু , ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির বাংলাদেশ, ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি , ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ , বিনামূল্যে বই , এশিয়ার অর্থনীতির রাইজিং টাইগার খেতাব এসব মঙ্গল গ্রহ থেকে আসেনি। এর জন্য শেখ হাসিনাকে রূপকল্প ভিসন-২০৪১ ও ফোর্সের গোল -২০৩০ এসব আসমান থেকে আলাদীনের চেরাগ হয়ে আসেনি।স্মার্ট ইকোনোমি, স্মার্ট সিটিজেন ও ১০০ টা অর্থনৈতিক অঞ্চল এসব আসমান থেকে ওহী নিয়ে আসেনি। এসব শেখ হাসিনার দক্ষ শাসন ও সফল রাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনার ফল। এজন্য সারাবিশ্বে শেখ হাসিনা প্রশংসিত হয়েছেন। আপনি/ আপনারা প্রশংসা না করলেও কিংবা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পাকিস্তানের নামে চালিয়ে দিলেও কোনদিন শেখ হাসিনার নাম মুছতে পারবেন না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার আবিষ্কার।৬৩ লাখ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এসব শেখ হাসিনার আবিস্কার। গভীর সমুদ্র বন্দর , এলএনজি টার্মিনাল , মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ এসব শেখ হাসিনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেললেই শেখ হাসিনার সফলতা ও অবদান আপনি/ আপনারা কিছুতেই মুছতে পারবেন না। আজকের এই আধুনিক বাংলাদেশের যেদিকেই তাকাবেন শেখ হাসিনা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাবেনা, সম্ভব নয়।
শেখ হাসিনা আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাস। এই ইতিহাস দীর্ঘ ১৬ বছরের সূযোগ্য নেতৃত্ব ও শাসনে তিনি তৈরি করেছেন। চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপকার ডেন জিয়াওপিং চীনের অর্থনীতি ঠিক রাখার জন্য তিয়ানআনমেন স্কয়ারে দশ হাজার ছাত্র জনতা হত্যার পরও এখনও চীনের জনগণের কাছে মহানায়ক। ৫ আগষ্ট কোটা না মেধা আমেরিকার ষড়যন্ত্র দিয়ে শেখ হাসিনার কিছুই করতে পারবেন না। যতদিন যাবে মানুষ বুঝতে পারবে এই দেশের শয়তানদের বোতলবন্দি করে উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য চীনের ডেন জিয়াওপিং এর মতো শেখ হাসিনাই সঠিক। মাহাথির মোহাম্মদ যদি চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও বিরোধীদলের রাজনৈতিক নেতাদের জেলে না ভরে রাখতেন তবে আজকের আধুনিক মালয়েশিয়ার জন্ম হতো না। বাংলাদেশের স্বৈরশাসক , হ্যাঁ ও না গণভোট, ক্যান্টনমেন্টের পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলকারী অযোগ্য শাসকদের জন্য শেখ হাসিনাই ঠিক। শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদের মতো বাংলাদেশের রত্ন। দেশ শাসন ও উন্নত করতে হলে কঠোর হতে হবে। শেখ হাসিনার ভিসন ছিল, দেশপ্রেম ছিল। তাই তিনি সফল হয়েছেন। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছাড়া তারেক রহমানের " আই হ্যাভ এ প্লান" ছাড়া তলাটাও নাই। তাই আজ বাংলাদেশের পেট্রোল পাম্পে তেল নাই, সার কারখানা বন্ধ, বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, হাসপাতালে সিরিঞ্জ কেনার টাকা নাই, হামের টিকা নাই। সবাই মাহাথির মোহাম্মদ, ডেন জিয়াওপিং ও শেখ হাসিনা হতে পারে না। শেখ হাসিনা আর ছয়টি বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকলে সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ কে অতিক্রম করে যেতেন। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের চেয়েও উন্নত রাষ্ট্র হয়ে যেতো। বঙ্গোপসাগর হতো বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র।ভারত ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গমাইলের সমুদ্র বিজয় করে শেখ হাসিনা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করে গেছেন।
একজন মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক, আব্রাহাম লিংকন, লি কুয়ান ইউ যেভাবে নিজ দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন, ঠিক সেভাবে শেখ হাসিনা হেনরি কিসিঞ্জারের বটমলেস বাস্কেট উপাধি দেওয়া বাংলাদেশের চেহারাই পাল্টে দিয়েছেন। যারা দুই বেলা খাবার পেতো না, তাদের তিনবেলা আহারের ব্যবস্থা করে গেছেন। মাথাপিছু মাত্র ৯৪ ডলারের আয়কে ২৭০০ মার্কিন ডলার করে দেওয়া আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ হাসিনা। যতো ভাবেই শেখ হাসিনাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করুক, তা সম্ভব নয়। আগামী শত বছরেও শেখ হাসিনার মত সফল রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশে আর কখনোই আসবে না। এখন মানুষ শুধু শেখ হাসিনার জন্য আফসোস করছে। যেভাবে দেশ চলছে এইভাবে আর দুয়েক বছর চললে দেশের মানুষের কপালে তিন বেলা খাবার পর্যন্ত নসীব হবে না। মাহাথির মোহাম্মদ যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় কঠোর না হয়ে কোন পাপ না করে থাকেন, শেখ হাসিনাও করেননি।
শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট নন, শেখ হাসিনা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অলংকার। এজন্য জন এফ কেনেডি বলে গেছেন -
" Ask not what your country can do for you - ask what you can do for your country. অর্থাৎ দেশ আপনার জন্য কী করতে পারে তা জিজ্ঞেস করবেন না; বরং জিজ্ঞেস করুন আপনি দেশের জন্য কী করতে পারেন।"
এজন্য শেখ হাসিনার বিশাল কর্মযজ্ঞ তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি কর্মের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। এজন্য আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মদ শেখ হাসিনাকে " বিরল ডায়ানামিক লীডার " ও শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রশংসা করতেও লজ্জিত হয় শুধু আহম্মকরা। ষড়যন্ত্রকারীদের ঐক্য বেশিদিন থাকে না। মাহাথির মোহাম্মদ এই জুলাই ঐক্য নিয়েও প্রশ্ন করেছিলেন। জুলাই ষড়যন্ত্রকারীরা আজ নিজেরাও বুঝতে শিখেছে, শেখ হাসিনাকে হটিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছে। তাই বাংলাদেশের মানুষ ইতিমধ্যে বলতে শুরু করে দিয়েছে -
" শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট নয় , শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের আর্টিস্ট। দেশপ্রেমের রং তুলির আঁচড়ে তিনি সমগ্র বাংলাদেশকে স্বপ্নের মতো করে সাজিয়ে দিয়ে গেছেন। আগামী একশো বছর পরও শেখ হাসিনার এসব উন্নয়ন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতেই হবে। শেখ হাসিনার ক্রেডিট চুরি করে কেউ শেখ হাসিনা হতে পারবে না , সম্ভব নয়।"
সত্য সবসময় সুন্দর
লুসিড ড্রিম
২৯-০৪-২০২৬