খাদ্য সংস্কৃতি
রান্না একটা শিল্প , এই শিল্পটি কালের বিবর্তনে রান্না ঘরের সীমানা এড়িয়ে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে | রান্না প্রিয়জনের শিল্প ভাবনা ও আতিথিয়তার সংস্কৃতি মাড়িয়ে পুঁজিবাদ সংস্কৃতি কে দিনে দিনে আরো মজবুদ করছে | তাই কালের বিবর্তনের সুষ্ঠ খাদ্য রীতি , সুষম খাদ্যভাস , দেশীয় খাদ্য বৈচিত্র্য ভুলে গিয়ে ভেজালযুক্ত খাদ্য বিলাসিতার উপর মানুষের গুরুত্ব লক্ষ্য বেশি করা যাচ্ছে | এতে করে
মানুষ হারাচ্ছে পুষ্টি বুদ্ধি , যার কারণে শরীরে অতি পুষ্টি এবং অনাপুষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে , জীবন কে সহজ করার জন্য তৈরীকৃত বাণিজ্যিক খাবার খেয়ে শরীরে অভ্যন্তরীণ নানা রকম দীর্ঘ মেয়াদি রোগে ভুগছে মানুষ | এছাড়া প্রাকৃতিক ও মানুষের তৈরি সম্পদের উপাদান রান্না কাজে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার যেমন :পানি, বিদ্যুৎ , কাষ্ঠ জ্বালানি , বায়ো গ্যাস /গোবর গ্যাস , সাবান , সৌর বিদ্যুৎ এর মতো নানা উপাদানগুলোর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বেড়েছে | যার ফলশ্রুতিতে পানি দূষণ , বায়ু দূষণ বেড়েছে এবং প্রাণী ও মনুষের মধ্যে সংঘাত বেড়ে চলছে নিয়মিত | যা পৃথিবীর জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণগুলো আরো ঘনীভূত হচ্ছে এবং তা পৃথিবীর উষ্ণায়ন বাড়াচ্ছে | রান্নার কাজ ঘিরে নীতিবাচক চেতনা নারী, কন্যা শিশু ও হিজড়াদের উপর মানসিক চাপসহ ,পারিবারিক নির্যাতন বহু বৃদ্ধি পাচ্ছে যা নিতান্তই জেন্ডার উন্নয়নে ও সুবিচারে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে | খাদ্য বিলাসিতার সংস্কৃতি ও খাদ্য সুষম বন্টনের অভাবে উদপাদিত প্রচুর খাদ্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে , এতে করে ধনীদের মধ্যে রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে ,অন্য দিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠী অনাহারে ও অর্ধাহারে রাত কাটাচ্ছে | পচনশীল শস্য ও খাদ্য সংরক্ষণের অভাবে প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতি হচ্ছে ,বহুজাতিক কোম্পানি খাদ্যে রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার করে সুসাস্থ গঠনের বাধা দিচ্ছে এবং অর্গানিক খাদ্য প্রসারে বিরূপ ভূমিকা রাখছে | খাদ্য নিয়ে এই নানা আলোচ্য ও মূল্যবান বিষয়গুলো জন সম্মুখে তুলে ধরার জন্যই " খাদ্য সংস্কৃতি" বা "ফুড কালচার" এর প্রচেষ্টা |