25/06/2026
গল্পের নাম: বুদ্ধিমান জামাই ও মাছ চোর
এক গ্রামে এক নতুন জামাই বেড়াতে এসেছে। শ্বশুর মশাই আদর করে জামাইয়ের জন্য বড় একটা রুই মাছ ভাজলেন। জামাই মাছটি দেখে জিভ দিয়ে জল ফেললেও ভাবলো, "একা খেলে শ্বশুরবাড়ির লোক কী ভাববে!" তাই সে বুদ্ধি করে বলল, "বাবা, মাছের তো অনেক কাটা, আমার গলায় বিধে যেতে পারে। বরং মাছটি আপনিই খান।"শ্বশুর মশাই তো মহাখুশি, তিনি মাছের পেটি থেকে খাওয়া শুরু করবেন, এমন সময় হঠাৎ বাড়ির কাজের লোক দৌঁড়ে এসে চিৎকার করে বলল, "বাবা! আপনার গরুটি মাঠে অন্য গরুর সাথে গুঁতাগুঁতি করে মরে যাচ্ছে!"শ্বশুর মশাই "হায় হায়" বলে গরু বাঁচাতে দৌঁড় দিলেন। সেই সুযোগে জামাই ভাবল, "গরু তো মরছে, এদিকে মাছ ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। একাই খেয়ে ফেলি!"জামাই যেই মাছের প্লেটটা টেনে নিয়েছে, ঠিক অমনি ঘরের পোষা বেড়ালটা টেবিলের উপর লাফ দিয়ে এসে মাছের বড় একটা টুকরো মুখে নিয়ে চম্পট দিল! জামাই বেড়ালটার পিছু পিছু তেড়ে গেল, কিন্তু বেড়াল তো বেড়াল, সে চোখের পলকে ছাদের কার্নিশে উঠে গেল।উপায় না দেখে জামাই নিরাশ হয়ে ফিরে এসে দেখল, আরেক বিড়াল বাকি মাছটুকু নিয়ে দৌঁড় দিয়েছে।এদিকে গরু ঠিকঠাক আছে দেখে শ্বশুর মশাইও হন্তদন্ত হয়ে ফিরে এলেন। এসে দেখেন প্লেট একদম খালি!শ্বশুর মশাই অবাক হয়ে বললেন, "কী হে জামাইবাবু, মাছ গেল কোথায়?"জামাই তখন দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে গম্ভীর গলায় বলল, "আর বলবেন না বাবা! আপনার ওই গরুর খবর শুনে বেড়াল দুটো এতই ভয় পেয়েছিল যে, ভয়ে একটা আস্ত মাছ মুখে নিয়েই উড়াল দিয়েছে। যাক, ভালোই হলো, গলায় তো আর কাঁটা বিঁধল না!"