01/01/2022
প্রতি দিনের কথা ও কাজ সাজিয়ে তুলুন দশটি সহজ জিকির দ্বারা!
🔹১-বিসমিল্লাহ:
বিসমিল্লাহ শব্দের অর্থ, আল্লাহর নামে শুরু করছি। কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলার অভ্যাস করুন।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যদি আল্লাহকে স্মরণ না করে শুরু করা হয়, তাহলে তা লেজ কাটা (বরকতহীন) হয়ে যায়।’
——(মুসনাদে আহমদ ১৪/৩২৯)
🔹২-সুবহানাল্লাহ্:
সুবহানাল্লাহ শব্দের অর্থ আল্লাহ্ পবিত্র ও সুমহান। আশ্চর্যজনক ভালো কোনো কাজ হতে দেখলে কিংবা বিস্ময়কর ভালো কোনো কথা শুনলে এটি বলার অভ্যাস করুন।যেমন, সুবহানাল্লাহ! আগুনে পুরো ঘর পুরে গেলেও কুরআন শরীফ অক্ষত আছে!
🔹৩-আল হামদুলিল্লাহ:
আল হামদুলিল্লাহ্ শব্দের অর্থ, সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। যে কোন সুখবর বা ভালো অবস্থা সম্পর্কিত সংবাদের বিপরীতে সাধারণত এটি বলার অভ্যাস করুন। । যেমন, ভাই আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলুন, আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম (মর্যাদাপূর্ণ) বাক্য হলো চারটি–
(১) সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ اللّٰهِ),
(২) আল হামদুলিল্লাহ (الْحَمْدُ لِلّٰهِ),
(৩) লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ (لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ),
(৪) আল্লাহু আকবার (اللّٰهُ أَكْبَرُ)।’
——(মিশকাত ২২৯৪)
🔹৪-মাশা আল্লাহ্:
মাশা আল্লাহ্ শব্দের অর্থ, আল্লাহ্ যেমন চেয়েছেন। এটি আলহামদুলিল্লাহ্ ও সুবহানাল্লাহ্ শব্দের মতোই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে কোনো সুন্দর এবং ভালো ব্যাপারে এটি বলুন। যেমন, মাশা আল্লাহ তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো বিস্ময়কর বস্তু দেখার পর মাশা আল্লাহ্ লা-ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলবে, তবে তাকে কুদৃষ্টি স্পর্শ করবে না।’
——(মাজমাউজ জাওয়াইদ ৫/২১)
🔹৫-নাউযুবিল্লাহ:
নাউযুবিল্লাহ শব্দের অর্থ, আমরা মহান আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। যে কোনো মন্দ ও গুনাহের কাজ দেখলে তার থেকে নিজেকে আত্মরক্ষার্থে এটি বলুন।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা ভয়াবহ বিপদ, হতভাগ্যের অতল গহবর, মন্দ তাকদীর এবং শত্রুর আনন্দ প্রকাশ থেকে আল্লাহ তা’আলার কাছে আশ্রয় প্রর্থনা কর।’
——(সহীহ বুখারী-৬১৬৩)
🔹৬-ইনশা আল্লাহ্:
ইনশা আল্লাহ্ শব্দের অর্থ, যদি আল্লাহ্ চান। কোনো ভালো কাজ ভবিষ্যতে করতে চাইলে এটি বলুন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,‘আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব; ‘যদি আল্লাহ্ চান‘ বলা ব্যতিরেকে।
——(সূরা কাহফ ২৩)
🔹৭-আসতাগফিরুল্লাহ্:
আসতাগফিরুল্লাহ্ শব্দের অর্থ আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। অনাকাঙ্খিত কোন অন্যায় বা গুনাহ হয়ে গেলে আমরা এটি বলবো।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই ও তাওবাহ্ করি।’
——(সহীহ বুখারী -৬৩০৭)
🔹৮-জাযাকাল্লাহু খায়রা:
এর অর্থ, আল্লাহ্ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। কেউ আপনার কোন উপকার করলে তাকে থ্যাংক ইউ না বলে বলুন, জাযাকাল্লাহু খায়রা ।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির জন্য কোন উপকার করা হল এবং সে উপকারকারীকে ‘জাযাকাল্লাহু খায়রা’ বলে দো‘আ দিল, সে নিঃসন্দেহে (উপকারীর) পূর্ণাঙ্গরূপে প্রশংসা করল।’
——(তিরমিযী ২০৩৫)
🔹৯-ইন্নালিল্লাহ বা ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জিউন:
অর্থ, নিশ্চয়ই আমরা মহান আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার দিকেই ফিরে যাবো। যে কোনো দু:সংবাদ বা বিপদের সময় আমরা এটি বলবো।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ‘কোন মুসলিম নর-নারী কোন বিপদাপদে পড়ার যত দীর্ঘ সময় পর মনে জেগে ওঠে আর সে নতুনভাবে ‘‘ইন্নালিল্লাহ বা ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জিউন’’ পড়ে তাহলে আল্লাহ তাকে নতুনভাবে সে সাওয়াবই দিবেন যে সাওয়াব সে বিপদে পতিত হওয়ার প্রথম দিনই পেয়েছে।’
——(মুসনাদ আহমাদ ১৭৩৪)
🔹১০-লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ:
অর্থ, মহান আল্লাহর সাহায্য ও সহায়তা ছাড়া আর কোন আশ্রয় ও সাহায্য নেই। শয়তানের কোন ওয়াসওয়াসা বা দূরভিসন্ধিমূলক কোন প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য বেশিহারে আমাদের এটি পড়া উচিত।
রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, ’তুমি “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” বেশি বেশি বল। কেননা তা জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত।
মাকহুল রহ. বলেন, যে লোক “লা হাওলা ওয়াল কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ওয়ালা মানজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি” পাঠ করে, আল্লাহ তা’আলা তার হতে সত্তর প্রকারের অনিষ্ট অপসারণ করেন এবং এগুলোর মাঝে সাধারণ বা ক্ষুদ্র বিপদ হল দরিদ্রতা।
——(তিরমিজি-৩৬০১)
আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুন আমীন!