13/09/2026
৩ দিন আগে একটা মার্চেন্টের সাথে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। কারণটা আসলে খুব ছোট একটা বিষয়—সময়।
টানা ৬ দিন ধরে দেখছিলাম, রাইডার গিয়ে ৩০–৪০ মিনিট করে দাঁড়িয়ে থাকছে। এক্সকিউজ দিতো কখনো গ্যাস নেই, কখনো পানি নেই, কখনো আবার অন্য কোনো সমস্যা। এখন দেশে গ্যাস-পানির সমস্যা হচ্ছে, তাই অনেক কিছুই না চাইতেও মেনে নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু ৩ দিন আগে একটা ঘটনা হওয়ার পর মনে হলো, এভাবে আর ওনার সাথে কাজ করা সম্ভব না।
উনি পিকআপ টাইম দিয়েছিলেন বিকেল ৫টা। পরে দুপুর ১টার দিকে মেসেজ দিয়ে বললেন, কাস্টমারের নাকি সাড়ে ৩টার মধ্যে খাবার লাগবে।
আমি বললাম, ঠিক আছে, করে দেওয়া যাবে।
রাইডারও ঠিক সময়মতো ৩:২০-এ গিয়ে বাসার নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু খাবার দেওয়া হলো প্রায় ৪:৩০টায়।
মানে কাস্টমারের খাবার সাড়ে ৩টার মধ্যে লাগবে, আর রাইডার খাবার পেল ৪:৩০টায়।
আমি শুধু জিজ্ঞেস করলাম, এত দেরি হওয়ার কারণ কী? উনি বললেন, খাবার প্যাক করতে সময় লেগেছে।
আমি আর কিছু বলিনি। রাতে টাকার হিসাব শেষ করে শুধু বললাম— “আপু, কাল থেকে আপনার সাথে কাজ করা সম্ভব হবে না। আপনার জন্য রাইডারকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর এর প্রভাব আমাদের অন্য অর্ডারগুলোর উপরও পড়ছে।” উনি বললেন, “ঠিক আছে, কাজ না করলে নাই। যেহেতু আপনাদের সমস্যা হচ্ছে।”আমিও ধন্যবাদ দিয়ে কথা শেষ করে দিয়েছি।
আসলে আমরা হোমমেড খাবার আর কেকের ডেলিভারি করি। আমরা খুব ভালো করেই জানি, বাসায় খাবার বানাতে কত ঝামেলা হয়। তার উপর এখন গ্যাস, পানি, কারেন্ট—সবকিছুরই সমস্যা আছে। তাই খাবার ১০–২০ মিনিট লেট হলে সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু সমস্যা লেট হওয়া না, সমস্যা হলো লেট হবে সেটা না জানানো।
আপনি যদি ১ ঘণ্টা আগে বলেন, “ভাইয়া, একটু দেরি হবে, খাবার রেডি করতে সময় লাগছে।”
তাহলে আমাদের জন্য অনেক কিছুই ম্যানেজ করা সম্ভব। কারণ একজন রাইডার যখন ৩০–৪০ মিনিট এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, তখন শুধু ওই একটা অর্ডারই আটকে থাকে না—তার পরের ২–৩টা অর্ডারও পিছিয়ে যায়। আর একটা খাবার দেরিতে গেলে কাস্টমার কিন্তু মার্চেন্সকে দোষারোপ করে না, রাইডারকেই দোষারোপ করে।
তাই আমরা সবসময় একটা জিনিসই চাই— সময়মতো দিতে না পারলে অন্তত একটু আগে জানিয়ে দিন। তাহলে সমস্যা অনেক কমে যায়। আমরাও ম্যানেজ করতে পারি, রাইডারও অযথা দাঁড়িয়ে থাকে না, আর আপনার কাস্টমারের খাবারটাও যতটা সম্ভব সময়মতো পৌঁছে দেওয়া যায়।